হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(২৯)
হাজার জীবন অপেক্ষা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বাধিক প্রিয়
৫ম হিজরীতে সম্মানিত খন্দকের জিহাদ সংঘটিত হন। শত্রুদের মুকাবিলা করার জন্য হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পরামর্শের ভিত্তিতে খন্দক খনন করার সিদ্ধান্ত হয়। খন্দক খনন কাজে উৎসাহ দানের জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং খন্দক খনন কাজে অংশগ্রহণ মুবারক করেন। সর্ব প্রথম তিনিই স্ব-মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক-এ (স্বহস্ত মুবারক-এ) মাটিতে কোদাল দিয়ে আঘাত করেন।
তখন ছিলো শীতের মৌসুম। ঠা-া বাতাস বইছিলো। দিনের বেলায় মৃদু বাতাস বইছিলো। কিন্তু রাতে ছিলো প্রচ- ঠা-া।
এ সম্মানিত জিহাদ উনার মধ্যে সাল’ পর্বতের এক উপত্যকায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য একটি তাঁবু নির্মাণ করা হয়। তিনি সেখানে অবস্থান মুবারক করতেন এবং সম্মানিত জিহাদ উনার নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ একজন চতুর মালঊন কাফির ঘোরসাওয়ারের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে তার চোখ এমনভাবে আহত করেন যে, তা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তাবাসসুমী শান মুবারক প্রকাশ করেন (হাসি মুবারক প্রকাশ করেন)।
হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার প্রতিটি কাজে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্ট মুবারক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সীমাহীন আশিকে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এক রাতে প্রচ- ঠা-ায় সাল’ পর্বতের উপত্যকায় নির্মিত তাঁবুতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র চাদর মুবারক আবৃত করে অবস্থান মুবারক করছেন (শুয়ে আছেন)। হঠাৎ তাঁবুর মধ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনতে পেলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (তিনি তো সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই জানেন, কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে, উম্মতকে তা’লীম দেয়ার জন্য) জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন: কে?
হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উত্তর দিলেন- আমি হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (তিনি তো সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই জানেন, কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে, উম্মতকে তা’লীম দেয়ার জন্য) জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন: কী জন্য এসেছেন?
হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উত্তর দিলেন- হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাজার জীবন অপেক্ষা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন উনার সর্বাদিক প্রিয় ও মাহবূব। এ অন্ধকার ও শীতের রাতে আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ওজুদ মুবারক উনার ব্যাপারে আমার আশঙ্কা হলো যে, কোনো শত্রু সুযোগ মনে করে আপনার উপর আক্রমণ করতে পারে। তাই পাহারার গোলামীতে আনজাম দেয়ার জন্য হাজির হয়েছি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- হে হযরত সা'দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র চোখ মুবারক খোলা ছিলো। আমি আশা করছিলাম আজ কোনো নেককার বান্দা আমার এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র গোলামী মুবারক-এ আনজাম দিক। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সদা-সর্বদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে উনার গোলামীতে উনাদের স্বীয় জানকে কুরবান করার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত উম্মে আতিয়্যাহ আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












