হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ১৬ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২২ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(২৩)
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে জীবন কুরবানকারী কেউ আছে কী?’
পবিত্র উহুদ জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের গুজব ছড়ানোর কিছু সময় পর কাফির শত্রুরা যখন স্বচক্ষে দেখতে পেলো যে তিনি মহাসম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেননি বরং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল ইস্তাওয়া শান মুবারক (মহাসম্মানিত সুস্থতা শান মুবারক)-এ দাঁড়িয়ে অবস্থান মুবারক করছেন। তখন কাফিরদের বিরাট একটি দল উনাকে শহীদ করার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে উনার দিকে অগ্রসর হলো। নাউযুবিল্লাহ! শত শত তীর বর্শা নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো। অজস্র তরবারির আঘাত পড়তে লাগলো।
অন্যান্য কাফির শত্রুরা সংবাদ পেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ছুটে আসতে লাগলো এবং ক্রমান্বয়ে কাফিরদের সংখ্যা ও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে লাগলো।
এক এক বার শত্রুরা কালো মেঘের ন্যায় চতুর্দিক আচ্ছন্ন করে উনার দিকে অগ্রসর হয়ে উনার সাথে বেয়াদবী করার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্ত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার যুলফিকারের চতুর্মুখি প্রসারিত তীব্র ও ঘন বিদ্যুৎতের প্রচ- আঘাতে সব ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হতে লাগলো। কিন্তু মালঊন কাফেররা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বচক্ষে দেখে ঘোষণা দিলো, এটাই সুযোগ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার। নাউযুবিল্লাহ! মালঊন কাফিররা আরো ঘোষণা করতে লাগলো যে, আজকে যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা না যায়, তাহলে আর কখনো এমন সুযোগ আসবে না। নাউযুবিল্লাহ! তাই কাফেররা দ্বিগুণ উৎসাহে বারবার আক্রমণ করতে লাগলো।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বীর বিক্রমে এই আক্রমণ প্রতিরোধ করতে লাগলেন এবং পাল্টা আক্রমণ করতে লাগলেন। এবার চতুর্দিক থেকে ক্রমাগত উনার উপর তরবারি ও তীর বর্শার বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোষণা মুবারক দিলেন এ সময় জীবন কুরবান করতে পারে এমন কেউ আছে কী?
হযরত যিয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন- আমি আছি, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ বলে তিনি তরবারি নিয়ে মালঊন কাফেরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। উনার সাথে আরো পাঁচজন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বললেন- আমরাও আছি, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বীর বিক্রমে কাফেরদেরকে আক্রমণ করলেন। উনাদের প্রত্যেকেই জীবনের শেষ পর্যন্ত তরবারি চালাতে থাকেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য নিজেদের জান কুরবান করে পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!
আশিকে রসূল হযরত যিয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দেহ মুবারক জমিনে শায়িত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাকে তুলে এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকদ্বয় (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কদম যুগল মুবারক) উনাদের নিকট পৌঁছালেন। তখনো তিনি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক লাভ করেননি। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকদ্বয় (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কদম যুগল মুবারক) উনাদের উপর উনার মুখ মুবারক রেখে পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
খুব চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কত বেমেছালভাবে সীমাহীন মুহব্বত মুবারক করেছেন। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডাক মুবারকে, উনার মুহব্বত মুবারকে, উনার সন্তুষ্টি মুবারকের লক্ষ্যে নিজেদের জীবনকে কুরবান করে দিতে এক মূহুর্তের জন্যও কুণ্ঠাবোধ করেননি, এক মূহুর্তের জন্যও উনারা চিন্তা করেননি। সুবহানাল্লাহ! উনারা চিন্তুা করেন নি যে, আমি যদি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক বরণ করি তাহলে আমার পিতা-মাতার কি হবে, আমার আহলিয়া-সন্তানদের কি হবে। সুবহানাল্লাহ! এমনই ছিলো উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক ছিলেন সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে উনারা উনাদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানসহ সকলকিছুকেই এমনকি নিজের জীবনকেও কুরবান করার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সুমহান মুহব্বত মুবারক উনার নিকট অন্য সমস্ত কিছুই ছিলো অতি তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ। সুবহানাল্লাহ! এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهٰ فَقَدْ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তোমরা (পরবর্তী উম্মতরা) সম্মানিত ঈমান মুবারক গ্রহণ করতে পারো তাহলে তোমরা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-মুহম্মদ আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাফলতি বা অসাবধানতা ও তার প্রতিকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৮)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্য
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (১)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাকদাতা ও তালাকপ্রার্থিনী উভয়ের জন্য রয়েছে অসন্তুষ্টি (৪)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












