হযরত ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ওসিয়ত মুবারক
, ২৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৫ খ্বমীছ ১৩৯১ শামসী সন , ১৪ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রি:, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সঙ্গতকারণে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ উপদেশকে ওসিয়তরূপে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরিচয় নিস্প্রয়োজন। আর উনার আদেশ উপদেশসমূহ কত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত ছাত্র হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার মধ্যে খোদাপ্রদত্ত হিদায়াত, সরল পথের দিশা এবং চারিত্রিক মাধুর্যতা ও ইলমের প্রতি গভীর মনোযোগী তাক্বওয়া পরহেযগারীতা দেখে অত্যন্ত খুশী হন। সাথে সাথে উনাকে বিশেষ কিছু ওসিয়ত মুবারক করেন।
ওসিয়ত (১): হে ইয়াকূব! (ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রকৃত নাম) সুলতানকে যোগ্য সম্মান করবেন। উনার বিশেষ মর্যাদার প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখবেন। আর কখনো উনার সামনে মিথ্যা প্রশংসা করবেন না।
ওসিয়ত (২): যখন-তখন সুলতানের কাছে যাবেন না। একান্ত কোন ইলমী প্রয়োজন হলে তখনই যাবেন। কারণ যখন আপনি তার কাছে বেশি বেশি আসা-যাওয়া করবেন তখন জনসাধারণ আপনাকে অপদস্থ-নিচু মনে করবে। আর শাসকের দৃষ্টিতেও আপনি নিচু হয়ে পড়বেন। (ফলে আপনার মান-মর্যাদা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।) অতএব তার সংশ্রবকে অগ্নি তুল্য মনে করবেন। যেমন আপনি আগুন দ্বারা প্রয়োজনাদী পূর্ণ করার সাথে সাথে তার থেকে দূরে থাকেন এবং তার কাছে যান না। (এমনিভাবে সরকার প্রধানের নৈকট্যতার দরুন বিপদের আশঙ্কা রয়েছে) আর তার কারণ হচ্ছে, বাদশাহ বা শাসকরা সাধারণতঃ নিজের সম্পর্কে যে মান-মর্যাদা কামনা করেন তা অন্যের জন্য হওয়াটা পছন্দ করেন না। (কখনো কখনো আসা-যাওয়ার ফলে অনিষ্টতা পৌঁছে না ঠিকই কিন্তু যদি বাদশাহর মর্যাদা বিরোধী কোন কথা বা কাজ আপনার থেকে প্রকাশ পায় তখন উনার পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।)
ওসিয়ত (৩): সুলতানের সামনে বেশি কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ সে আপনার কথা যাচাই করার চেষ্টা করবে যাতে সে তার সভাসদদেরকে বলতে পারে যে, আমি তার থেকে অধিক জ্ঞানী। আপনার কথায় ভুল-ত্রুটি ধরবে আর এভাবেই আপনি তার দরবারে অপমানিত হবেন। আর তাতে ইলমের ইহানত হবে।
ওসিয়ত (৪): যখন আপনি বাদশাহ বা সুলতানের কাছে যাবেন তখন নিজ মর্যাদা ও সম্মানের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং সেই সাথে অন্যের মর্যাদার প্রতিও লক্ষ্য রাখবেন।
ওসিয়ত (৫): বাদশাহর কাছে এমন সময় যাবেন না যখন আহলে ইলম তার কাছে উপস্থিত থাকে, যার সম্পর্কে আপনি অবগত নন। কারণ, যদি আপনি তার থেকে ইলমের পরিপক্কতায় কম হয়ে থাকেন আর তার সম্পর্কে পূর্ণ অবগত না হয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যান, তবে হয়তো সে আপনার ক্ষতি করতে পারে। অথবা যদি আপনি তার থেকে বেশি জ্ঞানী হন আর জানা না থাকায় হয়তো আপনি তার সামনে সংকোচ ভাব দেখাবেন তখন আপনার অবস্থান বাদশাহর দৃষ্টিতে হীন হয়ে পড়বে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












