সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
, ০৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৬ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যে বা যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, অবমাননাকর আচরণ করবে তাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক এবং উনার সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পক্ষ হতে লা’নত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তাফসীরকারক হযরত আল্লামা আলূসী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুপ্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে রূহুল মা’আনীতে’ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন-
وفى الحديث ستة لعنهم الله وكل نبى مجاب الدعوة المحرف لكتاب الله المكذب لقدر الله المتسلط بالجروت ليعز من اذل الله ويذل من اعز الله والمستحل من عترتى والتارك لسنتى.
অর্থ: পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ছয় ব্যক্তির বর্ণনা এসেছে যাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক এবং সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দোয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মকবুল উনারা লা’নত করেছেন। এক. মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব পরিবর্তনকারীর প্রতি। দুই. মহান আল্লাহ পাক উনার তাকদীরে অবিশ্বাসীর প্রতি। তিন. বল প্রয়োগে ক্ষমতা দখলকারীর প্রতি। চার. ওই ব্যক্তির প্রতি মহান আল্লাহ পাক যাকে অপদস্ত করেন সে তাকে সম্মান দান করে, আর আল্লাহ পাক যাকে সম্মান দিয়েছেন তাকে সে অপদস্ত করে। পাঁচ. আমার বংশধর উনাদের অবমাননাকারীর প্রতি। ছয়. আমার সুন্নত তরককারীর প্রতি।
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে ইয়াযীদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ হতে লা’নত। কারণ সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বংশধারা মুবারক অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে অবমাননা করার কোশেশ করেছে। আর সে গুমরাহ হওয়ার পর বল প্রয়োগে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিলো অথচ মুসলমানগণ তাকে চাচ্ছিলো না। তার যামানায় পবিত্র মদীনা শরীফ লুণ্ঠনকারী হুসাইন বিন নুমাইর, ঘাতক উবায়দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, শিমার ইবনে জুল জাউশান, উমর ইবনু সা’য়াদের ন্যায় যালিমরা সম্মান পায়। আর হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সম্মান করা হয়নি।
গুমরাহ হওয়ার পর ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সে সুন্নতের পাবন্দী ছেড়ে দিয়ে সর্বপ্রকার হারাম যেমন- শরাব পান, নাচ-গান, বাঁদর খেলা, কবুতরবাজি ইত্যাদি কুকর্মে লিপ্ত হয়েছিলো। তা ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রমাণিত। কাজেই পবিত্র সুন্নত অবজ্ঞা এবং তরককারীরূপেও ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি তথা লা’নতের উপযুক্ত পাত্র।
হযরত আল্লামা হাইছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘সাওয়ায়িক’ গ্রন্থে এবং হযরত আল্লামা বারজাঞ্জী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘ইশাআ’ গ্রন্থে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বওল মুবারক-এ অভিমত বর্ণনা করেছেন। হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইয়াযীদের প্রতি লা’নত করাকে বৈধ বলে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াতে কারীমা দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে-
انا الامام احمد سأله ولد عبد الله عن لعن يزيد قال كيف لا يلعن من لعنه الله تعالى فى كتابه؟ فقال عبد الله قد قرأت كتاب الله عز وجل فلم اجد فيه لعن يزيد فقال الامام ان الله تعالى يقول فهل عسيتم ان توليتم ان تفسدو فى الارض وتقطعوا ارحامكم اولئك الذين لعنهم الله. واى فساد وقطيعة اشد مما فعله يزيد؟
অর্থ: “হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতাকে ইয়াযীদের প্রতি লা’নত করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। তিনি ছেলেকে বলেন, মহান আল্লাহ পাক যাকে উনার কিতাব (পবিত্র কুরআন শরীফ) উনার মধ্যে লা’নত করেছেন তাকে লা’নত করা হবে না কেন? হযরত আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব (পবিত্র কুরআন শরীফ) পাঠ করেছি। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইয়াযীদের প্রতি লা’নতের সন্ধান পাইনি। হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ছেলেকে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ‘হতে পারে তোমরা ফিরে যাবে আর পৃথিবীতে উপদ্রব সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের রেহমি বা জঠর সম্পর্ক ছিন্ন করবে। এরূপ লোকদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি লা’নত করেন।’ কাজেই, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি যা করেছে তার চেয়ে অধিক উপদ্রব ও রেহমি সম্পর্ক ছিন্ন করা আর কি হতে পারে?” (তাফসীরে রূহুল মাআনী, ২৫ খ-, ৭২ পৃষ্ঠা)
হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র সূরা মুহম্মদ শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত ২২ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণ করেন যে, ইয়াযীদের প্রতি লা’নত করা বৈধ। কারণ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি পৃথিবীতে উপদ্রব করেছে। কাতয়ি রেহমী করেছে। আত্মীয়তার মর্যাদা রাখেনি। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে সে চরম দুর্ব্যবহার করেছে। রেহমি বা জঠর সম্পর্ক অপেক্ষা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ, অতি আপন। যা ইয়াযীদের দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কাজেই, তার প্রতি লা’নত করা বৈধ।
-আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (১)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












