জীবনী মুবারক
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
বিলাদত শরীফ: হিজরীপূর্ব ৪৩ সন। (শামসীপূর্ব ৫৫ সন) বিছাল শরীফ: ৩২ হিজরী। বয়স মুবারক: ৭৫ বছর।
, ২৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৭ হাদী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রি:, ২৪ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
একবার হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু লোকদের সঙ্গে নামায পড়ছিলেন যেখানে তিনি ইমাম ছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এসে নামায শুরু করলেন। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পিছনে সরে আসতে চাইলেন, কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে যথাস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর তিনি নামায শেষ করলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সঙ্গে নামায সমাপ্ত করলেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে কালো পাগড়ী মুবারক পরিয়ে দিলেন এবং অতঃপর বললেন, এভাবে পাগড়ী মুবারক পরিধান করবেন। (ইবনে সা’দ)
একবার হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কিছু বিষয় পেশ করলেন। এ বিষয়গুলো শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ডেকে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! একজন বদরী ছাহাবী উনাকে কষ্ট দিবেন না। যদি আপনি উহূদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ব্যয় করেন, তবুও একজন বদরী ছাহাবী উনার নেক আমলের সমপরিমাণ হবে না। হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, লোকেরা এ বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলো। আমি উনাদেরকে উত্তর দিচ্ছিলাম। ইত্যবসরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও কষ্ট দিবেন না। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার তরবারীসমূহের মধ্যে একটি তরবারী। মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদের উপর তা কোষমুক্ত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের মধ্যে একবার কোন বিষয়ে ইখতিলাফ হয়েছিল। ঘটনাক্রমে হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অসুস্থ হলেন এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে রোগ শয্যায় দেখতে আসলেন। হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনাকে বললেন, হে ভাই! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আপনি আমার থেকে উত্তম। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, এরূপ কথা বলবেন না, হে আমার ভাই! হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এ কথা সম্পূর্ণ সত্য। কারণ, যদি (আমার বদলে) আপনি অসুস্থ হতেন, আমি আপনাকে দেখতে যেতে হয়তবা পারতাম না। (কিন্তু আমি অসুস্থ হয়েছি বলে আপনি আমার সাথে ইখতিলাফ দেখা দেয়ার পরও সব ভুলে আমাকে দেখতে এসেছেন।) (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
নওফেল বিন ইয়াস আল-হুযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে আমাদের উঠা-বসা ছিল এবং তিনি সাথী হিসেবে অতি উত্তম সাথী ছিলেন। একবার উনার সঙ্গে আমরা উনার গৃহে প্রবেশ করলাম। তিনি গৃহে প্রবেশ করেই গোসল করলেন। গোসলখানা হতে বের হয়ে আমাদের সঙ্গে বসলেন অতঃপর একটি ডিসে করে রুটি ও গোশত আমাদের সম্মুখে রাখলেন। খানা আমাদের সম্মুখে রেখেই তিনি কেঁদে উঠলেন। আমরা উনাকে বললাম, হে আবু মুহম্মদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (উনার উপনাম)! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এ অবস্থায় যে, তিনি ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যবের রুটিও পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করেননি। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
একবার হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমরা দুঃখ কষ্ট দ্বারা পরিক্ষিত হয়েছি, এতে আমরা ছবর (ধৈর্য ধারণ) করেছি। আবার আমরা সুখ সম্পদ দ্বারা পরিক্ষিত হয়েছি, কিন্তু এতে আমরা ছবর করতে পারিনি। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
একবার এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কুরআন শরীফের একটি ক্বিরায়াত তিলাওয়াত (পাঠ) করেন। ক্বারী ছাহেবের কন্ঠস্বর ছিল সুমধুর অর্থাৎ তিনি সুমিষ্ট স্বরে ক্বিরায়াত পাঠ করলেন। ক্বিরায়াত শুনে মজলিসে উপস্থিত এমন কোন লোক ছিল না যাঁর চোখে পানি আসেনি। একমাত্র হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চোখে পানি দেখা গেল না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যদিও হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ উনার চোখ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়নি, তবে উনার অন্তর থেকে পানি প্রবাহিত হয়েছে। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
সূত্র: তবাকাত, ইবনে সা‘দ, সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, হিলইয়াতুল আওলিয়া, আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ। (সমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৩)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৭)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১২)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১৩)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১১)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {২}
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












