পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১২)
, ২১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আসলে কানে ওষুধ গেলে কখনো রোযা ভাঙ্গবে, আবার কখনো ভাঙ্গবে না। কানে পানি গেলে রোযা ভাঙ্গবে না, কিন্তু তেল গেলে রোযা ভাঙ্গবে এ ব্যাপারে ইজমা হয়ে গেছে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, পানিবাহিত ওষুধ কানে প্রয়োগ করালে রোযা ভাঙ্গবে না কিন্তু তেলবাহিত ওষুধ কানে প্রয়োগ করালে রোযা ভাঙ্গবে। পানিবাহিত ওষুধে রোযা না ভাঙ্গার মূল কারণ ওষুধে পানির উপস্থিতি এবং তেলবাহিত ওষুধে রোযা ভাঙ্গার কারণ ওষুধে তেলের উপস্থিতি। মূলতঃ সকলেই একমত যে, কানে তেল গেলে রোযা ভাঙ্গবে, পানি গেলে রোযা ভাঙ্গবে না। মগজ অথবা পেটে প্রবেশ করুক আর না করুক, এটার উপরই ফতওয়া। যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়-
اَوْ اَقْطَرَ فِىْ اُذْنِهٖ دُهْنًا اَفْطَرَ وَلَا كَفَّارَةٌ عَلَيْهِ هٰكَذَا فِى الْـهِدَايَةِ وَلَوْ دَخَلَ الدُّهْنُ بِغَيْرِ صُنْعِهٖ فَطَرَهٗ كَذَا فِى الْـمُحِيْطِ السَّرَخْسِىِّ وَلَوْ اَقْطَرَ فِىْ اُذْنِهِ الْـمَاءُ لَا يُفْسِدُ صَوْمَهٗ كَذَا فِى الْـهِدَايَةِ وَهُوَ الصَّحِيْحُ.
অর্থ: “অথবা যদি কানের ভিতর তেলের ফোটা ফেলা হয়, তবে তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, এতে কাফফারা ওয়াজিব হবে না। অনুরূপ হিদায়াতে উল্লেখ আছে। আর যদি তেল অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করে, তবেও তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এটা মুহীতে সারাখসীতে আছে। আর যদি কানের ভিতর পানির ফোটা ফেলে, তবে তার রোযা ভঙ্গ হবে না। এটা হিদায়াতে আছে এবং এটাই ছহীহ মত।” (ফতওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খ-, ২০৪ পৃষ্ঠা)
সুতরাং কানে ওষুধ প্রয়োগে রোযা ভাঙ্গা বা না ভাঙ্গার পেছনে এ উছূলকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাকস্থলী বা মগজে পৌঁছানোকে নয়। অনুরূপ কেউ যদি চোখে সুরমা ব্যবহার করে, তবে তার রোযা ভঙ্গ হবে না, এ ব্যাপারে ফতওয়া হয়ে গেছে, অথচ চোখ হতে গলা পর্যন্ত রাস্তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে-
لَوْ اِكْتَحَلَ لَـمْ يَفْطُرْ لِاَنَّهٗ لَيْسَ بَيْنَ الْعَيْنِ وَالدِّمَاغِ مَنْفَذٌ.
অর্থ: “যদি চোখে সুরমা দেয়, তবে রোযা ভঙ্গ হবে না, কেননা চোখ হতে মগজ পর্যন্ত রাস্তা নেই।” (হিদায়া ১ম খ-, ২১৭ পৃষ্ঠা)
মূলত সুরমা মগজে অথবা পাকস্থলীতে পৌঁছুক আর না পৌঁছুক কোন অবস্থাতেই সুরমা ব্যবহারে রোযা ভঙ্গ হবে না।
কারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করেছেন।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ اِكْتَحَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ صَائِمٌ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করেছেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুছ ছিয়াম: হাদীছ শরীফ নং ১৭৪৮)
অতএব, যে সকল বিষয় সরাসরি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অথবা ইজমা দ্বারা সাব্যস্ত হয়ে গেছে, ওই সকল ব্যাপারে কোন ক্বিয়াস বা উছূল গ্রহণযোগ্য নয়। মূলকথা হলো- কানে তেল গেলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, পানি গেলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ এ ব্যাপারে ইমামদের ইজমা হয়ে গেছে। অনুরূপ চোখে সুরমা দিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রোযা অবস্থায় চোখে সুরমা ব্যবহার করেছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের ফায়ছালা:
আমরা জেনেছি কি করে ইনজেকশন প্রয়োগে রোযা ভাঙ্গে। মলম লাগালেও রোযা ভাঙ্গতে পারে সে ব্যাপারে আমরা বিস্তৃত আলোচনা করেছি। এ দু’টো ক্ষেত্রেই রোযা ভাঙ্গার মূল কারণ হচ্ছে- প্রথমতঃ রক্তে ওষুধের শোষণ এবং দ্বিতীয়তঃ মস্তিষ্কে বা পাকস্থলীতে প্রবেশ করা।
মূলত “রক্ত প্রবাহ” বা
Blood circulation
যার মাধ্যমে মস্তিষ্কে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, O2 ইত্যাদি পৌঁছে থাকে। আবার মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে প্রস্তুত অতীব প্রয়োজনীয় বিভিন্ন হরমোন (পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে) এবং বিবিধ বর্জ্যদ্রব্য (CO2, ইত্যাদি) মস্তিষ্কের বাইরে শরীরের অন্যত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তাও রক্ত প্রবাহের মাধ্যমেই। একটু ভেঙ্গেই বলা যাক- মস্তিষ্কে প্রস্তুত CO2 ফুসফুসে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে আবার O2 নিয়ে রক্ত প্রবাহই ফিরে আসে মস্তিষ্কে। পিটুইটারী গ্রন্থিতে প্রায় ডজনখানেক হরমোন তৈরী হয় যেগুলো দূরবর্তী অন্যান্য অঙ্গসমূহে কাজ করে, যেমন- থাইরয়েড গ্রন্থি, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি, ডিম্বাশয়, গর্ভাশয়, শুক্রাশয়, স্তনগ্রন্থি, বৃক্ক ইত্যাদি। কোনটি কোনটি আবার সমস্ত শরীরেই কাজ করে, যেমন- growth hormone, melanocyte stimulating hormone ইত্যাদি। (সূত্র: Review of medical physiology, W. F. Ganong, 17th Ed (1995), P-365))
রক্ত প্রবাহ সম্বন্ধে উপরোক্ত আলোচনায় এটি ফুটে উঠেছে- রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে কোন ঔষধ মস্তিষ্কে প্রবেশের পরে আবার ফিরেও আসে এবং শরীরের অন্য সকল অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যত্র যেমন এও বলা হয়েছে, যেমন- (1) Thiopental rapidly diffuses out of the brain and other highly vascular tissues and is redistributed to muscle, fat and eventually all body tissue.
অর্থাৎ থায়োপেন্টাল দ্রুত মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অধিক রক্ত সরবরাহ লাভকারী অঙ্গ থেকে বেরিয়ে যায়, অতঃপর গোশতপেশী, চর্বি এবং পর্যায়ক্রমে সমস্ত শরীরে জমা হয়।[Basic and clinical pharmacology, Bertram G. Katzung, 6th Ed. (1995) P-390]
অর্থাৎ যা কিছু মস্তিষ্কে পৌঁছে তা অবশ্যই পরবর্তীতে পেটে অর্থাৎ পাকস্থলীতেও পৌঁছে মস্তিষ্ক থেকে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
একমাত্র মহান আল্লাহ পাক ব্যতিত অন্য কারও অনুসরণ করার বিষয়ে বাতিলপন্থীদের বিভ্রান্তির জাওয়াব
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইখলাছই হচ্ছে সমস্ত ইবাদতের মূল। ইখলাছবিহীন ইবাদত প্রাণহীন প্রাণীর ন্যায়। প্রত্যেকের জন্য ইখলাছ অর্জন করা ফরযে আইন
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












