পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১১)
, ২০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثٌ لَا يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ اَلْـحِجَامَةُ وَالْقَىْءُ وَالْاِحْتِلَامُ.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তিনটি জিনিস রোযা ভঙ্গ করে না- শিঙ্গা লাগানো (অর্থাৎ শিঙ্গা দ্বারা শরীর হতে যদি ইচ্ছাকৃতভাবেও রক্ত বের করে তবেও রোযা ভঙ্গ হবেনা এখন তা যেভাবেই বের করা হোক না কেন)। অনিচ্ছাকৃত বমি, স্বপ¦দোষ।” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুছ ছওম ‘আন্না রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: বাবু মাজায়া ফীছ ছায়িমি ইয়াদরা‘য়ুহুল ক্বইয়ু: হাদীছ শরীফ নং ৭১৯)
অনেকে সাপে কাটার সাথে ইনজেকশনকে তুলনা করে বলে থাকে- সাপে কাটলে যেমন বিষ ভিতরে প্রবেশ করা সত্ত্বে¡ও রোযা ভঙ্গ হয় না, তদ্রুপ ইনজেকশনেও রোযা ভাঙ্গবে না। মূলতঃ ইনজেকশনের দ্বারা যে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানো হয়, তার সাথে সাপের বিষকে কখনো মিলানো যাবে না।
কেননা এ বিষ প্রবেশের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। এ ব্যাপারে আরো বলা যেতে পারে, যেমন- রোযা রেখে আগরবাতী জ্বালালে, ধুমপান করলে, কোন গ্যাস নাক দিয়ে গ্রহণ করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়। কেননা এক্ষেত্রে সবগুলো কাজ ইচ্ছা শক্তির নিয়ন্ত্রণে। অথচ আমরা রাস্তায় চলা-ফেরার ও রান্না-বান্নার সময় যে ধোঁয়া গ্রহণ করি, তাতে রোযা ভঙ্গ হয়না। কেননা এটা আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে। অতএব, ইনজেকশনের সাথে সাপের বিষের সাথে কিয়াস করা সম্পূর্ণই ভুল। কারণ ইনজেকশন ইচ্ছাকৃতভাবেই দেওয়া হয়।
অনুরূপ যদি কেউ ভুলে পেট ভরেও খাদ্য খায়, তবে তার রোযা ভঙ্গ হবেনা। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ اَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهٗ فَاِنَّـمَا اَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি রোযা অবস্থায় খেল অথবা পান করলো, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে নেয়। কেননা আল্লাহ পাকই তাকে খাদ্য খাইয়েছেন ও পান করায়েছেন।” (বুখারী শরীফ: কিতাবুছ ছওম: বাবুছ ছয়িমি ইজা আকালা আও শারিবা নাসিয়ান: হাদীছ শরীফ নং ১৯৩৩; মুসলিম শরীফ: কিতাবুছ ছওম: বাবু আকলুন নাসী ওয়াশুরবুহু ওয়াযিমা‘য়ুহু লা ইউত্বিরু: হাদীছ শরীফ নং ১১৫৫; ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুছ ছওম: হাদীছ শরীফ নং ১৭৪৩)
আর অখাদ্য যেমন পাথর, কাঠের টুকরা ইত্যাদি ইচ্ছাকৃতভাবে খেলেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তদ্রুপ ওযূর পানি অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখের ভিতর চলে গেলেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এরূপ অবস্থায় রোযা ক্বাযা করতে হবে।
মূলকথা হলো- আমাদের নিকট মূল রাস্তা শর্ত নয় বরং শরীরের যেকোন স্থান দিয়েই ওষুধ ইত্যাদি প্রবেশ করুক না কেন, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, তা মগজে অথবা পেটে পৌঁছেছে, তবে তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অতএব ইনজেকশনের দ্বারা যে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানো হয়, তা যে মগজে পৌঁছে তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই। এটাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিমত। সুতরাং ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
কান ও নাকে ঔষধ দেয়ার বিধান:
ইমদাদুল ফতওয়ার অন্য একস্থানে বলা হয়েছে যে-
اور خلاصۃ الفتاوی کی عبارت اس مضموں کے لئے بالکل نص صریح ھے وھی هٰذَا وَمَا وَصَلَ اِلٰی جَوْفِ الرَّاْسِ وَ الْبَطْنِ مِنَ الْاُذْنِ وَالْاَنْفِ وَالدُّبُرِ فَهُوَ مُفْطِرٌ بِالْاِجمَاعِ وَفِیْهِ الْقَضَاءُ وَهِیَ مَسَائِلُ الْاَقْطَارِ فِی الْاُذْنِ وَالسُّعُوْطِ وَالْوُجُوْرِ وَالْـحُقْنَةِ
অর্থ: এবং খুলাছাতুল ফতওয়ার ভাষ্য এ বিষয়ে আরো সুস্পষ্ট। যা নিম্নরূপ- যে ওষুধ কান, নাক এবং পিছনের রাস্তা দিয়ে মস্তিষ্ক ও পেটে পৌঁছে, সেগুলো সর্বসম্মতিক্রমেই রোযা ভঙ্গের কারণ। আর উক্ত রোযার কাযা করতে হবে। এ মাসয়ালা কুতুর (অর্থাৎ কানের মধ্যে ওষুধ দেয়া) সুউত (অর্থাৎ নাকের ভিতর ওষুধ দেওয়া) উজুর (অর্থাৎ মুখের ভিতর ওষুধ দেওয়া) এবং হুকনা (অর্থাৎ পায়খানার রাস্তায় ওষুধ দেওয়া)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আলোকে খ-নমূলক জাওয়াব:
কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে নাকে ওষুধ দিলে তা পেটে প্রবেশ করতে পারে এবং পায়খানার রাস্তায় ওষুধ প্রবেশ করালে ওষুধের রক্তে শোষনের মাধ্যমে মস্তিষ্কে যেতে পারে কিন্তু কানের সঙ্গে পেটের এবং মস্তিষ্কের সরাসরি কোন সংযোগ নেই।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












