স্বীয় অবস্থানস্থলে, বাড়িতে, প্রয়োজনে রাস্তায় সম্মানিত কুরবানী করা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
, ২৯ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১০ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ০৯, মে, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
স্বীয় অবস্থানস্থলে, বাড়িতে, প্রয়োজনে রাস্তায় সম্মানিত কুরবানী করা খাছ সুন্নত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِكَبْشٍ اَقْرَنَ يَطَاُ فِىْ سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِىْ سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِىْ سَوَادٍ فَاُتِـىَ بِهٖ لِيُضَحِّىَ بِهٖ فَقَالَ لَـهَا يَا اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ هَلُمِّى الْمُدْيَةَ ثُـمَّ قَالَ اِشْحَذِيْهَا بِـحَجَرٍ فَفَعَلْتُ ثُـمَّ اَخَذَهَا وَاَخَذَ الْكَبْشَ فَاَضْجَعَهٗ ثُـمَّ ذَبَـحَهٗ ثُـمَّ قَالَ بِاسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاٰلِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمِنْ اُمَّةِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُـمَّ ضَحّٰى بِهٖ
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত রয়েছেন যে, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন একটি শিংওয়ালা দুম্বা আনার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আদেশ মুবারক করেন যা কালোতে হাঁটে, কালোতে শোয় ও কালোতে দেখে অর্থাৎ যার পা, পেট ও চোখ সবই কালো। অতঃপর সম্মানিত কুরবানী দেয়ার উদ্দেশ্যে উনার জন্য এরূপ একটি দুম্বা আনা হলো। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম! বড় ছুরিটি নিয়ে আসুন! অতঃপর বললেন, পাথরে তা ধার করুন। আমি তা ধার করলাম। অতঃপর তিনি ছুরিটি গ্রহণ করলেন এবং দুম্বাটিকে ধরে পার্শ্বদেশ করে শোয়ালেন। তারপর বিসমিল্লাহ বলে যবেহ মুবারক করলেন এবং বললেন, “আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের তরফ থেকে এবং উনার উম্মতগণ উনাদের তরফ থেকে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরবানী মুবারক ক্ববূল করুন। অতঃপর উক্ত দুম্বাটি দ্বারা সকালের খাবার খাওয়ালেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ سَعِيْدِ ۨ الْـخُدْرِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ قُوْمِىْ اِلٰى اُضْحِيَّتِكِ فَاشْهَدِيْهَا فَاِنَّ لَكِ بِاَوَّلِ قَطْرَةٍ تَقْطُرُ مِنْ دَمِهَا اَنْ يُّغْفَرَ لَكِ مَا سَلَفَ مِنْ ذُنُوْبِكِ فَقَالَتْ اَلنُّوْرُ الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هٰذَا لَنَا اَهْلَ الْبَيْتِ خَاصَّةً اَوْ لَنَا وَلِلْمُسْلِمِيْنَ عَامَّةً قَالَ لَا بَلْ لَنَا وَلِلْمُسْلِمِيْنَ عَامَّةً
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আপনি আপনার সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর কাছে অবস্থান করুন এবং সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেখুন। নিশ্চয়ই সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর প্রত্যেক ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে আপনার অর্থাৎ আপনার সম্মানার্থে উম্মতের বিগত জীবনের গুনাহ-খতা ক্ষমা করা হবে। তখন তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহা কি আমাদের জন্য অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য খাছ? নাকি আমাদের জন্য এবং সমস্ত মুসলমান উনাদের জন্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, না। বরং আমাদের জন্য এবং সমস্ত মুসলমান উনাদের জন্য। ” (মুস্তাদরাকে হাকিম ৪/২২২, মুসনাদে বাযযার ২/৫৯, কাশফুল আসতার ১/৪৫৭ ইত্যাদি)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আল আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












