সুন্নত মুবারক তা’লীম
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
, ১১ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّـهَ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের কাছে যা কিছু নিয়ে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন তা তোমরা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরো। আর যা কিছু থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে তোমরা বিরত থাকো। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭)
উক্ত পবিত্র ও সম্মানিত আয়াত শরীফ দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারকগুলো পালন করার জন্য নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক পালন করা সকলের জন্যই ফরয। অর্থাৎ উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফের মাধ্যমে সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করা ফরয প্রমাণিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
এখন সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সম্পর্কে ইলিম অর্জন করা ও আমলে বাস্তবায়ন করা। কেননা, এর মাধ্যম দিয়েই সর্বোচ্চ তাক্বওয়া-পরেহেজগারীতা, মক্ববূলিয়াত হাছিল করা সহজ ও সম্ভব।
আর সর্বপ্রকার সুন্নতী দ্রব্য-সামগ্রীসহ যাবতীয় সুন্নত মুবারক প্রচার-প্রসার করার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র।
প্রবাদে একটি কথা রয়েছে -
كُلُّ اِنَاءٍ يَتَرَشَّهُ بِمَا فِيْهِ
অর্থাৎ ‘পাত্রে আছে যাহা, ঢালিলে পড়িবে তাহা’ অর্থাৎ যদি কারো অন্তরে তাক্বওয়া থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে বাহ্যিকভাবে মুত্তাকী দেখা যাবে। ঠিক তেমনই যার অন্তরে পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের ইচ্ছা রয়েছে, অন্যকে পালনের ব্যাপারে প্রচার প্রসারের নিয়ত রয়েছে, সুন্নত মুবারক উনার মুহব্বত রয়েছে উনারাই পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করবেন এবং আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!
শতভাগ পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের মধ্যেই রয়েছে, শতভাগ পবিত্র রহমত মুবারক। রহমত ও নাযাত পেতে জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিজাতীয় অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করে পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। একজন বান্দা-বান্দীর কামিয়াবী নির্ভর করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরনের উপর। যে ব্যক্তি পবিত্র সুন্নত মুবারককে মুহব্বত করলো সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করলো। আর উনাকে যে মুহব্বত করলো সে উনার সাথে পবিত্র জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
তাই যে ব্যক্তি বিজাতীয় অনুসরণ অনুকরণ পরিত্যাগ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দেখানো আদর্শ অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত অনুযায়ী স্বীয় জীবনকে পরিচালিত করবে এবং মুহব্বত করবে, সে জান্নাত লাভ করবে। কাজেই পবিত্র সুন্নত মুবারক অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। আর পবিত্র সুন্নত মুবারক সম্পর্কে জানতে হলে, অবশ্যই আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ اِنْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ: إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِه، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُوْ لَه
অর্থ: “মানুষ যখন ইন্তেকাল করে তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, শুধুমাত্র তিনটি আমল জারি থাকে, আর তা হলো- ছদকায়ে জারিয়া, ইলম উনার সিলসিলা এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে”।
একজন মানুষ ইন্তেকাল করার পর তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, আর কোন আমল করার সুযোগ থাকেনা। কিন্তু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, এর পরেও তিনটি আমল জারি থাকে তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে “ছদকায়ে জারিয়া” আর তা হচ্ছে কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করা যার দ্বারা মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত উপকৃত হয়। বর্তমান সময়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ছদকায়ে জারিয়া হলো আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র।
তাই, সকলের জন্য আবশ্যক হলো-এই বরকতময় প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রসারে সহযোগিতা করা, সুন্নতী দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় করা, ব্যবহার করা ইত্যাদী এক কথায় সার্বিক খিদমতের মাধ্যমে শরীক থাকা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (৩)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (১)
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র তারাবীহ্ নামায আদায় করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব ও দু‘আসমূহ
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনে সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দৃষ্টান্ত
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












