সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩৫)
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ফানা-বাক্বার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মুবারক:
হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক:
হযরত মূসা ইবেন উক্ববাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মাগাযী’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন যে,
أَنَّ حَضْرَتْ خُبَيْبًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ زَيْدَ بْنَ الدَّثِنَةِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قُتِلَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُمِعَ يَوْمَ قُتِلَا وَهُوَ يَقُولُ وَعَلَيْكُمَا أَوْ عَلَيْكَ السَّلَامُ
অর্থ: “হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে এবং হযরত যায়দ ইবনে দাছিনাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে অর্থাৎ উনাদের দু’জনকে একই দিনে শহীদ করা হয়েছিলো। যেদিন উনারা শহীদ হয়েছিলেন নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক করেই উনাদের আরযু মুবারক শুনতে পাচ্ছিলেন। আর তিনি উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেছিলেন- ‘আপনাদের উভয়ের প্রতি সালাম অথবা (তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন- হে হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু!) আপনার প্রতি সালাম।” সুবহানাল্লাহ! (আস সীরাতুন নুবুবিয়্যাহ্ লি ইবনে কাছীর ৩/১৩০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/৭৬)
হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছেন,
قَالَتْ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ أَسِيرًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ حَضْرَتْ خُبَيْبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَاللَّهِ لَقَدْ وَجَدْتُهُ يَوْمًا يَأْكُلُ قِطْفًا مِنْ عِنَبٍ فِي يَدِهِ وَإِنَّهُ لَمُوثَقٌ بِالحَدِيدِ وَمَا بِمَكَّةَ مِنْ ثَمَرَةٍ وَكَانَتْ تَقُولُ إِنَّهُ لَرِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ حَضْرَتْ خُبَيْبًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
অর্থ: “রাবী বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে উত্তম কোনো বন্দী আমি কখনোই দেখিনি। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অবশ্যই আমি একদিন দেখেছি হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার হাত মুবারক-এ এক থোকা আঙ্গুর ফল নিয়ে খাচ্ছেন; অথচ তিনি লোহার শিকলে বাঁধা ছিলেন এবং সেই সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে কোনো ফলও ছিলো না। রাবী বলতেন- ‘নিশ্চয়ই ঐ আঙ্গুরগুলি মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে রিযিকস্বরূপ হাদিয়া মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, ইমাতউল আসমা’ ১৩/২৭২, উমদাতুল ক্বারী ২৫/২৫২, আল কাওয়াকিবুদ দুরারী ১৫/১৭৬, ইরশাদুস সারী ৬/২৫৯, ফাইযুল বারী ৫/১৮, আল কাওছারুল জারী ৭/১৩৯, মাছাবীহুল জামি’ ৭/৪১৬, আল লামিউছ ছবীহ্ ১১/৪৫, মিনহাতুল বারী ৭/২৩৩, আত্ তাওশীহ্ ৬/২৫০২, উয়ূনুল আছার ২/৫৯ ইত্যাদি)
মুশরিকরা যখন হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে শহীদ করার জন্য ‘তানঈম’ নামক স্থানে নিয়ে গেলো, তখন তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- ‘তোমরা যদি আমাকে দুই রাকাত সম্মানিত ছলাত আদায় করার সুযোগ দাও, তাহলে আমি দুই রাকাত সম্মানিত ছলাত আদায় করবো।’ তারা বললো- ‘ঠিক আছে; আপনি সম্মানিত ছলাত আদায় করে নিন।’ অতঃপর তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ও পূর্ণতার সাথে দুই রাকাত সম্মানিত ছলাত আদায় করলেন। তারপর শত্রুদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তোমরা যদি এই সন্দেহ পোষণ না করতে যে, শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করার ব্যাপারে ভীত হয়ে আমি দীর্ঘক্ষণ সম্মানিত ছলাত আদায় করেছি, তাহলে আমি তা আরো দীর্ঘায়িত করতাম।’ (বুখারী শরীফ, মুসনাদে আহমাদ ইত্যাদি)
হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য শহীদ হওয়ার পূর্বে দুই রাকাত সম্মানিত ছলাত আদায়ের সুন্নাত মুবারক প্রবর্তন করেন। এরপর তারা হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে শহীদ করার জন্য শূলের কাঠের সাথে শক্তভাবে বেঁধে ফেলে। তখন তিনি বলেন,
اللَّهمّ إِنَّا قَدْ بَلَّغْنَا رِسَالَةَ رَسُولِكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبِلِّغْهُ الْغَدَاةَ مَا يُصْنَعُ بِنَا
‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! নিশ্চয়ই আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক উনার কথা আমরা পৌঁছিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদেরকে নিয়ে যা কিছু করা হচ্ছে তার সংবাদ আপনি আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অতিশীঘ্রই পৌঁছিয়ে দিন।’
তারপর তিনি বলেন,
اللهُمّ أَحْصِهِمْ عَدَدًا وَاقْتُلْهُمْ بَدَدًا وَلَا تُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا
‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি তাদের সবাইকে (তারা কত জন এবং কে কে তা) গণনা করে নিন। তাদের সকলকে ধ্বংস করে দিন। তাদের একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না।’ (মু’জামুছ ছাহাবাহ্ ২/১৩৫, আল ইকতিফা ২/৮৯, আর রওদ্বুল উন্ফ ৩/৩৬৬, সীরাতে ইবনে হিশাম ২/১৭৩, দালাইলুন নুুবুওওয়াহ্, আস সীরাতুন নুবুবিয়্যাহ্ লি ইবনে কাছীর ৩/১৩০, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/৭৬ ইত্যাদি)
এরপর উনাকে তারা শহীদ করে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
হযরত উরওয়াহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত মূসা ইবনে উক্ববাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা উল্লেখ করেছেন যে,
أَنَّهُمْ لَمَّا رَفَعُوا حَضْرَتْ خُبَيْبًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَلَى الْخَشَبَةِ نَادَوْهُ يُنَاشِدُونَهُ أَتُحِبُّ أَنَّ سَيِّدَنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَانَكَ قَالَ لَا وَاللَّهِ الْعَظِيمِ مَا أُحِبُّ أَنْ يَفْدِيَنِي بِشَوْكَةٍ يُشَاكَهَا فِي قَدَمِهِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে যখন কাফিররা শূলের কাঠের সাথে বেঁধে ক্বসম করে উনাকে আহ্বান করে বলেছিল, ‘আপনি কি এটা চান যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনার স্থানে থাকুন (আর এর বিনিময়ে আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন?)’ তিনি বলেন- ‘না; কখনো নয়। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমার মুক্তির বিনিময়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক-এ (ক্বদম মুবারক-এ) একটি কাঁটা বিধুক তাও আমি কখনোই পছন্দ করি না’।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববারনী ৫/১৫৯, আস সীরাতুন নুবুবিয়্যাহ্ লি ইবনে কাছীর ৩/১৩১, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্ ৪/৭৬, ইমতাউল আসমা’, দালাইলুন নুবুওওয়াহ্ ইত্যাদি)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২২)
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩৪)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৮)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (২০)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৭)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৯)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৬)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৫ম পর্ব)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












