নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৫ম পর্ব)
, ১৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হযরত আবূ ইবরাহীম তাজীবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَاجِبٌ عَلى كُلِّ مُؤْمِنٍ مَتَى ذَكَرَه اَوْ ذُكِرَ عِنْدَه اَنْ يَّخْضَعَ وَيَخْشَعَ وَيَـتَـوَقَّـرَ وَيَسْكُنَ مِنْ حَرَكَتِه وَيَاْخُذَ فِىْ هَيْـبَتِه وَاِجْلَالِه بِـمَا كَانَ يَاْخُذُ بِه نَـفْسَه لَوْ كَانَ بَـيْنَ يَدَيْهِ وَيَـتَاَدَّبَ بِـمَا اَدَّبَـنَا اللهُ بِه
অর্থ: প্রত্যেক মু’মিনদের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, যখন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা করবেন বা উনার নিকট আলোচনা করা হবে তখন তিনি নত হবেন, একাগ্রচিত্তে আলোচনা শুনবেন, সম্মান প্রদর্শন করবেন, সমস্ত প্রকার নড়াচড়া থেকে শান্ত হয়ে যাবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সামনে থাকলে নিজেকে যেমনভাবে উপস্থাপন করতেন, অনুরূপ সম্মান ও ভীতির সাথে অবস্থান করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ব্যাপারে আমাদেরকে যেমন আদব শিক্ষা দিয়েছেন তেমন আদবই প্রদর্শন করতে হবে। সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/৪০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে অবস্থান মুবারককালীন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কখনোই উনার ইসমে জাত বা নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। তিনি পর্দা মুবারক করার পরেও করেননি। তাই পরবর্তী উম্মতের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ করা অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন না করা। আর এটাই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদব এবং ঈমান উনার পরিচায়ক।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মান করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা সম্মানিত ঈমান। হযরত আবূ আব্দিল্লাহ হালীমী বুখারী জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
اِنَّ تَـعْظِيْمَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاِجْلَالَه وَتَـوْقِيْـرَه شُعْبَةٌ عَظِيْمَةٌ مِنْ شُعَبِ الْاِيـْـمَانِ وَهذِهِ الشُّعْبَةُ غَيْـرُ شُعْبَةِ الْمَحَبَّةِ بَلْ اِنَّ مَنْزِلَتَـهَا وَرُتْـبَـتَـهَا فَـوْقَ مَنْزِلَةِ وَرُتْـبَةِ الْمَحَبَّةِ ذلِكَ لِاَنَّه لَيْسَ كُلُّ مُحَبٍّ مُعَظَّمًا اَلَا تَرى اَنَّ الْوَالِدَ يُحِبُّ وَلَدَه وَلكِنْ حُبَّه اِيَّاهُ يَدْعُوْهُ اِلـى تَكْرِيْـمِه وَلَا يَدْعُوْهُ اِلـى تَـعْظِيْمِه وَالْوَلَدُ يُحِبُّ وَالِدَه فَـيَجْمَعُ لَه بَـيـْـنَ التَّكْرِيْـمِ وَالتَّـعْظِيْمِ وَالسَّـيِّدُ قَدْ يُحِبُّ مَـمَالِيْكَه وَلكِنَّه لَا يُـعَظِّمُهُمْ وَالْمَمَالِيْكُ يُـحِبُّـوْنَ سَادَاتِـهِمْ وَيُـعَظِّمُوْنَـهُمْ فَـعَلِمْنَا بِذَالِكَ اَنَّ التَّـعْظِيْمَ رُتْـبَـتُه فَـوْقَ رُتْـبَةِ الْمَحَبَّةِ
অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তা’যীম মুবারক, উনার সম্মান মুবারক, উনার বড়ত্ব মুবারক সম্মানিত ঈমান উনার একটি বড় শাখা। এটি কোনো মুহব্বতের শাখা নয়। বরং এর মর্যাদা ও অবস্থান হচ্ছে মুহব্বতের চেয়েও উর্ধ্বে। কারণ প্রত্যেক মুহব্বতকৃত বিষয়ই মর্যাদাবান হয় না। আপনি কি দেখতে পান না? পিতা উনার সন্তানকে মুহব্বত করেন, কিন্তু সন্তানের প্রতি উনার মুহব্বত সন্তানকে দয়া প্রদর্শন করার দাবি করে। সম্মান করার দাবী করে না। আর সন্তান তার পিতাকে মুহাব্বত করে এখানে পিতার প্রতি সন্তানের তা’যীম ও ইহসান দুটোই থাকে। একইভাবে একজন মালিক তিনি উনার অধীনস্থদের মুহব্বত করেন কিন্তু তাদেরকে তা’যীম করেন না। আর অধীনস্থরা মালিকদেরকে মুহব্বত করেন এবং তা’যীমও করেন। এ থেকে আমরা জানতে পারি তা’যীম বা সম্মান করা মুহব্বত করার চেয়ে উচ্চতর। সুবহানাল্লাহ! (আল মিনহাজ ফী শুআবিল ঈমান ২/১২৪)
এখানে ফিকিরের বিষয় রয়েছে। একজন পিতা তিনি উনার সন্তানকে মুহব্বত করেন। এর অর্থ হচ্ছে তিনি আপন সন্তানকে স্নেহ করেন, আদর করেন, ইহসান করেন। এখানে সম্মান বা তা’যীমের বিষয়টা নেই। কিন্তু একজন সন্তান তার পিতাকে মুহব্বত করে। এখানে শুধু মুহব্বতটা থাকলেই যথেষ্ট হবে না। সাথে সাথে তা’যীম থাকতে হবে, সম্মান থাকতে হবে। না হলে সে আদববান সন্তান হিসেবে গণ্য হবে না। ঠিক একইভাবে কর্মচারীদেরকে তাদের যিনি মালিক থাকেন তিনি মুহব্বত করেন, এটার সাথে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীমের সম্পর্ক নেই। কিন্তু কর্মচারীও তার মালিককে মুহাব্বত করে এর সাথে তা’যীম-তাকরীমও করে। এখানে শুধু মুহব্বত করলে চলবে না, মুহব্বতের সাথে তা’যীমও থাকতে হবে।
এখন বলার বিষয় হচ্ছে- যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হচ্ছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার মাক্বছূদ, উনার মহাসম্মানিত নূরুত তাশরীফ মুবারক উপলক্ষেই মহান আল্লাহ পাক তিনি কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে একবারও উনার নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। তাহলে একজন নগন্য উম্মতের জন্য কিভাবে বক্তব্যে বা লিখনিতে বারবার উনার নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করা আদব হতে পারে? এবং শরীয়ত সম্মত হতে পারে? মূলত এটা চরম বেয়াদবী ও সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ।
-মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩২)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৮)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩৫)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৩০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৭)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুখোশধারী মুনাফিক্ব (৫)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ৮)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফ্য বা পরিভাষা মুবারক
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (৩)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












