সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২১)
, ০৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন-
ولقد أخذوني يومًا فأوقدوا لي نارًا ثم سَلَقوني فيها ثم وَضَع رجلٌ رِجلَه على صدري فَمَا اتَّقَيْتُ الأَرْضَ إِلا بِظَهْرِي،
অর্থ: “কাফিররা একদিন আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেলো। তারপর আমার জন্য তারা (কাঠের স্তূপের উপর) আগুন জ্বালালো। (যখন তা অঙ্গারে পরিণত হলো, তখন তারা আমার শরীর মুবারক থেকে কাপড় খুলে ফেললো। তারপর) তারা আমাকে জ্বলন্ত আগুনের (আঙ্গারের) উপর চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে আমাকে দগ্ধ করতে লাগলো। এই অবস্থায় এক কাফির আমার বক্ষ মুবারক উনার উপর তার পা রেখে এমনভাবে চেপে ধরলো যে, আমি আমার পিঠ মুবারক ব্যতীত ভূমি (জ্বলন্ত আগুনের অঙ্গার) থেকে নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায় পেলাম না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মিরআতুয যামান ৬/৩৩২, তারীখুল ইসলাম ৩/৫৬৩, ফী তারীখিল উমাম ওয়াল মুলক ৫/১৩৮ ইত্যাদি)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন, হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি পেশাগত দিক দিয়ে দা-বঠি, ছুরি-তরবারি ইত্যাদি তৈরিতে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। আস ইবনে ওয়াইল নামক কাট্টা মুশরিক এক সময় উনার দ্বারা বাকীতে কিছু কাজ করালো। পরে যখন তিনি উনার প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলেন, তখন উনাকে আস ইবনে ওয়াইল কঠোর ভাষায় বললো, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে আপনি সম্মানিত ঈমান এনেছেন যতক্ষণ তা অস্বীকার না করবেন; ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পাওনা আমি দিবো না। যদি উনার থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে আপনার পাওনা আপনাকে সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দিবো; অন্যথায় এক পয়সাও দিবো না।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এই কথা মুবারক বলে ঐ কাফিরের মুখ বন্ধ করে দিলেন-
إِنِّي لَنْ أَكْفُرَ بِسَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتّٰى تَمُوْتَ ثُمَّ تُبْعَثَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি কখনোই অস্বীকার করবো না; এমনকি তুই মারা যাওয়ার পর আবার তোকে পুনর্জীবিত করা হলেও অর্থাৎ ক্বিয়ামতের পর হাশরের ময়দান ক্বায়িম হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি কখনোই অস্বীকার করবো না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, বাইহাক্বী শরীফ ইত্যাদি)
উত্তরে ঐ কাট্টা কাফির বললো, ‘আমি যখন আমার সম্পদ ও সন্তানসহ পুনর্জীবন লাভ করবো, তখন আপনার পাওনা পরিশোধ করবো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালের ঘটনা। একদিন হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত সম্মান প্রকাশ করে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একখানা বিশেষ আসন মুবারক-এ বসিয়ে বললেন-
فما أحد أحق بهذا المجلس منك إلا سيدنا حَضْرَتْ بلال رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
‘একমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনি ব্যতীত এই স্থানে বসার জন্য আপনার থেকে অধিকতর উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই।’
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি (পরবর্তী উম্মতদের ইবরত-নছীহত লাভের জন্য একটি বিষয় প্রকাশ করে) বললেন- ‘সাইয়্যিদুনা হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমার সমান হতে পারেন কিভাবে? উনাকে যখন মুশরিকগুলো যুলুম করতো, তখন উনাকে সাহায্য করার মত লোক ছিলো।
ولم يكن لي أحد يمنعني
“আর একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিলো না।’
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট মুশরিকদের হাতে তিনি যেই যুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সে সম্পর্কে বলতে সংকোচ বোধ করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বার বার বলার কারণে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার পিঠ মুবারক থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার পিঠ মুবারক উনার দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পেলেন, পিঠ মুবারক-এ গোশত নেই। শুধু হাড় দেখা যাচ্ছে। এই কঠিন অবস্থা দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিভাবে হলো?
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন- ‘মুশরিকরা কাঠের স্তূপের উপর আগুন জ্বালাতো। যখন তা অঙ্গারে পরিণত হতো, তখন তারা আমার শরীর মুবারক থেকে কাপড় খুলে ফেলতো। তারপর তারা জোর করে টেনে নিয়ে ঐ অঙ্গারের উপর আমাকে চিৎ করে শুইয়ে দিতো এবং আমার বুক মুবারক উনার উপর তাদের পা দিয়ে কঠিন চাপ দিয়ে ধরে রাখতো। আমি কোনোভাবেই নড়াচড়া করতে পারতাম না। তখন আমার পিঠ মুবারক উনার গোশত হাড় পর্যন্ত পুড়ে খসে পড়তো। আর আমার পিঠ মুবারক উনার গলিত চর্বি দ্বারাই সেই আগুন নিভে যেতো। এ কারণে আপনি আমার পিঠ মুবারক-এ শুধু হাড় দেখতে পাচ্ছেন। গোশত দেখতে পাচ্ছেন না।’
(অপেক্ষায় থাকুন)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৭)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১০)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৩য় পর্ব)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২০)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৬)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নাম মুবারক আযানে শুনে অঙ্গুলি চুম্বন করা ও চোখে বুছা দেয়ার সীমাহীন ফযীলত
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৫)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৯)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৮)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (৩)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












