ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৪৭)
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ অনেক আলোচনা করেছেন। প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমান নর-নারীর জন্যে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ অর্থাৎ সবচাইতে শ্রেষ্ঠ দিন, ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর ‘ঈদে নুরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সম্পর্কে সকলেরই জানা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবূল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল। কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব উনার মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত জানা সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। আর খাছ করে যারা উম্মতে মুহম্মদী তাদের জন্য আরো বেশি ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ
কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বলেন, তোমরা আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইজ্জত সম্মান বজায় রাখ, উনার যথাযথ খিদমত করো, উনাকে ইজ্জত সম্মান করো। বিন্দু থেকে বিন্দুতম যেন চ্যূত না হয়ে যায়। তাহলে কেউ ঈমানদার থাকতে পারবে না।
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার তাওফিক দান করেন।
স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার আসমা ও ছিফত, ইলিম ও কুদরত ইত্যাদি সম্পর্কে জানা যেমন বান্দার জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত, ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী, সম্মান, মর্যাদা-মর্তবা, উনার গুরুত্ব সম্পর্কে জানাও প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
“ আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি।”
কাওছার শব্দের লক্ষ-কোটি অর্থ রয়েছে। আমরা সেটা আগেও বলেছি। তারমধ্যে যে দু’টা অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে তার একটি হচ্ছে হাউযে কাওছার। আরেকটা হচ্ছে, খইরে কাছীর। যে হাউযে কাওছারের পানি পান করলে জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত পানি পিপাসা লাগবে না। আর দ্বিতীয় খইরে কাছীর-এর অর্থ হচ্ছে অর্থাৎ যত ভালো রয়েছে, সমস্ত ভালাইগুলো আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দান করেছেন। এখন সে ভালোগুলো মহান আল্লাহ পাক একদিক থেকে দান করেছেন আরেকদিক থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে সেগুলো ভালো ও উত্তম হিসাবে পরিগণিত হয়েছে।
ইজমা হয়েছে সমস্ত উম্মতের, অর্থাৎ সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ, সমস্ত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুদ দারাজাত (পা) মুবারকে যে মাটি স্পর্শ করেছে সে মাটি মুবারক আরশে মুয়াল্লার চাইতে লক্ষ-কোটিগুণ বেশি সম্মানিত, ফযীলতপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ। এটার একমাত্র কারণই হচ্ছে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একটা সম্পর্ক, তায়াল্লুক থাকার কারণে।
কাজেই, এটার একমাত্র কারণই হচ্ছে যিনি নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একটা সম্পর্ক, তায়াল্লুক থাকার কারণে। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে তায়াল্লুক থাকার কারণে একটা মাটি যদি এত সম্মানিত হয়ে যায় তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেই তারিখে এসেছেন, যেই বার এসেছেন, যেই মাসে এসেছেন সেই মাস, তারিখ, সেই বার অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ (সোমবার) দিনের কতটুকু মর্যাদা হতে পারে এটা সহজেই অনুধাবন করা যায়। সেই দিন যে সমস্ত ঈদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ঈদ, সমস্ত দিনের চাইতে সবচেয়ে সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত দিন, মাস, তারিখ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












