ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৪৯)
, ২২ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ প্রসঙ্গে একটা মেছাল দেয়া হয় কিতাবে, এক লোক তাদের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরতে গেল। মাছ ধরতে গেলে ছোট বড় অনেক রকম মাছই ধরা পড়ে। সে মাছ ধরে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। এনে আহলিয়ার (স্ত্রীর) কাছে দিল। আহলিয়া বা স্ত্রী সেই মাছগুলোর মধ্যে যেগুলি বড় বড় মাছ, সেগুলি বেছে রেখে ছোট মাছগুলো আলাদা করলো।
তার আহলিয়া (স্ত্রী) বড় মাছগুলো চুলাতে ভেজে বাচ্চাদেরকে খেতে দিল। বাচ্চারা খাওয়া-দাওয়া করে কাটাগুলো পাশে ফেলে দিল এবং সে কাটাগুলো একটা বিড়াল খেয়ে ফেললো। এটা ঐ ছোট ছোট মাছগুলো লক্ষ্য করলো।
বাড়ির মালিক যখন আসল তখন তার আহলিয়া (স্ত্রী) বললো, আপনি যে মাছ এনেছেন, বড় মাছগুলি আমরা রেখেছি, এখন ছোট মাছগুলি পানিতে ফেলে দেন। কারণ এগুলো বড় হলে খাওয়া যাবে, সেই বাড়ির মালিক ছোট মাছগুলো নিয়ে পানিতে ফেলে দিল।
ছোট মাছগুলো দেখলো, বড় মাছ ধরে এনে কাটা হলো, তারপর তেলের মধ্যে আগুনের দ্বারা ভাজা হলো। তারপর তা বাচ্চারা খেল এবং কাঁটাগুলো ফেলে দিল, যা বিড়ালে খেয়ে ফেললো। তারপর যখন ছোট মাছগুলো পানিতে ফেলা হলো তখন তারা গিয়ে বড় বড় মাছগুলোকে বলে দিল, তারা যা যা দেখেছিল এবং অন্যান্য মাছদের বললো, এরপরে যখন জাল আসবে, বর্শী আসবে তখন তোমরা তার কাছে যেও না, গেলে তোমাদের নির্ঘাত মৃত্যু।
وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
এখন হাক্বীক্বী ইয়াক্বীন হলো, এই বাচ্চা মাছগুলির মত অবস্থা, যা হাক্বীক্বতের হাল এবং ঠিক এই হালটা যখন কোন মানুষের মধ্যে হবে তখন
وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
সে আখেরাতের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে হাক্বীক্বী হক্বকুল ইয়াক্বীন অর্জন করতে পারবে। এর পূর্বে তার হক্বকুল ইয়াক্বীন অর্জন করা কঠিন। কমপক্ষে সে ইলমুল ইয়াক্বীনতো অবশ্যই অর্জন করবে, তারপর আইনুল ইয়াক্বীন।
কাজেই মাছের বাচ্চারা যেমন হক্বকুল ইয়াক্বীন অর্জন করেছে, ঠিক কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার মতে মত, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ হয়, তাহলে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে হাক্বীক্বী হক্বকুল ইয়াক্বীন অর্জন করার তৌফিক দান করবেন।
أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ
এবং তারা মহান আল্লাহ পাক উনার পথের মধ্যে কায়েম রয়ে গেছে।
هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
কে? যে ব্যক্তির জন্য হেদায়েতকারী কুরআন শরীফ, যে মহান আল্লাহ পাক উনার পথের মধ্যে কায়েম রয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক উনার পথের মধ্যে কায়েম থাকা প্রসঙ্গে একটা মেছাল দেয়া হয়।
হযরত ইমামুল আউওয়াল আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে একবার এক ইহুদীর মল্লযুদ্ধ হয়। একে একে তিনি তিনদিন পর্যন্ত তার সাথে কুস্তি করেন এবং তৃতীয়দিন তিনি তাকে পরাস্ত করেন। পরাস্ত করে তিনি তার বুকের উপরে উঠে বসেন। বসে উনি তরবারী নিয়েছেন তাকে দুই টুকরা করে ফেলবেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ঐ ইহুদী ব্যক্তি হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার দিকে থুথু নিক্ষেপ করলো। যখন উনার শরীরে সে থুথু দিল, তিনি উঠে বসলেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












