পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
, ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং পানি দিয়ে ধোয়া উভয়টিই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ:
বড় ইসতিন্জা এবং ছোট ইসতিন্জা করার পর ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার হওয়া উভয়টি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্। অর্থাৎ ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করা যেমন সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ তেমনিভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করাও সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্। কেননা শরীরের মধ্যে একটা গরম ভাব আছে। বড় ইসতিন্জা বের হয়ে চামড়ার উপর লাগলে শরীরের গরমে ময়লার (পায়খানার) কিছুটা চামড়ায় শোষণ করে নেয়। ঢেলা-কুলুখে সেই শোষিত ময়লা (পায়খানা) দুর হয় না। তাই ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করার পর পানি দিয়ে ধোয়া অবস্থাভেদে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। তাছাড়া মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বদা ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করেছেন এবং ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করার পর পানি দিয়ে ধুয়েছেন অর্থাৎ আমাদেরকে তালীম দিয়েছেন। তাই ঢেলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং পানি দিয়ে ধোয়া উভয়টিই আমভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
ইসতিন্জা (প্রস্রাব,পায়খানা) করার সুন্নাত তরীকা:
ইসতিন্জার চাপ ধরে রাখা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে করতে হবে। হাতে কলমের কালি লেগে থাকলে তা ধুয়ে নিয়ে প্রবেশ করবে। যেমন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার বাথরুমে প্রবেশ করে দেখলেন উনার হাতে কলমের কালি লেগে আছে। তাই তিনি বাথরুম থেকে বের হয়ে উনার হাতে লেগে থাকা কালি পরিষ্কার করে এরপর বাথরুমে প্রবেশ করলেন। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مِدَادُ الْعُلَمَاءِ خَيْرٌ مِّنْ دِمَاءِ الشُّهَدَاءِ
অর্থাৎ শহীদের পবিত্র রক্তের চেয়েও উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কলমের কালি বেশী পবিত্র। তাই হাতে কলমের কালি নিয়ে ইসতিন্জাখানায় প্রবেশ করা যাবে না। মহান আল্লাহ্্ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক লিখিত তাবিজ প্রকাশ্যে থাকলে খুলতে হবে। আর আবৃত থাকলে জায়েয আছে। তবে না নেয়াই উত্তম। সামর্থ থাকলে নামাযের কাপড় খুলে রেখে অন্য কাপড় পরিধান করে ইসতিন্জাখানায় যাওয়া মুস্তাহাব। নামাযের কাপড় পরিধান করে ইসতিন্জাখানায় যাওয়া জায়িয আছে। তবে বিশেষ ইহতিয়াত বা সাবধান থাকতে হবে যেন মুস্তামাল পানি (ব্যবহৃত পানি) কাপড়ে না লাগে।
ইসতিন্জাখানায় প্রবেশের নিয়ম:
যখন ইসতিন্জার হাজত হবে, তখন টুপি মাথায় দিয়ে, টুপি না থাকলে অন্যকোনো কাপড় অর্থাৎ তোয়ালে বা গামছা দিয়ে মাথা ঢেকে ঢেলা-কুলুখ ও পানি সাথে নিয়ে যাবে, যদি ইসতিন্জাখানায় ঢিলা-কুলুখ ও পানি না থাকে। আর ইসতিন্জাখানায় প্রবেশের পূর্বে بِسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (“বিস্মিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খ¦াবায়িছ”)-এ দোয়া পড়ে সেন্ডেল ব্যবহার করে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ঢেলা-কুলুখ ও পানির বদনা ডান পাশে রাখবে। বসার পূর্বে মনে মনে بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ্) বলে কাপড় খোলা শুরু করবে। অর্থাৎ আস্তে আস্তে বসবে আস্তে আস্তে কাপড় খুলবে। দাড়ান অবস্থায় কাপড় খুলবে না। বসার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ কাপড় খুলবে (সুন্নত)। বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে ফারাগাত মত বসবে। তাহলে সহজে ইসতিন্জা হবে। চাপাভাবে বসবে না। উভয় হাটু ঢেকে দিয়ে কাপড় গুছিয়ে নিবে। ছোট ইসতিন্জা (প্রস্রাব) করার সময় পুরুষ হলে বাম হাত দিয়ে পুরুষলিঙ্গটি ধরবে এবং আস্তে আস্তে ছোট ইসতিন্জা করবে, যাতে ইসতিন্জার (প্রস্রাবের) ছিটা পায়ে, শরীরে ও কাপড়ে না লাগে সে ব্যপারে সাবধান থাকতে হবে। দাঁড়িয়ে এবং ক্বিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করে ইসতিন্জা করবে না। উঁচু স্থানে বসে নীচু স্থানের দিকে প্রস্রাব করতে বসবে। বাতাসের দিকে মুখ করে বসবে না। শক্ত স্থানে প্রস্রাব করবে না। অন্যথায় প্রস্রাবের ছিটা শরীরে বা কাপড়ে লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে হাঁচি আসলে মনে মনে اَلْحَمْدُ لِلّهِ(আল্হামদু লিল্লাহ্) বলবে। বিশেষ স্থান বিনা ওজরে দেখবে না। বড় ইসতিন্জা (পায়খানা) এবং ছোট ইসতিন্জার (প্রস্রাবের) উপর থু থু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না। বড় ইসতিন্জা এবং ছোট ইসতিন্জার দিকে বিনা ওজরে তাকাবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (৬)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১০)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












