ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
তাক্বওয়া হাছিল করার গুরুত্ব-ফযীলত (৪৭)
, ২০ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সে আরো দোয়া করলো, কান্নাকাটি করলো, তারপর সে তার মাথা উত্তোলন করলো এবং সামনে বসা হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললো, হুযূর! আমাকে আপনি চিনেছেন?
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “কে তুমি”?
আপনার কি স্মরণ নেই, বছরার বাজারে একবার এক ইহুদী মহিলা, একটা কুকুরকে রুটি খাওয়াচ্ছিলো, আপনি নিষেধ করেছিলেন। আমি সেই মহিলা। আমি বলেছিলাম, হুযূর! মহান আল্লাহ পাক তিনিতো দিলের খবর রাখেন।
হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তুমি কি সেই মহিলা? মহিলা বললো, হুযূর! আমি যে দান করেছিলাম তার বদৌলতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ঈমান দিয়েছেন এবং হজ্জ করার তাওফিক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন চিন্তা-ফিকির করেন-
وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ
যারা
هُدًى لِلْمُتَّقِينَ
যারা মুত্তাক্বীন হবে, তাকওয়া অর্জন করবে, তারা যেমন অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করবে, নামাযের মধ্যে সবসময় কায়েম থাকবে। ঠিক তারা দান-খয়রাতের মধ্যে সেই রকম থাকবে।
এরপর বলা হয়েছে-
وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ
“তারা ঈমান আনে ঐ কিতাবের প্রতি, যে কিতাব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে। আর যে কিতাব পূর্বে নাযিল করা হয়েছে, সে কিতাবের প্রতি। কতটুকু উনাদের তাকওয়া, কতটুকু উনাদের পরহেযগারী, যাঁরা কুরআন শরীফ উনার উপর ঈমান এনেছেন এবং পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছেন।
কতটুকু তাকওয়া-পরহেযগারী সেই প্রসঙ্গে একটা ঘটনা শুনলে বুঝতে পারবেন। কিতাবের প্রতি ঈমান আনার মধ্যে তাকওয়া রয়ে গেছে, পরহেযগারী রয়ে গেছে।
যেমন বলা হয়, এক বুযুর্গ, মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী। উনার নাম ছিল হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। প্রথম জীবনে ছিলেন একজন শরাবখোর, সারাদিন শরাবখানায় মাতাল হয়ে থাকতেন, আজে বাজে কাজ করতেন। একদিন হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ দেখলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম অর্থাৎ
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
একটি কাগজে লেখা এবং কাগজটি মাটিতে পড়ে আছে। ওটা দেখে হযরত বিশর হাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি মনে মনে চিন্তা করলেন, সারা জীবনতো পাপ করেছি, নেক কাজতো করিনি, মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম এটাতো অবশ্যই মাটিতে থাকা উচিত নয়, এটাকে তুলে নেওয়া উচিত। কাগজটি তুলে নিলেন। তুলে নিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে আতর গোলাপ মেখে উনার সেই ঘরের উঁচু স্থানে রেখে দিলেন। এরপর তিনি আবার শরাবখানায় চলে গেলেন।
ঐ এলাকায় একজন আল্লাহওয়ালা লোক ছিলেন। তিনি রাতে স্বপ্নে দেখলেন, উনাকে স্বপ্নে বলা হচ্ছে, হে ব্যক্তি! আপনি বিশরকে গিয়ে সংবাদ দিন, আমি তাকে কবুল করেছি। স্বপ্নটা দেখার পর উনার ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠে মনে মনে চিন্তা করলেন, স্বপ্নটা আমি ভুল দেখেছি। কারণ ঐ ব্যক্তি নিশ্চয়ই ভাল লোক নয়। তিনি ওজু করে দু’ রাকায়াত নামায পড়ে আবার শুয়েছিলেন।
একে একে তিনবার একই স্বপ্ন দেখলেন এবং শেষবার বলা হলো, আপনি তাড়াতাড়ি সংবাদ দিন, আর তা না হলে আপনার অসুবিধা হবে। বুযুর্গ ব্যক্তি তাড়াতাড়ি সংবাদ দেওয়ার জন্য উনার বাড়ীতে গেলেন। উনার বাড়ী থেকে বলা হলো, তিনি তো এখানে নেই, তিনি শরাবখানায়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শ্রেষ্ঠ উসমানীয় সুলতান মুরাদ আল রাবির ন্যায়পরায়নতা এবং এক রাতের ঘটনা
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত তিনটি বিষয়
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া কবীরা গুনাহ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক উনাকে যদি কেউ হাক্বীক্বী ভয় করতে চায়, তার তিনটি দায়িত্ব
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৯)
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












