ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
ইলিম ও আলিমের ফযীলত (৩৬)
, ০৫ মে, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সেই ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ফক্বীহুল উম্মত তিনি ইন্তিকাল করার সময় অনেক আলিম-উলামা উনার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছেন। বিশ্ব বিখ্যাত আলিম-উলামা উনারা এসেছেন, যারা উনার ছাত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর কেউ কেউ সমসাময়িক।
একটা মাসয়ালা নিয়ে এক আলিমের কিছু চু-চেরা ছিল। তিনিও প্রবেশ করলেন হযরত আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কামরাতে। তখন উনার ইন্তিকাল মুবারক প্রায় নিকটবর্তী, তিনি মূমূর্ষ অবস্থায়। সেই আলিম যখন প্রবেশ করলেন, তখন তিনি সেই মাসয়ালাটা আলোচনা করলেন, যে মাসয়ালা নিয়ে একটু চু-চেরা কিল ও কাল ছিল। যেহেতু উনার সময় শেষ তাই তিনি সেটা বলে যাবেন।
তিনি সেই আলিম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা বলুনতো ঐ মাসয়ালাটা যে- হজ্জে রমি বা কংকর নিক্ষেপ করতে হয়। এই রমি বা কংকর নিক্ষেপ করাটা, সাওয়ারীর উপরে সাওয়ার হয়ে করাটা কি উত্তম হবে?
উল্লিখিত আলিম বললেন, পায়ে হেঁটে কংকর নিক্ষেপ করা সুন্নত।
হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনার মাসয়ালা শুদ্ধ হলো না।
আলিম তখন বললেন, তাহলে নিশ্চয় বাহনে সাওয়ার হয়ে কংকর নিক্ষেপ করা সুন্নত হবে।
তিনি বললেন, এটাও শুদ্ধ হলো না। কোনটাই আপনার শুদ্ধ হলো না।
তিনি বললেন, হুযূর! তাহলে কোনটা শুদ্ধ হবে?
উনি বললেন দেখ, যে রমীর পরে, কংকর নিক্ষেপ করার পরে দোয়া রয়েছে, (দোয়া করা সুন্নত) সেটার মধ্যেই হেঁটে করাটাই সুন্নত। আর যে কংকর নিক্ষেপ করার পরে দোয়া করা সুন্নত নয়, সরাসরি চলে আসতে হয়, সেটা বাহনে করে সাওয়ার হয়ে কংকর নিক্ষেপ করাই সুন্নত উনার অন্তভর্ূুক্ত।
এ মাসয়ালা উনি বলে দিলেন, ফায়ছালা করে দিলেন। সেই আলিম উনি বলতেছেন, আমি মাসয়ালা শেষ করেছি। উনার অসুস্থতা দেখে কথা বেশি আর বলা ঠিক হবে না। সেই খেয়াল করে মাত্র ঘর থেকে বের হয়েছি, মাত্র কয়েক কদম গিয়েছি অর্থাৎ দু’চার ক্বদম গিয়েছি, এমন সময় আমি শুনতে পেলাম যে, হযরত ফক্বীহুল উম্মত ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইন্তিকাল করেছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি ফিকির করলাম যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কত সমঝ দিয়েছেন। সূক্ষ্ম বুঝ দিয়েছিলেন। যে এত সমঝ এবং সূক্ষ্ম বুঝ থাকার কারণে মৃত্যুর এত কঠিন সময়েও তিনি সেই সূক্ষ্ম মাসয়ালাটা ফায়সালা করে দিয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
হাক্বীক্বত উনারাই ছিলেন আলিম, উলামায়ে হক্কানী, উলামায়ে রব্বানী। কাজেই, এত কঠিন সময়েও তিনি মাসয়ালার জবাব দিতে কোন ত্রুটি করেননি এবং কোন গাফলতি হয়নি উনাদের মাধ্যমে। উনারা হক্ব বিষয়টা ঠিকই পৌঁছে দিয়ে গেছেন।
কাজেই, যারা উলামায়ে হক্কানী, যারা উলামায়ে রব্বানী উনাদের সেই ফযীলত, সেই ফযীলত রয়েছে। যার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে- পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিরদের কপটতা ও দ্বি-চারিতা নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সতর্কবার্তা
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












