ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৮৫)
, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জবাব দিলেন দেখ, মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতের মধ্যে আমি অবস্থান করতেছিলাম। এখনও আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতের মধ্যে রয়েছেন, পরকালেও থাকবেন, অনন্তকাল ধরে অবস্থান করতেই থাকবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময়ই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনন্তকাল ধরে মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতের মধ্যে অবস্থান করবেন।
কাজেই, সেজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারকের জন্য খুশি প্রকাশ করা; এটা যে কত মর্যাদা কত ফযীলতের কারণ সেটা মানুষ তার ভাষা দিয়ে বর্ণনা করতে পারবে না।
এজন্য বলা হয়ে থাকে, হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে, উনি মক্কা শরীফ গেলেন হজ্জ করতে। হজ্জ করতে গিয়ে তিনি কা’বা শরীফকে সম্বোধন করে বললেন, হে কা’বা শরীফ! আমরা তো প্রতি বৎসর আসি, অনেক মানুষ এসে থাকে তোমার যিয়ারতের জন্য। তোমার যিয়ারতের জন্য অনেক লোক এসে থাকে, আমরাও এসে থাকি বছর বছর। এক বৎসরে অনেক মানুষ এসে থাকে তোমার সাক্ষাতের জন্য, তোমার যিয়ারতের জন্য, তোমার মহব্বতের জন্য। আচ্ছা তুমি বলোতো দেখি, তোমার প্রতি আসক্ত হয়ে আশিক হয়ে অনেকে আসে, আচ্ছা তুমি কার আশিক?
হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা কা’বা শরীফকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে কা’বা শরীফ! তুমি কার আশিক? কা’বা শরীফ জাওয়াব দিল আমিতো মহান আল্লাহ পাক উনার আশিক।
তখন কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হলেন। তিনি রুজু হয়ে আল্লাহ পাক উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আয় বারে ইলাহী! আমরাতো কা’বা শরীফ উনার কাছে এসে থাকি যিয়ারতের জন্য আর কা’বা শরীফ উনার মহব্বতে। এখন কা’বা শরীফ আপনার আশিক। এখন আপনাকে না পেলেতো আমাদের কামিয়াবী নেই। আয় বারে ইলাহী! আমার জানার বিষয় রয়েছে, আপনি কার আশিক? হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা আল্লাহ পাক উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আয় বারে ইলাহী! আপনি কার আশিক?
মহান আল্লাহ পাক তিনি জাওয়াব দিলেন, আমি হচ্ছি যিনি আমার আখিরী নবী, যিনি হাবীবুল্লাহ, যিনি নবীদের নবী, যিনি রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি উনার আশিক। সুবহানাল্লাহ! হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আশিক এবং মাশূক দু’টাই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন যে, তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার আশিক। কাজেই আশিক এবং মা’শূক দু’টাই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এখন সেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশিক এবং মা’শূক। এখন মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি আশিক, মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি মা’শূক তাহলে উনার কত মর্যাদা থাকবে?
এরপর বর্ণিত রয়েছে, যখন হযরত রাবেয়া বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হলেন, রুজু হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আয় মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কার আশিক?
তখন তিনি বলেন, আমি হচ্ছি আমার উম্মতের আশিক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মতের কি করে ভালো হবে, নাজাত পাবে সে কোশেশই করেছেন। মহান আল্লাহ পাক ওহী করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটা পৌঁছিয়েছেন।
কাজেই, এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এত মহব্বত করে থাকেন আমাদেরকে। কিন্তু বান্দা সেটাতো বুঝতে পারে না, উম্মত সেটা বুঝতে পারে না; যারজন্য সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাক্বীক্বী তা’যীম-তাকরীম করতে ব্যর্থ হয়ে থাকে।
কাজেই, বান্দার দায়িত্ব হচ্ছে উম্মতের দায়িত্ব হচ্ছে সে যেভাবে আল্লাহ পাক উনাকে মহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে মহান আল্লাহ পাক হিসেবে; ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে উনাকে সে মহব্বত করবে, তা’যীম- তাকরীম করবে, ইজ্জত-সম্মান করবে। তাহলে তার জন্য কামিয়াবী রয়েছে। অন্যথায় সে যদি হাজারো ইবাদত-বন্দেগী করে, হাজারো কিছু সে করে কস্মিনকালেও সে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কোন নিয়ামত লাভ করেত পারবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












