ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৭৫)
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে, যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সমস্ত ক্বায়িনাত সৃষ্টি হয়েছে, সমস্ত মাখলূক্বাত সৃষ্টি হয়েছে সেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ মুবারকের জন্য কেউ যদি তা’যীম-তাকরীম করে, খুশি প্রকাশ করে তার কতটুকু মর্যাদা হবে? এটা ফিকির ও চিন্তার বিষয়।
হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا ، ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ ، فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ ، فَقَالَ : أَلَهُ تَوْبَةٌ ؟ قَالَ : لا ، فَقَتَلَهُ ، وَجَعَلَ يَسْأَلُ ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ : ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا ، فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ ، فَنَاءَ بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا ، فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلائِكَةُ الْعَذَابِ، فَأَوْحَى اللهُ إِلَى هَذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي ، وَأَوْحَى إِلَى هَذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي ، وَقَالَ : قِيسُوا مَا بَيْنَهُمَا ، فَوُجِدَ إِلَى هَذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ، فَغُفِرَ لَهُ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইরশাদ করেন, বনী ইসরাইলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে একে একে নিরানব্বইটি খুন করেছিল। নাউযুবিল্লাহ। নিরানব্বইটি সে খুন করেছিল। খুন করার পর তার মনে অনুশোচনা আসল। অনেক পাপ সে করেছে, তাকে তওবা করতে হবে, ইস্তিগফার করতে হবে। যেহেতু বয়স হয়েছে, মৃত্যু নিকটবর্তী তাকে তওবা করতে হবে। ইত্যাদি চিন্তা-ফিকির করে সে লোকজনকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, কোন ব্যক্তি যদি নিরানব্বইটা খুন করে তাহলে তার কি তওবার কোন ব্যবস্থা রয়েছে? জিজ্ঞেস করতে করতে এক লোককে সে জিজ্ঞাসা করল, সে এক রাহিব, খ্রিস্টান দরবেশ, তার ইল্্ম্- কালাম ছিল না। তাকে সে জিজ্ঞেস করল, তুমি কি বলতে পার, যে লোকটা নিরানব্বইটা খুন করেছে তার কি কোন তওবার ব্যবস্থা রয়েছে?
أَلَهُ تَوْبَةٌ
সে রাহিব যেহেতু মুর্খ ছিল ইল্ম্-কালাম ছিল না, সে দরবেশ ছিল। সে বলল না, যে লোক নিরানব্বইটা খুন করেছে তার তওবার কোন ব্যবস্থা নেই। এটা শুনে সেই খুনি লোকটা উত্তেজিত হয়ে فقتله সেই দরবেশকেও সে হত্যা করে ফেলল ,খুন করে ফেলল।
وَجَعَلَ يَسْأَلُ
এরপরও সে লোকদের জিজ্ঞেস করতে লাগল তার যখন শরীরের রক্ত ঠা-া হলো। সে মনে মনে চিন্তা করল ব্যাপারটা কি হল? তওবা করতে এসে আরেকটা লোক খুন করে ফেললাম, এটা কেমন হলো। সে লোকদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো, যে লোক একশটা খুন করেছে তার কি কোন তওবার ব্যবস্থা রয়েছে?
فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ : ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا
তাকে এক ব্যক্তি বলল, যে দেখ, আসলে প্রকৃতপক্ষে যাকে জিজ্ঞেস করা হলো তারও ব্যাপারটা জানা নেই। তাই সে বললো, অমুক গ্রামে একজন লোক রয়েছে তার কাছে গেলে তুমি জানতে পারবে, যে একশটা খুন করেছে তার মাফ হবে কি না? এটা শুনে সে লোকটা মনে করল, সেখানে হয়তো তার একটা ব্যবস্থা হবে। সে তার সিনাটা শুধু সে গ্রামের দিকে ফিরিয়েছিল, রুজু করেছিল। যে গ্রামে গেলে সংবাদ পাওয়া যাবে, তওবার ব্যবস্থা হবে কি না।
যখন সে শুধু সিনা ফিরিয়েছে তখন দেখা গেল তার মৃত্যুর পরওয়ানা এসে গেল। রহমতের ফেরেশতা যারা অর্থাৎ নেককারদের রূহ কবজ করে থাকেন তারাও আসলেন। আর যারা বদকারদের রূহ কবজ করে থাকেন তারাও আসলেন।
فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلائِكَةُ الْعَذَابِ
দু’দল ফেরেশ্তা এসে পরস্পর উনারা আলোচনা করতে লাগলেন, ব্যাপারটা কি হলো। যারা আযাব-গযবের ফেরেশতা যারা আযাব-গযব দিয়ে থাকেন, বদকারদের রূহ যারা কবয করে থাকেন তারা বললেন, এই লোকটা একশত খুন করেছে কাজেই সেতো জাহান্নামী। তাকে বদকার হিসেবে রূহ কবজ করতে হবে। আর যারা নেক্কারদের রূহ কবজ করে থাকেন তারা বললেন, এই লোকটাতো তওবার নিয়ত করেছে। যেহেতু তওবা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি গোনাহ-খতা মাফ করে দেন তাকে নেক্কার হিসেবে রূহ কবয করতে হবে। উনারা আলোচনা করতে লাগলেন। পরে বললেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ফায়ছালা করা হোক।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত لَهْوَ الْحَدِيثِ ‘লাহওয়াল হাদীছ’ হচ্ছে- “গান-বাজনা” যা সুস্পষ্টরূপে হারাম
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুলতান মাহমুদ গজনভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কিত দুইটি ঘটনা
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-৪)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












