জীবনী মুবারক
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৪)
বিলাদত শরীফ: হিজরতপূর্ব ১০ সন বিছাল শরীফ: ৯৩ হিজরী বয়স মুবারক: ১০৩ বছর
, ০৩ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কর্ম-জীবন:
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে সম্মানিত খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বাহরাইনে ছদকা আদায়ের দায়িত্বে নিয়োগ করতে ইচ্ছা মুবারক প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পরামর্শ চাইলে তিনি বলেন, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বুদ্ধিমান ও লেখাপড়া জানা মানুষ। উনার জন্য যে খেদমতের প্রস্তাব আপনি করেছেন আমি তা সমর্থন করি। অতঃপর সম্মানিত খলীফা আলাইহিস সালাম উনাকে ছদকা আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে বাহরাইনে প্রেরণ করেন। (ইছাবা)
তিনি যখন বাহরাইন থেকে ফিরে আসেন তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ওফাত প্রাপ্ত হয়েছেন। খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তখন সম্মানিত খলীফা। তিনি বাহরাইন থেকে আনীত অর্থ থেকে চার হাজার দিরহাম হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে প্রদান করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি সেই অর্থ পেয়ে মদীনাবাসীদের মধ্যে একজন অর্থশীল ব্যক্তি হয়ে যাই। (হায়াতুছ ছাহাবা)
হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন বছরার গভর্ণর, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তখন হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বছরা প্রেরণ করেন। এই বছরা শহরেই তিনি স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। সম্মানিত খলীফা আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যাঁদের উপর ফিকাহ ও ফতওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন উনাদের মধ্যে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও একজন। জীবনের বাকী অংশ তিনি এই বছরা শহরেই কাটিয়ে দেন। এখানে ফিকাহ ও ফতওয়ার দায়িত্ব ছাড়াও যখন যে দায়িত্ব উনাকে দেয়া হয়েছে তিনি দক্ষতার সাথে তা পালন করেন। এই সময় পরিচালিত সকল অভিযানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তুশতার অভিযানে তিনি পদাতিক বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। তুশতার বিজিত হয় এবং পারস্য সেনাপতি হরমুযানকে সপরিবারে বন্দী করে মুসলিম সিপাহসালার হযরত আবু মুসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মুখে আনয়ন করা হয়। হযরত আবু মুসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তিনশত সদস্যের একটি বাহিনীর হেফাজতে হরমুযানকে মদীনা শরীফে খলীফার দরবারে পাঠিয়ে দেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন এই বাহিনীর আমীর। (হায়াতুছ ছাহাবা)
কিছুদিন পবিত্র মদীনা শরীফে অবস্থান করার পরে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আবার বছরায় ফিরে যান।
পরবর্তী সম্মানিত খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমলে যেসব নতুন বিষয় মাথা চাড়া দিয়ে উঠে তিনি অতি সতর্কতার সাথে এসব আন্দোলন থেকে নিজকে দূরে রাখেন। অন্যান্য অনেক বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত তিনি নির্জনতা অবলম্বন করেন। এজন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে উটের যুদ্ধ ও অন্যান্য যুদ্ধে উনাকে কোন ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। এসব ঘটনায় তিনি স¤পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতের পরেও হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বহুদিন জীবিত ছিলেন। এই দীর্ঘ সময় তিনি নির্জনতা অবলম্বন করেন।
তা সত্ত্বেও স্বৈরাচারী উমাইয়া শাসকদের নির্যাতন থেকে তিনি বাঁচতে পারেননি। উমাইয়া প্রশাসনের প্রতিনিধি ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ একবার বছরায় এসে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শাসায় এবং জনগণের মধ্যে উনাকে হেয় করার জন্য উনার ঘাড়ে সীল মেরে দেয়। ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ বলেন, আমি এই ছাপ মারা অবস্থায় হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখেছি। হাজ্জাজ উনাকে আরো বলেছিলো, ওহে খবীছ! আপনি মুখতারের সাথেও থাকেন, আবার ইবনুল আশআসের সাথেও থাকেন। নাঊযুবিল্লাহ! আমি আপনাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি। নাঊযুবিল্লাহ! এমন কঠিন মুহূর্তেও হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নিজেকে আয়ত্বে রাখেন। শান্তভাবে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক আমীরকে সাহায্য করুন। আপনার শাস্তি কার জন্য?
হাজ্জাজ বললো, আপনার জন্য। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু চুপ থেকে বাড়ী ফিরে আসলেন এবং উমাইয়া শাসক আবদুল মালিকের নিকট হাজ্জাজের আচরণের বিবরণ দিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে দিলেন। চিঠি পড়ে শাসক আবদুল মালিক রাগে ফেটে পড়লো। সাথে সাথে সে হাজ্জাজকে লিখলো, তুমি খুব তাড়াতাড়ি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ী গিয়ে ক্ষমা চাও, নতুবা তোমার সাথে খুব খারাপ আচরণ করা হবে। শাসকের চিঠি পেয়ে হাজ্জাজ তার পরিষদবর্গসহ হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিদমতে হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। সে হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট আরো আবেদন জানায়, তিনি যে হাজ্জাজকে ক্ষমা করেছেন, সেই কথা যেন শাসককে জানিয়ে দেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তার আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সেই মর্মে একটি চিঠি দামেশকে পাঠিয়ে দেন। মূলত: ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এমন কঠিন ধৈর্য অবলম্বন করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, হায়াতুছ ছাহাবা) (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত لَهْوَ الْحَدِيثِ ‘লাহওয়াল হাদীছ’ হচ্ছে- “গান-বাজনা” যা সুস্পষ্টরূপে হারাম
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুলতান মাহমুদ গজনভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কিত দুইটি ঘটনা
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-৪)
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












