সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল,
সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৮)
, ২৪ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৭ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ১০ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কুরআন শরীফ হিফয:
সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মক্তর্বে ভর্তি করার সময় ওস্তাদগণ উনার সাথে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করলেন। অতঃপর উনাকে একান্ত প্রাথমিক স্তরের ছাত্র মনে করে শিক্ষক উনাকে তাঊজ-তাসমিয়া পড়ে শুনাতে বললেন। তিনি তাঊজ-তাসমিয়া পাঠ শেষে থামবেন, আবার ওস্তাদ দ্বিতীয় সবক প্রদান করবেন এটাই সাধারণ নিয়ম। কিন্তু ঘটে গেল অন্যরকম। সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রজীম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়ে আর থামলেন না। তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ-এর প্রথম সূরা হতে মুখস্থ পাঠ করতে লাগলেন। ওস্তাদজী উনাকে মুখস্থ পাঠ করতে দেখে মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন। বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি থামছিলেন না। তিনি নির্ভুলভাবে মধুর কণ্ঠে অনবরত পাঠ করে চললেন। ওস্তাদজী অবাক হয়ে উনার মধুর কণ্ঠের পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ শুনে চললেন। সময় চলে যেতে লাগলো। এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা এক পারা, দুই পারা তিন পারা এমনি করে আঠারো পারা পর্যন্ত পড়ে তিনি থেমে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই অলৌকিক কাজ দেখে ওস্তাদজী সবিস্ময়ে বললেন, প্রিয় শিশু! আপনি থামলেন কেন? আরও পাঠ করুন। আপনার তিলাওয়াত খুবই সুন্দর ও মধুর। শুনার আগ্রহ শুধু বাড়তেই থাকে। আমার শুনতে ইচ্ছা করছে। আপনি পড়ে যান।
বিনীত কণ্ঠে তিনি বললেন, ওস্তাদজী! আমি এ পর্যন্ত মুখস্থ করেছি। আম্মার রেহেম শরীফ-এ থেকেই ১৮ পারা পর্যন্ত মুখস্থ করেছিলাম। এখন বাকী অংশ আপনার কাছে শিখবো। ওস্তাদজী আরো বিস্ময় হয়ে উনাকে প্রশ্ন করলেন, এটা কি করে আপনি হিফয করলেন। সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হুযূর! আমার সম্মানিত মা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আঠারো পারার হাফিযা। আমি উনার রেহেম শরীফে থাকা অবস্থায় তিনি অধিকাংশ সময় তিলাওয়াত করতেন। আমি তা শুনতে পেতাম। এরূপ শুনে শুনে রেহেম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় আমার এ পর্যন্ত মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! বুযূর্গ ওস্তাদজী উনার মুখে এরূপ কথা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ হাত তুলে উনার জন্য দোয়া করলেন।
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ হাছিলের জন্য বাগদাদ শরীফ-এ গমন:
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফত, মুহব্বত, তায়াল্লুক, নিছবত হাছিলের ক্ষেত্রে ইলমের বিকল্প নেই। ইলিমহীন ব্যক্তি কখনও মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। তবে শুধুমাত্র ইলমে ফিক্বাহ বা যাহিরী ইলিম দ্বারা সে উদ্দেশ্য সফল হয় না। বরং ইলমে তাছাউফ-এ পূর্ণতা না থাকলে ইলমে ফিক্বাহ বা যাহিরী ইলিম অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাহান্নামী হওয়ার কারণ হয়। মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের থেকে বিমুখ হয়ে গইরুল্লাহতে মশগুল হতে হয়। যা স্পষ্টই গোমরাহী বা পথ ভ্রষ্টতা, কুফরী। সেহেতু ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষার পাশাপাশি ইলমে তাসাউফও জরুরত আন্দাজ শিক্ষা করা ফরযে আইন।
সঙ্গতকারণে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মাহবুব বান্দা ও উম্মতগণের মন ও মনন সবসময়ই এ দু’প্রকার ইলিম তালাশী হয়ে থাকেন। ইলিম তালাশের মধ্যে উনারা ইতমিনান পান। সারা দুনিয়ার সমস্ত ইলিম হাছিল করেও উনারা পরিতৃপ্ত হতে পারেন না। বরং হাছিলের এই আশা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতেই থাকে। গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আওলাদে রসূল, হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সম্মানিত পিতা হযরত আবু ছলেহ মুসা জঙ্গি দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উপস্থিতিতে গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সাংসারিক কোনো কাজ করতে হয়নি। তিনি কেবল পড়ালেখা ও ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকিরে রত থাকতেন। কিন্তু পিতার বিছাল শরীফ-এর পর পিতার একমাত্র সন্তান হওয়ার কারণে সংসারের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব উনারই উপর পড়ে। লোকের অভাবে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন বাজার করা থেকে শুরু করে গো-চারণ পর্যন্ত সাংসারিক যাবতীয় কার্যাবলী নিজেকেই করতে হতো। এগুলো উনার ইলিম হাছিল এবং ইবাদত-বন্দেগী, যিকির-ফিকিরে যথেষ্ট প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ালো। এসব কিছুই উনার সহ্য হচ্ছিলো না। পরিশেষে উনার মুবারক অন্তরের এ ব্যাকুলতার কথা যথাসময়ে মাতা উম্মুল খইর, আমাতুল জাব্বার, আওলাদে রসূল, হযরত ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানালেন। আর মায়ের কাছ থেকে আশানুরূপ জওয়াবই পেয়েছিলেন।
সতেরো বছর বয়স মুবারক অতিক্রম করে যখন আঠারো বছর বয়স মুবারক-এ একদা আরাফার দিনে তিনি গরু নিয়ে নিজের জমি চাষ করতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সেই গরু উনার দিকে ফিরে বললো-
يا عبد القادر مابـهذا خلقت وما بهذا امرت.
অর্থ: হে গাউছুল আ’যম, আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! এ কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয়নি। আর এ কাজের জন্য আপনাকে আদেশও করা হয়নি। ” (অসমাপ্ত)
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন খুলুকুন ‘আযীম উনার অধিকারী (৪)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৯)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












