সরকারের মন্ত্রীর হিসেবে হোটেলে প্রতিদিন ৫-৭ হাজার মরা মুরগি বিক্রি হয় আসলে বিক্রী হয় ১০-১২ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁয় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মরা মুরগি। দেখার কেউ নেই।
, ২৩ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৭ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২১ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মন্তব্য কলাম
নামি-দামি রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে ফুটপাতের খাবারের দোকান- সবখানেই মিলছে মরা মুরগি। এসব মরা মুরগি পুড়িয়ে ফেলা বা ধ্বংস করার নিয়ম থাকলেও একটি চক্র আড়ত থেকে মরা মুরগি সংগ্রহ করে বিক্রি করছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। রাজধানীতে মরা মুরগি বিক্রেতা চক্র আবার সক্রিয়। নামি-দামি হোটেলগুলোতে তারা নিয়মিত মরা মুরগির যোগান দিয়ে যাচ্ছে। হোটেল মালিকের অজান্তেই সিন্ডিকেট এ ধরণের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। চায়নিজ থেকে শুরু করে গুলশান, বনানী ও উত্তরার নামি-দামি হোটেলেও মরা মুরগি সরবরাহ করে এই চক্র। ঢাকার তিনটি বৃহৎ মুরগির আড়ত তেজগাঁও, কাপ্তান বাজার এবং ফকিরাপুল থেকে মরা মুরগি সরাসরি চলে যাচ্ছে এসব হোটেল রেস্টুরেন্টে। বিপণি বিতানেও বিক্রি হচ্ছে মরা মুরগি। ভোক্তারা না জেনেই সেগুলো দেদারছে খাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী ঢাকার তেজগাঁও, কাপ্তান বাজার এবং ফকিরাপুল মুরগির আড়ত থেকে প্রতিদিন দেড় লাখের অধিক মুরগি বিক্রি হয়। এসব মুরগির বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাঁ, বিপণি বিতান ও বাসাবাড়িতে খাওয়ার জন্য বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে ট্রাকযোগে ঢাকায় আনা হয় মুরগিগুলো। জানা গেছে, ঢাকায় পৌঁছাতে অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর মধ্যে ফার্মের মুরগি, যাদের সহনক্ষমতা একেবারেই কম দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসতে মারা যায়। কিছু মারা যায় ট্রাকে চাপাচাপির কারণে। আবার যেসব মুরগির সহনক্ষমতা কম একটু গরমেই হিটস্ট্রোকে এগুলো মারা যায়। মরা মুরগি বিক্রেতাদের হিসাব মতে, প্রতিদিন ৩ হাজারেরও বেশি মুরগি ঢাকায় আনতে মারা যায়। আবার গরম বেশি পড়লে মরা মুরগির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। কোনো কোনো মুরগি যেগুলো ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা আগে মারা যায় সেগুলোও ঢাকায় আসতে আসতে গন্ধ ছড়ায়।
মুরগি বহনকারী ট্রাক ঢাকায় আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জনের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে মুরগি সংগ্রহের কাজে। প্রত্যেক ট্রাকে ১০ থেকে ১৫টি মরা মুরগি পাওয়া যায়। চক্রটি মরা মুরগিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে আড়তের আড়ালে নিয়ে যায় এবং চামড়া ছাড়িয়ে ফেলে। একবার চামড়া ছাড়িয়ে নিলে কেউ আর বুঝতে পারে না যে মুরগিগুলো মরা ছিল। আবার যেসব মুরগি মরে গন্ধ বের হয় সেগুলোতে লেবুর রস স্প্রে করে পলিথিনে ভরে সরিয়ে ফেলে। এদের সঙ্গে আরেকটি চক্র জড়িত যারা তাদের কাছ থেকে মুরগি কিনে নিয়ে যায় উত্তরা, গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল রেন্টুরেন্ট ও বিপণি বিতানে। ৪০ টাকায় কেনা এসব মুরগি নামি-দামি এসব হোটেল ও বিপণি বিতানে বিক্রি হয় ২শ’ টাকায়। তখন কেউ আর বুঝতে পারে না মুরগিগুলো মরা ছিল। আর না বুঝে অনেকে মরা মুরগি কিনে বাসায় নিয়ে যায়। আবার হোটেলেও খাবার হিসেবে বিক্রি হয়।
এভাবে রাজধানীসহ সারা দেশের হোটেল রেস্তোরাঁয় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মরা মুরগি। এসব ব্যবসার সঙ্গে অর্ধশত শক্তিশালী চক্র জড়িত। চক্রের সদস্যদের সহযোগিতা করছে স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও ডিসিসির বাজার শাখার অসৎ কর্মচারীরা। মাঝে মধ্যে মুরগি ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসীরা পুলিশকে দিয়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিচ্ছে।
হোটেল মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব কেনা-বেচা করছে প্রতারকরা। মরা মুরগি নিয়ে গোয়েন্দারা ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানতে পারে, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও ডিসিসির বাজার শাখার কিছু কর্মচারী এ ঘটনায় জড়িত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রায় এক লাখ মরা মুরগি কেনা-বেচা হচ্ছে বলে অসৎ চক্রের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। মরা মুরগিগুলো এমনভাবে হোটেলে আনা হয় যে কেউ দেখলে মনে করবে হালালভাবে জবাই করে এগুলো আনা হয়েছে। প্রতারকরা মরা মুরগি কেটে লেবু ও পানি মিশিয়ে মুরগির পুরো শরীরে ছিটিয়ে দেয়। আবার ভালো মুরগি জবাই করা রক্ত এনে মরা মুরগির শরীরে লাগিয়ে দেয়া হয়। পরে এগুলোর শরীর থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।
প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে আড়ত থেকে মরা মুরগিগুলো অন্যত্রে সরিয়ে নিচ্ছে। প্রতারক চক্রের এক সদস্য জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে ঢাকার নামি-দামি হোটেলগুলোতে মরা মুরগি সাপ্লাই দিয়ে আসছি। এই এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে প্রকৃত মুরগি ব্যবসায়ীরা এসব কাজে জড়াচ্ছে না। পুলিশকে প্রতি মাসে টাকা দিতে হচ্ছে। আবার ডিসিসির একাধিক কর্মচারী প্রতারকদের সহযোগিতা করছে।
মরা মুরগি চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুড ও রাস্তার পাশে কিংবা পাড়া-মহল্লার খাবার হোটেলে চাহিদা বেশি। জানা গেছে, মরা মুরগির গোশত নরম তাই এ গোশত দিয়ে স্যূপ তৈরি করা হয়। ফাস্ট ফুডে মুরগির তৈরি সব খাবারে এই মরা মুরগি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া এক শ্রেণীর নামি-দামি হোটেলেও মরা মুরগি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কারণ হিসেবে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, অধিক মুনাফার লোভে ওইসব হোটেল মালিকরা কিংবা মালিকদের অজ্ঞাতে ম্যানেজাররা মরা মুরগি ক্রয় করে থাকে।
মূলত: এই মরা মুরগীর ব্যবসা করে প্রতারক গং লাখোপতি থেকে কোটিপতি বনে গেছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার ভান করছে। তাদের নাকের ডগায়ই সব চলছে। মূলত কমিশন বাণিজ্য দিয়েই বহাল তবিয়তে এই মরা মুরগির ব্যবসা চলছে। যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মরা মুরগির ব্যবসা ধরার কথা সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিজেই মারা গেছে। তাহলে মরা মুরগিওয়ালাদের ধরবে কে?
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মার্কিন দূত যে বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে গেলো, সরকারকে হুমকী-ধামকি দিলো তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ হলো কৈ? সরকারী দল, বিরোধী দল, তথাকথিত সব ইসলামিক দল থেকে সব সুশীল, চিন্তাশীল, বিশ্লেষক তথা সব মহল কেউই কিন্তু প্রতিবাদ করলো না
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১৬৮ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ। এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক কৌশল বাড়ানো উচিত
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিএনপির নেতা কর্মী বর্তমান উপদেষ্টা মন্ত্রীরা-এমপিরাও, সুদী মহাজন ও বড় চোর, সমকামীমনা, ১২৬ মামলার আসামী, দেশ বিক্রিকারী মার্কিন চুক্তিকারী, ক্ষমতার মসনদে বসে অর্থ লুটকারী, অন্যায় সুবিধা গ্রহণকারী, পাহাড় সম অপরাধ মব-সন্ত্রাসের জনক কুখ্যাত ইউনুসের প্রতি ভীষণ বীতশ্রদ্ধ।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এই কুলাঙ্গার আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে, রাষ্টের শীর্ষ পদে তথা প্রেসিডেন্ট পদে আলোচনায় আসে কি করে? নেপথ্যে কি মার্কিন দূত গর? অথচ “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়”- বিএনপির শ্লোগান
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আম্রিকা, চীন, ভারত, রাশিয়া সবার নজর বাংলাদেশের দিকে।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে চলছে শোষণ প্রকল্প।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর দ্বীনদার ব্যক্তির জন্য দ্বীন ইসলামই সবচেয়ে বড়
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইহুদীরাই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বানায়, নামায় তথা আমেরিকা চালায়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘ছবি’ ও ‘বেপর্দা’- বর্তমানে সমস্ত পাপ কাজের মূল উৎস
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তেল আমদানিতে আমাদের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, এতে আমাদের রিজার্ভে চাপ পড়ে। সমস্যা কৃষকের সক্ষমতায় নয়, বরং নীতিগত অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের ঘাটতিতে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












