পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (২)
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
১১ হিজরী, ৩০শে ছফর শরীফ, ইয়াওমুল আরবিয়া উনার ঘটনা মুবারক:
সেই বরকতপূর্ণ দিনটি ছিলো পবিত্র ছফর শরীফ মাসের ৩০ তারিখ, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)। সকাল বেলা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আমার নিকট কে আছেন?” একথা শুনা মাত্রই উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি দ্রুত এসে বললেন- “আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোন। ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি উপস্থিত আছি।”
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে উম্মু আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম! আমার সম্মানিত নূরুল হুদা তথা মাথা মুবারকের ব্যাথা যেন শেষ হয়ে গেছে। সম্মানিত নূরুর রহমাহ তথা শরীর মুবারকও অনেকটা হালকা মনে হচ্ছে। আমি আজ ছিহহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি। অর্থাৎ সুস্থতা অনুভব করছি।” এই কথা শুনে উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। অতঃপর পানি এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা তথা মাথা মুবারক ধুয়ে দিলেন।
তারপর মহাসম্মানিত নূরুর রহমাহ তথা সমস্ত শরীর মুবারকে পানি ঢেলে দিলেন গোসল করে দিলেন। এই গোসল মুবারকের ফলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুর রহমাহ তথা শরীর মুবারক হতে বহু দিনের মারীদ্বী শান তথা ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়ে গেলো। পরে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খাবার মুবারক কিছু আছে কি?
উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, “জী; হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কিছু রুটি আছে।” নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- “আমার জন্য উহা নিয়ে আসুন। আর সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে খবর দিন। তিনি যেন উনার দুইজন আওলাদ- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেরকে সাথে নিয়ে তাড়াতাড়ি চলে আসেন।
উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে খবর দিলেন। আর পবিত্র হুজরা শরীফে যে খাবার মুবারক তৈরি ছিলো, তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে উপস্থিত করলেন। ইতিমধ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত দুইজন আওলাদ- হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদেরকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হলেন।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত আদরের কন্যা সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আন নূরুর রবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নূরুল মালাহাহ মুবারক অর্থাৎ কপাল মুবারকে বুছা দিলেন। উনাকে জড়িয়ে স্নেহের পরশ বুলালেন। পরম আদরের নাতিদ্বয়ের কপাল মুবারকেও বুছা মুবারক দিয়ে নিজের সাথে আহারে শরীক করলেন। কয়েক লোকমা খাবার খাওয়ার পরেই অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনারা এসে হাজির হলেন। পরক্ষণেই অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উপস্থিত হলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আবেগভরা কন্ঠে ইরশাদ মুবারক করেন-
أصحابي واخواني - كَيْفَ ها لَكُم بفراقي مِن بعدى ـ
অর্থ: হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! হে আমার ভাইয়েরা!! আমার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর আপনাদের অবস্থা কেমন হবে?
একথা শোনামাত্রই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আকুল-ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে লাগলেন। উনাদের এই আকুলতা ও বিহ্বলতা দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে সান্ত¡না দিলেন। আর ইরশাদ মুবারক করলেন, সকলের পক্ষ হতে তিনিই সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদার মুবারকে যাচ্ছেন বলে ব্যক্ত করলেন। ইহাতে উনারা শান্ত ও আশ^স্ত হলেন। অতঃপর নূরে মুজসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ মুবারক নিলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সেখানে উপস্থিত হলেন।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“সেদিন আমার ক্বইয়ূমিয়াতের হাল এমনভাবে প্রবল হয়েছিল যে, আমি যদি আসমানকে যমীন এবং যমীনকে আসমান হতে বলতাম তাহলে তাই হতো।” সুবহানাল্লাহ!
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
১১ হিজরী সনের পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারের সঠিক তারিখ প্রসঙ্গে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আখেরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার শরঈ আহকাম (১)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদেরকে ঈমান থেকে সরিয়ে দিতে কাফিরগুলো সবসময় চেষ্টা করে থাকে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












