সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ঈমানদীপ্ত ঐতিহ্য (২৩)
হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঈমানদীপ্ত শাহাদাত
, ০৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৬ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৫, মে, ২০২৪ খ্রি:, ০১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত আবু বছীর বিন আসীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বণী সাকীফ গোত্রের এক ঈমানদীপ্ত নওজোয়ান। যিনি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে ঈমান আনেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনায় উনার প্রসঙ্গ বর্ণিত রয়েছে। হুদায়বিয়ার ঐতিহাসিক সন্ধি চূড়ান্ত হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদীনা শরীফে তাশরীফ আনেন। তখন নওজোয়ান ছাহাবী হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মক্কা শরীফে অত্যাচারী কুরাঈশদের কবল হতে আত্মরক্ষা করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকে (ক্বদম মুবারকে) উপস্থিত হয়ে দ্বীন ইসলামের খাতিরে আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। উনার পিছু পিছু মক্কা শরীফের দু’জন কাফির প্রতিনিধিও এসে হাযির হলো। তারা সন্ধির শর্ত মতে হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানালো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ধৈর্য্য অবলম্বনের নছীহত মুবারক করে কুরাঈশ প্রতিনিধিদের নিকট ফিরিয়ে দিলেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ মুবারক শিরোধার্য করে হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে তিনি কুরাঈশ প্রতিনিধিদ্বয়ের একজনকে বললেন, তোমার তরবারীখানাতো খুবই ধারালো বলে মনে হচ্ছে! তখন সে ব্যক্তি গর্বে আত্মবিস্মৃত হয়ে খাপ হতে তরবারী বের করে বললো, হ্যাঁ আমি এই তরবারীর ধার বহু লোকের উপর পরখ করেছি। এই বলে সে তরবারীটি হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে দেয়া মাত্রই তিনি তরবারীর ধার সেই কাফির প্রতিনিধির উপর পরখ করে তাকে হত্যা করলেন। এতে দ্বিতীয় ব্যক্তি ভয়ে তটস্থ হয়ে পালানোর পথ খুজতে লাগলো। একজনের পালাতো শেষ হলো এবার বুঝি আমার পালা। এ চিন্তা করে সে নিজের জীবন নিয়ে কোনমতে পালিয়ে ফের মদীনা শরীফে চলে আসলো। এসেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে অভিযোগ করলো, হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আমার সাথীকে হত্যা করেছেন। কোন মতে পলায়ন করে আমি আসতে পেরেছি।
এমন সময় হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিতো সন্ধির শর্ত মুতাবিক আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমার সাথে তো এদের কোন চুক্তি ছিল না। এখনও কি আমি আপনার ছোহবতে থাকতে পারবো না? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত শান্ত মধুরভাবে বিবেচনা করে জাওয়াব দিলেন, না এখন নয়।
অতএব, ফের কাফির প্রতিনিধির সাথে মক্কা শরীফের কাফির-মুশরিকদের নিকট ফিরে যেতে হবে নিশ্চিত হয়ে কালবিলম্ব না করেই হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফ ত্যাগ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি সুরক্ষিত উপত্যকায় আশ্রয় নিলেন। মক্কা শরীফের কাফির-মুশরিকদের দ্বারা অত্যাচারিত অন্যান্য অনেক মুসলমানও একইভাবে হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে যোগ দিতে লাগলেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে সেখানে মুসলমানদের একটি ছোট-খাট দুর্গ গড়ে উঠলো।
হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সংখ্যা যখন ক্রমশ বাড়তে লাগলো; তখন উনারা মক্কা শরীফের কুরাঈশদের সিরিয়াগামী বাণিজ্য কাফেলার উপর অতর্কিত গুপ্ত হামলা চালাতে লাগলেন। দফায় দফায় আক্রমণ এমন তীব্র গেল যে, বাধ্য হয়ে কুরাঈশরা নিজেরাই শত সহস্র কারণ দর্শিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট ফরিয়াদ করে চুক্তির পঞ্চম শর্তটি বাতিল করলো।
সন্ধি চুক্তির পঞ্চম শর্তটি বাতিলের মুবারক ফরমান যখন সমুদ্র উপকূলবর্তী উপত্যকার মুহাজিরীন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট পৌঁছলো ঠিক সেই সময় হযরত আবু বছীর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন আহত। এবং অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায়। তিনি চরম পরম মুহব্বতে আবেগাপ্লুত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আগত মহাপ্রত্যাশিত ফরমান মুবারকখানি হাতে নিয়ে চুমু খেলেন এবং সে অবস্থায়ই শাহাদাত বরণ করলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
ঈমানদীপ্ত ইবরত:
সত্যিই যাদের অন্তর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতের দাবিদার এবং উনার প্রতি আনুগত্যশীল, উনারা ঈমান আনার মত ঈমান আনার পর আর কিছুতেই বেঈমান কাফির-মুশরিকদের সংস্পর্শ বরদাশত করেন না। সেটাই বিশেষভাবে জাহির হয়েছে হযরত আবু বছীর বিন আসীদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আত্মত্যাগে।
অথচ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আত্মত্যাগে প্রাপ্ত দ্বীন ইসলামের অনুসারী দাবিদার বর্তমান যামানার মুসলমানরা ঈমান আনার পর কাফির-মুশরিকদের নানাবিধ ধোঁকা-প্রলোভনে পড়ে কুফরী শিরিকীতে মগ্ন হয়ে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
যা থেকে পরিত্রাণ পেতে উম্মাহ্র সকলকেই মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবত লাভে ধন্য হয়ে ইছলাহ হাছিল করা ঈমানী দায়িত্ব-কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।
-মুহম্মদ মুহাজিরুল ইসলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












