আপনাদের মতামত
শুধু তুরস্ক নয়, গাজা পুনর্গঠনে গোটা মুসলিম বিশ্বের এখনি ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ইনশাআল্লাহ
, ১০ই শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৩তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২৭ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আপনাদের মতামত
গাজা যুদ্ধের প্রথম থেকেই সব আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি উপেক্ষা করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বেসামরিক লোকজন, অ্যাম্বুলেন্স, শিশু ও বৃদ্ধদের লক্ষ্যে পরিণত করেছে। নির্বিচারে বেসামরিক জনগণ ও স্থাপনার ওপর হামলা করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়াসহ (৩১ জুলাই নিহত) ৪৬ হাজার ৯১৩ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ জন আহত হয়। তবে যুদ্ধে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের চেয়ে ৪১ শতাংশ বেশি বলে ৯ জানুয়ারি চিকিৎসা-বিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে গাজায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ও আংশিক ধ্বংস হয়েছে, যা গাজার মোট ভবনের ৭০ শতাংশ। গাজার ২৩ লাখ অধিবাসীর মধ্যে ১৯ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) অথবা প্রতিবেশী দেশে উদ্বাস্তু (শরণার্থী) হয়েছে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ। গাজার ৬৭ শতাংশ আবাদি জমি ৮৫ হাজার টন বোমার বিস্ফোরণে এখন চাষাবাদের অযোগ্য। গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালগুলোর ৫০ শতাংশই বন্ধ অথবা বন্ধপ্রায়, যা জ্বালানি অনিশ্চয়তা না কাটালে বন্ধ হয়ে যাবে যে কোনো সময়।
জেনেভা কনভেনশন (১৯৪৯) অনুসারে যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুদ্ধাহত, যুদ্ধবন্দি এবং বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার নিরাপত্তা দিতে কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী ১৯৬টি দেশগুলো অঙ্গীকারবদ্ধ। কনভেনশন অনুসারে যুদ্ধকালে সাংস্কৃতিক সম্পত্তি ও ঐতিহ্য, ধর্মীয় কেন্দ্র/উপাসনালয়, হাসপাতাল, সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল ইউনিটের যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, রেড ক্রস স্থাপনা ইত্যাদির সুরক্ষা প্রদানে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো অঙ্গীকারবদ্ধ। উপরন্তু কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী যুদ্ধে লিপ্ত রাষ্ট্রগুলো আরও কিছু বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেমন আহত সৈন্যের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘœ ওষুধ, পানি, খাদ্য পরিবহন ইত্যাদি। বাস্তবে আইডিএফ অ্যাম্বুলেন্স, মসজিদ, চার্চ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থাপনা, স্কুল, বাড়িঘরসহ বেসামরিক স্থাপনা সবকিছুতেই আক্রমণ করছে। অনেকবার আইডিএফ ত্রাণ পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। কেবল বেসামরিক জনগণই শুধু নয়, হত্যা করেছে ১৩ হাজার ৩১৯ শিশুকে। বেঁচে থাকা ৯০ শতাংশ শিশু এখন পুষ্টিহীনতার শিকার।
আইডিএফের আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৬০ জন চিকিৎসক এবং ৩৪১ জন ত্রাণকর্মী। এমনকি মৃত সৈন্য ও বেসামরিক মানুষকেও অসম্মান দেখিয়ে গাড়ির সামনে ঝুলিয়ে ছুটে চলে জেনেভা কনভেনশনকে উপেক্ষা করেছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৫১ সালে জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। আইডিএফ শরণার্থীদেরও নিরাপদ থাকতে দেয়নি। অধিকাংশই একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়েছে, যা ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ রিফিউজি কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কনভেনশনের প্রথম অঙ্গীকারই- শরণার্থীদের নিজ আশ্রয়স্থল থেকে বিতাড়িত করা যাবে না; তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। ইসরায়েল বারবার হুমকি দিয়েছে- যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণ না হলে যে কোনো সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হবে। এমনই পরিস্থিতিতে গাজার ৯১ শতাংশ মানুষ এখন খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে আছে। যুদ্ধে গাজার ৫ হাজার ৩২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (৯৫ শতাংশ) ধ্বংস হয়েছে। ফলে ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু এখন শিক্ষাবঞ্চিত। গাজার ১৯ লাখ আইডিপি বা উদ্বাস্তু বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও তাদের ঘর এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ; জাতিসংঘের হিসাব অনুসারেই তা পরিষ্কার করতে কমপক্ষে ১৫ বছর সময় লাগবে।
দীর্ঘ ১৫ মাস অমানবিকতার শিকার গাজাবাসীর জন্য এখন প্রয়োজন নিরাপদ বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা। পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের জন্য দরকার মনোসামাজিক সহায়তা (সাইকো-সোশ্যাল সাপোর্ট-পিএসএস), যে কোনো দুর্যোগ-পরবর্তীকালীন পুনরুদ্ধার উদ্যোগে যা অগ্রাধিকারযোগ্য। জাতিসংঘের এক হিসাব অনুযায়ী, গাজার ১০ লাখ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দরকার।
এরদোয়ান বলেছেন, গাজাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে তার দেশ তুরস্ক সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। শুধু তুরস্ক নয়, সৌদী আরব, কাতার, ব্রুনাই সহ ধনী মুসলিম দেশেরও গাজা পূর্ণগঠনে অকাতরে সাহায্য করা উচিৎ।
সর্বোচ্চ সহায়তার হাত বাড়ানো উচিৎ। যথাসম্ভব দ্রুত সাহায্যের কাজে নেমে পড়া উচিৎ ইনশাআল্লাহ।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












