যে বনসাইয়ের দাম ১৬ কোটি টাকা!
, ০২ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পাঁচ মিশালী
বনসাই হলো গাছকে ছোট করে রাখার এক বিশেষ শিল্প। এটি জাপানি শব্দ, যেখানে ‘বন’ (ইড়হ) মানে ‘পাত্র’ আর ‘সাই’ (ঝধর) মানে ‘বোনা’ বা ‘রোপণ করা’। অর্থাৎ, পাত্রে গাছ রোপণ করে তাকে ছোট আকৃতিতে রাখা হলো বনসাই।
বনসাই আসলে ছোট কোনো সাধারণ গাছ নয়। এটি দেখতে বড় গাছের মতোই, তবে আকারে অনেক ছোট। শিল্পীরা কিছু বিশেষ পদ্ধতি মেনে গাছগুলোকে এমন ছোট করে রাখে। এর জন্য তারা গাছের ডালপালা ছাঁটে, শেকড় কাটে, তার দিয়ে ডালকে সুন্দর আকার দেয়। বিশেষ ধরনের পাত্রে রোপণ করে।
এখন পর্যন্ত বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি বনসাই গাছটি হলো একটি ৮০০ বছরের পুরোনো জাপানি সাদা পাইন। ২০১১ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক বনসাই ও সুইসেকি কনভেনশন ও প্রদর্শনীতে ওই গাছটি বিক্রি হয় ১০ কোটি জাপানি ইয়েনে। যার মূল্য ডলারে ১.৩ মিলিয়ন এবং টাকায় প্রায় ১৬ কোটি। গাছটি দেখতে বেশ বড়, এর কা-গুলো খুব সুন্দর এবং গাছটাও বেশ তরতাজা।
বনসাই শিল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- একটি সম্পূর্ণ গাছকে প্রকৃতির মতো করে একটি ছোট স্থানে বড় করে তোলা। যেখানে গাছের বয়স বাড়লেও আকার থাকবে ছোট।
নামটা জাপানি হলেও বনসাই শিল্পের শুরুটা কিন্তু জাপানে নয়। এটা শুরু হয় প্রাচীন চীনে। প্রায় ২ হাজার বছর আগে চীনে ‘পেনজিং’ নামে এক ধরনের শিল্পকলা প্রচলিত ছিলো। এই পেনজিং-এর মাধ্যমে ছোট পাত্রে প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হতো। যার মধ্যে গাছ, পাথর ও মাটি থাকতো।
নবম শতাব্দীর দিকে এই পেনজিং শিল্প চীন থেকে জাপানে আসে। জাপানে এসে এটি ‘বনসাই’ নামে নতুন রূপ নেয়। পরে এটিই একটি স্বতন্ত্র শিল্প হিসেবে বিকশিত হয়। জাপানিরা পেনজিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গাছকে আরও সহজ করে বানানো শুরু হয়। জাপানিদের কাছে বনসাই হলো ধৈর্য ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাপানে বনসাই এক অভিজাত শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তখন থেকে বনসাই জাপানের সামুরাই যোদ্ধা ও সমাজের উচ্চ শ্রেণির মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
একটি বনসাইয়ের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। গাছ যত পুরোনো আর বিরল জাতের হবে, এর দাম তত বেশি হবে। শত শত বছরের পুরোনো বনসাইগুলোকে সাধারণ গাছ না বলে এক একটা শিল্পকর্ম হিসেবে দেখা হয়। একটা সুন্দর বনসাই তৈরি করতে একজন শিল্পীর অনেক বছরের দক্ষতা ও প্রচুর পরিশ্রম লাগে। তাই, যিনি যত দক্ষ, তার তৈরি বনসাইয়ের চাহিদা ও দাম তত বেশি হয়।
বনসাইয়ের আকার, ডালপালার সাজানো ধরন, কা-ের গঠন এবং সম্পূর্ণ গাছটি দেখতে কতটা প্রাকৃতিক ও সুন্দর লাগছে- এগুলোও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে জাপানের ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে তৈরি বনসাইগুলো খুব মূল্যবান হয়। কিছু গাছের প্রজাতি এমনিতেই বিরল ও এদের যতœ নেওয়া কঠিন। এমন গাছের বনসাইয়ের দাম স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। কিছু বনসাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসে, যার একটা ঐতিহাসিক মূল্য থাকে। এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব এদের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় বনসাই বিক্রি হয়। যেগুলোর দামও আসলে লাখ টাকা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঈদে সুস্থ থাকতে মিষ্টি ও ভারী খাবার, ডায়াবেটিস রোগীরা সতর্ক থাকবেন যেভাবে
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ঈদে ভিড় বাড়ে টাকার হাটে
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইফতারের পর ক্লান্ত লাগার কারণ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জার্মানিতে সাহরি ও ইফতার
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
এবারও বাড়েনি ‘বিশেষ ট্রেন’, ভোগান্তির আশঙ্কা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
খারগ দ্বীপকে ইরানের লাইফলাইন বলা হয় কেন?
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইফতারে কোন মুসলিম দেশে কী খাওয়া হয়? (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইফতারে কোন মুসলিম দেশে কী খাওয়া হয়? (১)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আকসিম্পক ঝড়ের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার চীনের জিনজিয়াং। ইফতারে কোন মুসলিম দেশে কী খাওয়া হয়? (১)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তিনি
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খেজুর সম্পর্কে এই তথ্যগুলো জেনে নিন
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ঘুমের আগে মোবাইল চালানোর অভ্যাসে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












