যা কিছু ‘কালো’ তার সাথে ‘প্রথম কালো’ প্রথম কালো এবং তার সহযোগী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ‘দালাল- এ ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা’- পদ্মা ব্যারাজের বিরোধীতায় নেমেছে।
এদের শক্ত হাতে দমনে সরকার জনতাকে জাগ্রত হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
, ২৪ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মন্তব্য কলাম
গত ১৩ই মে প্রথম আলো সংবাদ শিরোনাম করেছে- ‘প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ: একটি অপচয়মূলক ও ক্ষতিকর প্রকল্প’
যুক্তি হিসেবে বলেছে- এই প্রকল্পের ফলে ভারতের কাছে গঙ্গার হিস্যা আদায়ের প্রচেষ্টার আর সুযোগ থাকবে না। কারণ, ভারত জানাবে যে পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।
গতকাল ৮ই জুলাই, ২০২৬ ‘পদ্মা ব্যারাজ কি আশীর্বাদ, না নতুন অনিশ্চয়তা’- শীর্ষক কলাম প্রথম আলো মন্তব্য করেছে:
‘গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হলো উজানের পানিপ্রবাহের অনিশ্চয়তা। পদ্মা ব্যারাজের সাফল্য সম্পূর্ণ নির্ভর করবে ভারত থেকে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে কি না তার ওপর। কিন্তু বিদ্যমান গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ীও বাংলাদেশ বহু সময় তার ন্যায্য হিস্যা পায়নি। যদি ভবিষ্যতে উজানের প্রবাহ আরও কমে যায়, তাহলে ব্যারাজে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।’
অর্থাৎ প্রথম আলো চায় যে বাংলাদেশ পানির জন্য সব সময় ভারত মুখাপেক্ষী হয়ে থাকুক। ভারতকে বার বার তোয়াজ করুক। পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বনির্ভর থাকুক এটা প্রথম আলোর পছন্দ নয়।
পদ্মায় ব্যারাজ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের ২৪টি জেলার পানিসঙ্কট নিরসন হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
প্রায় ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুমোদন পেয়েছে দেশের বহুল আলোচিত এ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
(১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর আশপাশের ২৪টি জেলার পানিসঙ্কট নিরসন হবে, যার ফলে প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গড়াই-মধুমতি, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
এক্ষেত্রে ব্যারাজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
এরপর সেই পানি দিয়ে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেয়া হবে বলে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেটি সম্ভব হলে দেশে আরো প্রায় ২৪ লাখ টন ধান এবং সোয়া দুই লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা।
দেশের উত্তর, দক্ষিণ পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলার মানুষ এই প্রকল্পের দ্বারা দারুণভাবে উপকৃত হবে। লাখ লাখ টন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও প্রকল্প থেকে অন্তত ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশ বিরোধী তথাকথিত পরিবেশবাদী এবং ভারতপ্রেমীদের মধ্যে কিছুটা গাত্রদাহ দেখা দিয়েছে। তারা ভারতের পানি আগ্রাসনের বিপক্ষে নিরবতা অবলম্বন করলেও গঙ্গা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিতে চাইছে। দিল্লির কাছে মাথা বেচে দেয়া পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি এবং ‘প্রথম কালো’ এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিরোধিতা করার পায়তারা করছে।
যারা ভারতের সাথে আলোচনার প্রশ্ন তুলছেন, তাদের প্রতি শক্ত জবাব দিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি যথাযথ বলেছেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ আমাদের নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনার কিছু নেই’।
পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মুরুময়তা থেকে বাঁচাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আমাদের জন্য শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয় বরং চরম প্রয়োজনীয় ও বিশেষ উপকারী জাতীয় প্রকল্প।
সুতরাং এর বিরোধীদের শক্ত হাতে দমনে সরকার জনতাকে সমন্বিতভাবে জাগ্রত হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৌশলগত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা: সচেতনতা বনাম আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে "যুদ্ধের ট্রফি" হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (৩)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তবে কি সাবেক সরকারের অসমাপ্ত ষড়যন্ত্রের সমাপনীর পথেই হাটতে চাইছে বর্তমান সরকার?
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (১)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দুই শক্তির পথচলা এক। গুঞ্জন চলছে আমেরিাকা জামাতকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশকে লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাকের মত করতে চায়
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা ও বহুমাত্রিক সার্ভে প্রযুক্তি: তুরস্ক, ইরান এবং পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার রোডম্যাপ (পর্ব-১১)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কৃষি শিল্পায়ন যথাযথভাবে করলে দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বঙ্গপোসাগরের শুধু টুনা মাছ বিক্রি করে বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভারতকে বুঝতে হবে তাদের সে দিন শেষ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রয়োজন শরয়ী সর্বোচ্চ শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












