ফতওয়া:
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
, ০৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
সুওয়া’ মূর্তি ধ্বংস করার নির্দেশ মুবারক
১ম দলীল :
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একদল সৈন্যসহ হুযায়েল গোত্রের (سُوَاع) সুওয়া’ নামক বড় মূর্তিটি ধ্বংস করার জন্য প্রেরণ করেন।
২য় দলীল :
এটা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে রিহাত্ব নামক অঞ্চলে ছিলো। হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সেখানে পৌঁছলে মন্দির প্রহরী বললো, ‘আপনারা কি চান?’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন,
أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أهدمه
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন যে, আমি যেন এই মূর্তিটিকে ভেঙ্গে ফেলি।’ সে বললো, ‘আপনারা এটা ভাঙ্গতে সক্ষম হবেন না।’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘কেন?’ সে বললো, ‘আপনারা (প্রাকৃতিকভাবে) বাধাপ্রাপ্ত হবেন।’ হযরত আমর ইবনে আছ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তুমি এখনো বাত্বিল ধর্মের উপরে রয়েছ? সে কি শুনতে পায় অথবা দেখতে পায়?’ এ কথা বলেই তিনি كسره ঐ মূর্তিটাকে ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন। অতঃপর প্রহরীকে বললেন, এবার তোমার মত কি? সে বললো, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য আমি মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলাম।’ সুবহানাল্লাহ! (তারীখ ত্বাবারী ৩/৬৬, যাদুল মা‘আদ ৩/৩৬৫, ইবনে সা‘দ, ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ২/১৪৬ ইত্যাদি)
মানাত মূর্তি ধ্বংস করার নির্দেশ মুবারক
১ম দলীল :
(مَنَاة) মানাত নামক আরেকটি প্রসিদ্ধ মূর্তিটি ছিলো কুদাইদের নিকটবর্তী মুশাল্লাল নামক স্থানে। বিশেষ করে আউস, খাযরাজ, গাসসান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা এটার পূজা করতো। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর
بعث رسول اللَّه صلى اللَّه عليه وسلم حَضْرَتْ سعد بن زيد الأشهلي رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لهدمها فخرج في عشرين فارسا
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে (مَنَاة) মানাত নামক মূর্তিকে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তখন তিনি ২০ জন ঘোরসওয়ারী সৈন্য নিয়ে এই উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান।’
২য় দলীল :
উনারা সেখানে যান। অতঃপর হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মূর্তিটির দিকে অগ্রসর হওয়া মাত্রই বস্ত্রহীন, কুৎসিত কাল ও বিক্ষিপ্ত চুল বিশিষ্ট একটি মহিলাকে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে বের হয়ে আসতে দেখেন। এই সময় সে কেবল হায় হায় করছিলো।
فضربها حَضْرَتْ سعد بن زيد الأشهلي رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فقتلها وهدم محلها
‘তখন হযরত সা’দ ইবনে যায়েদ আশহালী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তরবারির এক আঘাতে তাকে ধ্বংস করে দিলেন। অতঃপর মন্দিরটিও ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৩)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭২)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭১)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৩)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭০)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৯)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (২)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৮)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












