মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৯)
, ২০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
পুরুষের ক্বমীছ ও মহিলাদের ক্বমীছের মধ্যে পার্থক্য :
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت دِحْيَةَ بْنِ خَلِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبَاطِيَّ فَأَعْطَانِي مِنْهَا قُبْطِيَّةً فَقَالَ اصْدَعْهَا صَدْعَيْنِ فَاقْطَعْ أَحَدَهُمَا قَمِيصًا وَأَعْطِ الْآخَرَ امْرَأَتَكَ تَخْتَمِرُ بِهِ فَلَمَّا أَدْبَرَ قَالَ وَأْمُرِ امْرَأَتَكَ أَنْ تَجْعَلَ تَحْتَهُ ثَوْبًا لَا يَصِفُهَا-
অর্থ: হযরত দিহইয়া ইবনে খলীফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে মিশরের তৈরী অনেকগুলি কাপড় নিয়ে আসা হলো। তিনি আমাকে একটি কাপড় হাদিয়া মুবারক করে বলেন যে, উক্ত কাপড়কে দু’টুকরা করে এক টুকরা দ্বারা আপনার আহলিয়ার জন্য ক্বমীছ তৈরী করুন, আর অন্য টুকরার দ্বারা ওড়না তৈরী করুন। যখন তিনি বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন, তখন তিনি পূনরায় নির্দেশ দিলেন যে, আপনার আহলিয়াকে বলবেন, তিনি যেন উক্ত ক্বমীছের নীচে অতিরিক্ত পোশাক (সেমিজ) পরিধান করে নেন, যাতে শরীরের গঠন অনুভব করা না যায়। (আবূ দাউদ শরীফ, কানযুল উম্মাল শরীফ, আল-হাকিম-৪/১৮৭, বাইহাক্বী শরীফ-২/২৩৪, তুহফাতুল আবরার শারহু মাছাবীহিস সুন্নাহ-৩/১৪৮, মায়া’লিমুস-সুনান-৪/২০০, মিরকাতুল মাফাতীহি শারহু মিশকাতিল মাছাবীহ-৭/২৭৯০)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো উল্লেখ রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه أَنَّ أَبَاهُ أُسَامَةَ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه قَالَ كَسَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبْطِيَّةً كَثِيفَةً كَانَتْ مِمَّا أهداها دحْيَة الْكَلْبِيّ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْه فسكوتها امْرَأَتِي فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم مَالك لَمْ تَلْبَسِ الْقُبْطِيَّةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَسَوْتُهَا امْرَأَتِي فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْهَا فَلْتَجْعَلْ تَحْتَهَا غِلالَةً إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَصِفَ حَجْمَ عِظَامِهَا-
অর্থ: হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহুমা তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, উনার পিতা বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে মিশরের তৈরী পাতলা কাপড়ের একটি ক্বমীছ মুবারক হাদিয়া করলেন। যে ক্বমীছ মুবারক হযরত দিহ্ইয়াতুল কলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছিলেন। হযরত উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু তিনি বলেন, আমি উক্ত ক্বমীছ মুবারক আমার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহা উনাকে পরিধান করার জন্য দিয়ে দিলাম। অতঃপর, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছুদিন পর আমাকে বললেন, হে উসামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়া’লা আনহু! আপনি কেন মিশরের তৈরী ক্বমীছটি পরিধান করেন না। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উক্ত ক্বমীছ মুবারকটি আমি আমার আহলিয়া উনাকে পরিধান করতে দিয়ে দিয়েছি। তখন মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বললেন, আপনি উনাকে নির্দেশ প্রদান করুন, যাতে উক্ত ক্বমীছের নীচে একটি গিলালাহ (সেমিজ) পরিধান করে নেন। কেননা, আমার আশঙ্কা হয় উক্ত পাতলা ক্বমীছ পরিধান করলে উনার শরীর বা দেহের গঠন প্রকাশ পেতে পারে। (মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে বাযযার-৭/৩০, মুসনাদে ইবনে আবী শাইবা-১/ ১২৬, নাইলুল আওতার-২/১৩৫, ইবনু সায়া’দ, ত্ববারানী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, আদ্ব-দ্বিয়াউ ফীল মুখতার)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ দু’টিতে শুধুমাত্র গিলালা ব্যতীত অন্য কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয় নাই। যার দ্বারা পুরুষ ও মহিলাদের ক্বমীছ প্রায় একই ধরনের হওয়া প্রমাণিত হলেও পুরুষ ও মহিলাদের ক্বমীছের মধ্যে কতিপয় পার্থক্য রয়েছে।
মহিলাদের ক্বমীছ এবং পুরুষের ক্বমীছের মধ্যে পার্থক্য:
১। ঝুলের ক্ষেত্রে: মহিলাদের ক্বামীছ পূর্ণ হাতা বিশিষ্ট নিছফে সাক্ব হতে হবে। নিছফে সাক্বের নীচে একহাত পরিমাণ ক্বামীছ ঝুলানো জায়িয। তবে তাদের ইযার, দোপাট্টা বা স্যালোয়ার পায়ের পাতাসহ সম্পূর্ণ অংগই ঢেকে রাখতে হবে। আর পুরুষের ক্বমীছ নিছফে সাক পর্যন্ত হওয়াই সুন্নত। পায়ের গোড়ালীর উপর পর্যন্ত পরিধান করা জায়িয।
২। রংয়ের ক্ষেত্রে: মহিলাদের জন্য লাল, হলুদ, রেশমীসহ যে কোন কাপড় এবং যে কোন রংয়ের ক্বমীছ বা পোশাক পরিধান করা সুন্নত। আর পুরুষের জন্য সাদা ক্বমীছ পরিধান করাই খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। লাল, হলুদ, কুসূম ও জাফরানী রংয়ের পোশাক পরিধান করা মাকরূহে তাহরিমী। উল্লেখিত পার্থক্য ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কোন পার্থক্য নাই।
-আল্লামা মুহম্মদ মুফিদুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলা জামায়াতের ব্যাপারে বাতিলপন্থীদের সুস্পষ্ট মুনাফিকীর নমুনা
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের জন্য মসজিদে নামায নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে ঘরেই ই’তিকাফ করতে হবে
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গাফলতি বা অসাবধানতা ও তার প্রতিকার
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (৮)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্য
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












