মহাসাগরের মাঝে মুসলিম দ্বীপ, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার অংশ!
, ১৫ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৯ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পাঁচ মিশালী
গুগল ম্যাপে ভারত মহাসাগরের গভীরে তাকালে চোখে পড়ে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জ-চারপাশে কেবল নীল পানিরাশি, হাজার কিলোমিটার দূরেও কোনো স্থলভাগের অস্তিত্ব নেই। এই অনিন্দ্য সুন্দর দ্বীপপুঞ্জের নাম কোকোস দ্বীপপুঞ্জ, যা আজ অস্ট্রেলিয়ার একটি বাইরের অঞ্চল। প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশেল এই দ্বীপপুঞ্জকে করে তুলেছে রহস্যময় ও মোহনীয়।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৬০৯ সালে এই দ্বীপ আবিষ্কার করা হয়। দীর্ঘদিন দ্বীপটি জনশূন্যই ছিলো, কারণ ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর কাছে এর তেমন গুরুত্ব ছিলো না।
পরবর্তীতে ১৮২৬ সালে দু’জন স্কটিশ নাবিক ও ব্যবসায়ী এখানে এসে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করে। তাদের একজন দ্বীপে নারকেল বাগান স্থাপন করেন এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে শ্রমিক আনেন। এখান থেকেই দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত হয় “কোকোস” বা “কোকোনাট” নামটি।
রস পরিবারের নিয়ন্ত্রণে দ্বীপটি একসময় তাদের ব্যক্তিগত রাজ্যে পরিণত হয়, এবং এখানকার মালয় শ্রমিকদের বংশধররাই আজকের কোকোসের মূল বাসিন্দা।
বর্তমানে দ্বীপটির অধিবাসীদের বেশিরভাগই কোকোস মালয় মুসলমান। তারা মালয় ভাষায় কথা বলেন, ইসলামী রীতি মেনে জীবনযাপন করেন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। ২৭টি দ্বীপের মধ্যে মাত্র দুটি- হোম আইল্যান্ড ও ওয়েস্ট আইল্যান্ডে মানুষের বসবাস রয়েছে। হোম আইল্যান্ডে মালয় মুসলিম সম্প্রদায় বসবাস করেন, আর ওয়েস্ট আইল্যান্ডে রয়েছে প্রশাসনিক দপ্তর, বিমানবন্দর ও স্কুল।
বিশ্বজুড়ে উপনিবেশগুলো যখন স্বাধীনতা পাচ্ছিলো, তখন কোকোস দ্বীপেরও ভাগ্য পরিবর্তন হয়। ১৯৫৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার বাইরের অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার রস পরিবারের কাছ থেকে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ক্রয় করে নেয়।
এরপর ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত গণভোটে দ্বীপবাসীরা সিদ্ধান্ত নেয়- তারা অস্ট্রেলিয়ার অধীনে থাকতে চায়। এর ফলে তারা পায় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, প্রশাসনিক সুরক্ষা এবং নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তা।
কোকোস দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য এককথায় বিস্ময়কর। * নর্থ কোকোস দ্বীপ ও আশপাশের এলাকা ‘পুলো কিলিং ন্যাশনাল পার্ক’ নামে পরিচিত। এখানে রয়েছে অসংখ্য এন্ডেমিক স্পেসিস-অর্থাৎ এমন প্রাণী ও পাখি যাদের পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো বাফ ব্যান্ডেড রেল, ছোট ও দ্রুতগতির এক দুর্লভ পাখি।
এছাড়া রয়েছে রঙিন প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও স্পঞ্জ, যা এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমে পরিণত করেছে।
পরিবেশ রক্ষায় অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর। একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৪৪ জন পর্যটককে দ্বীপে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখানকার পরিবেশ এখনো শান্ত, নির্মল ও প্রায় অক্ষত। নারকেল গাছের সারি, নরম বালুকাবেলা আর নীল সমুদ্রের ঢেউ মিলে এটি যেন সত্যিকারের এক স্বপ্নদ্বীপ।
দ্বীপে রয়েছে একটি ভূগর্ভস্থ পানাধার বা ‘ওয়াটার লেন্সেস’, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয় মিঠা পানির স্তর-যেখান থেকে দ্বীপবাসীরা তাদের পানীয়ের চাহিদা মেটান।
দ্বীপটির নিচে রয়েছে এক প্রাচীন আগ্নেয় পর্বতের ধ্বংসাবশেষ, যার নাম ময়েরফিল্ড সি মাউন্ট। ধারণা করা হয়, এই অগ্নুৎপাতের ফলেই কোকোস দ্বীপপুঞ্জের সৃষ্টি। বর্তমানে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে কান্তাসলিংক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট কোকোস এয়ারপোর্টে যাত্রী পৌঁছে দেয়। সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা।
একদিকে ভারত মহাসাগরের গভীর নীল প্রকৃতি, অন্যদিকে শতাব্দীপ্রাচীন মালয় মুসলিম সংস্কৃতি-তার মাঝখানে অস্ট্রেলীয় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কোকোস দ্বীপপুঞ্জের অনন্য সৌন্দর্য ও পরিচয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যশোরে রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে হনুমান
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
গরু বা ঘোড়া দিয়ে ঘুরতো কলুদের ঘানি
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটলে এক মাসে ওজন কি কমবে?
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
৫৪ বছর পর মহাকাশ থেকে পৃথিবীর নতুন ছবি
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বজ্রপাতের সময় কি পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়?
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক ব্যক্তির কিডনিতে ২০৬ পাথর
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হাসপাতালের বিছানার চাদর সাদা থাকে কেন?
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মিষ্টি কুমড়াতেই মিলবে ‘মরণব্যাধি’ থেকে মুক্তি
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ভালো তরমুজ চেনার ৭ পদ্ধতি
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যে পাঁচ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের বাণিজ্য
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গাজীপুরে চীনা চাষির খেতে ১ ফুট লম্বা মরিচ!
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেহেতু ট্রাইব্যুনালের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, নিম্ন বর্ণিত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পলাতক রয়েছেন। সেহেতু উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিগণকে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে অত্র ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতে মামলার বিচার কার্য সম্পন্ন করা হবে।
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












