সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কদু খাওয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও উপকারিতা (১)
, ১১ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০২ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
কদু একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদের ফল। সাইয়্যিদুনা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি যেখানে মাছের পেট থেকে বের হয়েছেন সেখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি একটি কদু গাছ উদগত করে দিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ. وَأَنبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّنْ يَقْطِيْنٍ.
অর্থ: “অতঃপর আমি (সাইয়্যিদুনা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম) উনাকে এক বৃক্ষলতা শূন্য উপকূলে (মাছের পেট থেকে) বের করলাম, তখন তিনি ছিলেন মারিদ্বী শান মুবারকে। আমি উনার (ছাউনী হিসেবে) এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ (কদু গাছ) উদ্গত করলাম।” (পবিত্র সূরা ছফফাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৫-১৪৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তরকারী হিসেবে কদুকে পছন্দ করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ ইবনে জাফর ইবনে হাইয়ান আসবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (পবিত্র বিলাদত শরীফ ২৭৪ হিজরী- পবিত্র বিছাল শরীফ ৩৬৯ হিজরী) তিনি উনার কিতাবে এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ مِنْ أَكْلِ الدُّبَّاءِ. فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! إِنَّكَ تُكْثِرُ مِنْ أَكْلِ الدُّبَّاءِ قَالَ إِنَّهٗ يُكْثِرُ الدِّمَاغَ وَ يَزِيْدُ فِي الْعَقْلِ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রচুর পরিমাণে কদু তরকারী মহাসম্মানিত আহার মুবারক করতেন। আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তো অধিকাংশ ক্ষেত্রে কদু তরকারী মহাসম্মানিত আহার মুবারক করে থাকেন! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, কদু মগজের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং স্মরণশক্তি প্রখর করে।” (কানযুল উম্মাল ১৫ তম খ- ৪৫৫ পৃষ্ঠা: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪১৮০৮; আখলাকুন নবী ওয়া আদাবুহ ৩য় খ- ৩৩৭ পৃষ্ঠা : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬৭০)
অন্য বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে বলেন যে, তরকারী হিসেবে অধিকাংশ সময় কদু রান্না করুন। কারণ এতে বিষন্ন মনে শক্তি আসে। কদু বুদ্ধি তীক্ষè করে ও মস্তিস্ককে শক্তিশালী করে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي الْحَسَنِ مُوسَى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ فِيْمَا أَوْصٰى بِهٖ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنَّهٗ قَالَ لَهٗ يَا حَضْرَتْ عَلِيُّ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ بِالدُّبَّاءِ فَكُلْهُ فَإِنَّهٗ يَزِيْدُ فِي الدِّمَاغِ وَ الْعَقْلِ.
অর্থ : “হযরত আবুল হাসান মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে যে ওছিয়ত মুবারক করেছিলেন তাহলো, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম! আপনি কদুকে আবশ্যক করে নিন এবং তা আহার করুন। কেননা কদু মগজকে এবং আকলকে বৃদ্ধি করে।” (কিতাবুল কাফী ১৪/১৫৮)
কদুর তরকারির সাথে শুকনা গোশত খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَقُوْلُ إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعَهٗ قَالَ حَضْرَتْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلٰى ذٰلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا وَمَرَقًا فِيْهِ دُبَّاءٌ وَقَدِيْدٌ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالَيِ الْقَصْعَةِ قَالَ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দর্জি ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খাবার তৈরী করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দাওয়াত করলেন। হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমি সেই দাওয়াতে গিয়েছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে রুটি এবং সুরুয়া যাতে কদু ও শুকনা গোশতের টুকরা ছিল তা পেশ করলেন। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে পেলাম যে, পেয়ালার কিনারা হতে তিনি কদুর টুকরা খোঁজ করে নিচ্ছেন। সেদিন হতে আমি সবসময় কদু পছন্দ করি।” (বুখারী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-২০৯২)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার ছারীদ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য “রুটি”
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
উটের গোশ্ত খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী লিবাস ‘চাদর’
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী লিবাস ‘চাদর’
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খরগোশের গোশত খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন বিভিন্ন প্রকারের সুন্নতী খাবার ‘খেজুর’
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন বিভিন্ন প্রকারের সুন্নতী খাবার ‘খেজুর’
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রুটি-গোশত ও রুটি-খেজুর একত্রে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘কিস্সা’
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘কিস্সা’
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৭)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












