সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি তওবাকারীকে পছন্দ করেন (২)
, ১৫ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। বান্দা যদি যমীন থেকে আসমান পরিমাণ গুনাহ করে তারপর মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ تَعَالىٰ يَا اِبْنِ اٰدَمَ اِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِىْ وَرَجَوْتَنِىْ غَفَرْتُ لَكَ عَلٰى مَا كَانَ فِيْكَ وَلَا اُبَالِىْ يَا اِبْنِ اٰدَمَ لَوْ بَلَغَ ذُنُوْبُكَ عَنَامَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِىْ غَفَرْتُ لَكَ وَلَااُبَالِىْ يَا اِبْنِ اٰدَمَ اِنَّكَ لَوْ لَقِيْتَنِىْ بِقُرَابِ الْاَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيْتَنِىْ لَا تُشْرِكْ بِىْ شَيْئًا لَاَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً.
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে ইবনে আদম! তুমি যদি দোয়া কর এবং আশা কর আমি তোমাকে ক্ষমা করব তাহলে আমি কাউকে পরওয়া করি না। তোমার গুনাহ যদি আকাশ পরিমাণ হয় তারপরেও তুমি যদি ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করব। আমি কাউকে পরওয়া করি না। আর যদি তুমি যমীন পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আস, আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করে সাক্ষাৎ করতে আস, আমি যমীন পরিপূর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব।” (তিরমিযী শরীফ)
এই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা এটাই বুঝা যায়, কেউ যদি শিরকের গুনাহ ব্যতীত যমীন পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হাজির হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
কিন্তু অন্য মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ ثَوْبَانَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَا اُحِبُّ اَنَّ لِىَ الدُّنْيَا بِهٰذِهِ الْاٰيَتِ يَا عِبَادِىَ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰى اَنْفُسِهِمْ . لَا تَقْنَتُوْا مِنْ الرَّحْمَةِ اللهِ اِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا فَقَالَ رَجُلٌ فَمَنْ اَشْرَكَ فَسَكَتَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ اَلَا وَمَنْ اَشْرَكَ ثَلَاثَ مَرَّاةٍ.
অর্থ: হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিবর্তে যদি সমস্ত দুনিয়া আমার হয়ে যায় বা আমাকে দেয়া হয় আমি তা পছন্দ করি না। (আয়াত শরীফটি হল)“ হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নফসের প্রতি জুলুম করেছ তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের সমস্ত গুনাহখাতা ক্ষমা করবেন। তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।” এক ব্যক্তি বললেন, যদি সে শিরক করে? তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর বললেন,“সাবধান! যদিও সে শিরক করে আর শিরক করার পর তওবা করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তিনি এ কথা মুবারক তিনবার বললেন।” (সুবহানাল্লাহ)।
এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা বুঝানো হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে কেউ যাতে নিরাশ না হয়। বান্দা যতই ভুল করুক যদি সে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন।
এজন্যই কবি উনার কবিতায় বলেন,
“তুমি মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ফিরে আস,
তুমি যে কেউ হওনা কেন তুমি ফিরে আস,
যদি তুমি মূর্তি পূজাও করে থাক তবুও তুমি ফিরে আস,
যদি তুমি শতবারও তওবা ভঙ্গ কর তারপরও তুমি ফিরে আস,
এটা নিরাশ হওয়ার দরবার না।”
উল্লেখ্য যে, মানুষের নিকট ক্ষমা চাইলে মানুষ ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করলে তিনি কাউকেই ফিরিয়ে দেন না। শুধু তাই নয়, বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্তু খুশি হন।
(মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত উম্মে আতিয়্যাহ আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












