ঘটনা থেকে শিক্ষা
মহান আল্লাহ পাক উনাকে নিজের মধ্যে তালাশ করুন
, ০৭ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কিতাবে একটি ওয়াকেয়া লেখা হয়, কোন এক সরাইখানায় এক জহুরী অবস্থান করছিলো, তার কাছে ছিল বহুমূল্যবান একটি মুক্তা। যা সে একটি কৌটার মধ্যে রেখে সর্বদা নিজের কাছে জেবে রাখতো, একদিন সে তার প্রিয় ওই কৌটাটি বের করে সবাইকে দেখালো এবং বললো, এর ভিতর এক মূল্যবান পাথর আছে যার মূল্য বাদশাহর ধনাগারেও নেই। দর্শকদের মধ্যে এক চোরও ছিল। সে ওই কৌটাটি চুরি করার জন্য মনস্থির করে নিলো। সে জহুরীর সাথে বন্ধুত্বের ভাব দেখালো এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলো, “আপনি এ সরাইখানা ত্যাগ করে কোথায় যাবেন?” জহুরী তার গন্তব্য স্থলের নাম বলার সাথে সাথে চোরও বললো “যাক ভালই হলো, আমিও তো ওখানে যাবো, এক সাথে যাওয়া যাবে। ” জহুরী বললো, “ঠিক আছে। আমরা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও না হয় এক জায়গায় করে নিবো। ” চোর তো এটাই চাচ্ছিলো, সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে সে কৌশলে এটাও জেনে নিলো যে, জহুরী তার মূল্যবান মুক্তার কৌটাটি তার কোর্তার জেবেই রেখে থাকে। এদিকে জহুরীও সন্দেহ করলো যে, হয়তো লোকটি চোর হতে পারে। এবং আমার এ কৌটার লিপ্সায় আমার সফরসঙ্গী হতে চাচ্ছে। যাই হোক উভয়ে রওয়ানা দিলো।
পরবর্তী শহরে পৌঁছে সরাইখানায় একটা কক্ষ উভয়ে ভাড়া নিলো। রাতে উভয়ে জামা কাপড় খুলে শুয়ে পড়লো। কিন্তু শোয়ার পূর্বেই জহুরী চোরের অজান্তে সেই কৌটাটি নিজ কোর্তার জেব থেকে বের করে চোরের কোর্তার জেবে রেখে দিলো। মধ্য রাতে চোরটি বিছানা ছেড়ে জহুরীর সমস্ত কাপড় বিছানাপত্র তন্ন তন্ন করে খুঁজলো, কিন্তু সেই কৌটা পেলো না। সে মনে করলো- হয়তবা কৌটাটি জহুরীর জেব থেকে পড়ে গেছে। সকালে জহুরী তার সেই কৌটাটি বের করে দেখালো। চোরটি মনে মনে বেশ আশ্চর্য হলো। সে মনে করলো, বোধ হয় তল্লাশী ঠিকমত হয়নি। পরদিন পুণরায় রওয়ানা করে অন্য এক শহরে গিয়ে সেখানকার এক সরাইখানায় দু’জনে অবস্থান নিলো। জহুরী আজও সেই একই কৌশল অবলম্বন করলো। চোর বেটা আজও জহুরীর আচকান, কোর্তা ও অন্যান্য আসবাবপত্র বার বার তালাশ করলো কিন্তু কৌটা পেলো না। সে দৃঢ়ভাবে ধারণা করলো, আজ সেই কৌটা নিশ্চয়ই হারিয়ে গেছে। দিনের বেলা চোর সেই কৌটার কথা জিজ্ঞাসা করলে, জহুরী জেব থেকে সেই কৌটা বের করে দেখালো, এবার চোর ভীষণ আশ্চর্য হয়ে গেল। মোট কথা, এভাবে উভয়ে এক এক মঞ্জিল অতিক্রম করছিলো এবং এ লুকোচুরি চলছিলো, শেষ পর্যন্ত একদিন চোর প্রতিজ্ঞা করলো যে, আজরাতে জহুরীকে খুব করে তালাশ করবে, এমনকি তল্লাশীর সময় জেগে গেলে তার থেকে কৌটা ছিনিয়ে নিতে হবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতে চোর প্রথমে কাপড় চোপড় ভাল করে তালাশ করলো, এরপর জহুরীর বাক্স খুলে দেখলো, কোথাও কৌটা পেলো না, তখন জহুরীর কোমর তালাশ করলো তার মুখ হা করিয়ে দেখলো। এদিকে জহুরীও যথারীতি ঘুমের ভান করে শুয়ে রইলো এবং মনে মনে বললো যেভাবেই ইচ্ছা তালাশ করুক। চোর শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে নিশ্চিত ধারণা করলো, আজ নিশ্চয়ই সেটা হারিয়ে গেছে। কিন্তু সকালে জহুরীর জেবে সেই কৌটা দেখে অবাক হয়ে গেল। জহুরীর পা ধরে বললো, “আমি চুরিতে পাকা ওস্তাদ কিন্তু হিফাযতের দিক দিয়ে আপনি আমার ওস্তাদ। হে ওস্তাদ! আমি আমার সাধ্যমত পরিপূর্ণভাবে তল্লাশী চালিয়েছি। কিন্তু কৌটাটা খুঁজে পাইনি। অথচ একমাত্র সেটা চুরির নিয়তেই আপনার সফর সঙ্গী হয়েছিলাম, এবার বলুন! কৌটাটা আপনি রাতে কোথায় রাখতেন?” জহুরী বললো, তুমি কোথায় কোথায় তালাশ করেছো? চোর বললো, আপনার পরিধেয় কাপড়, বিছানা, বালিশের নীচে এমনকি সব জায়গায়, কিন্তু কোথাও কৌটাটি খুজে পাইনি। জহুরী বললো, তুমি সব জায়গা তালাশ করেছো খুব ভাল। কিন্তু নিজের জেবে তালাশ করেছো কি? সে বললো, না। তখন সেই জহুরী বললো, কৌটা তোমার জেবেই ছিল। যদি নিজের জেবে তালাশ করতে। তাহলে মুক্তা অবশ্যই পেয়ে যেতে।
একই ব্যাপার মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবার ক্ষেত্রেও। মহান আল্লাহ পাক উনাকে নিজের মধ্যে তালাশ করুন। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَفِىْ اَنْفُسِكُمْ اَفَلَا تُبْصِرُوْنَ.
(তোমাদের মধ্যেই আছে, তোমরা তো অনুধাবন করো না) এজন্যই বলা হয়,مَنْ عَرَفَ نَفْسَهٗ فَقَدْ عَرَفَ رَبَّهٗ. (যে নিজেকে চিনেছে সে তার রব তায়ালা উনাকেও চিনেছে)।
পাদটীকা: জেব (পকেট)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












