জীবনী মুবারক
বিশিষ্ট মহিলা ছাহাবী হযরত আসমা বিনতু উমাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (২)
, ২৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৪ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ১২ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৭ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি’য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে তিনি আপন কন্যার ন্যায় মুহব্বত করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর অর্থাৎ দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর যখন তিনি অত্যধিক মুহব্বতে গরক হয়ে পড়েন তখন হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রায় সর্বক্ষণ উনার কাছে থেকে খিদমতে আঞ্জাম দিতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি’য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও উনাকে বিশেষভাবে মুহব্বত করতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি’য়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের কিছু পূর্বে তিনি হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে ডেকে এনে বললেন, আমার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর পর্দার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন। কেবলমাত্র আপনি এবং আমার আহাল ব্যতীত আর কারো নিকট হতে যেন আমার গোসল মুবারকে সাহায্য গ্রহণ করা না হয়।
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে ওছীয়ত করেছিলেন যে, উনার আহলিয়া হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যেন উনাকে গোসল করান। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যথাযথভাবে উনার নির্দেশ মুবারক পালন করেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ (নিকাহ মুবারক) অনুষ্ঠিত হয়। হযরত মুহম্মদ বিন আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স তখন মাত্র তিন বছর। তিনিও মায়ের সাথে গমন করেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট লালিত পালিত হন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ঔরসে ইয়াহইয়া নামে উনার এক পুত্র সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার দুই সন্তানের নাম ছিল হযরত মুহম্মদ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী বকর ছিদ্দীক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি। একদিন উনারা দুই ভাই একজন আরেক জনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে বলতে থাকেন, আমি আপনার চেয়ে বেশী মর্যাদাবান। আমার পিতা আপনার পিতার চেয়ে বেশী সম্মানিত। অনেকক্ষণ পর্যন্ত উনাদের এই কথাবার্তা চলতে থাকে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি উনাদের মাতা হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বললেন, আপনি আপনার আওলাদ উনাদের এই বিবাদের ফায়ছালা করে দিন। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, আমি আরব যুবকদের মধ্যে হযরত জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চেয়ে উত্তম কাউকে পাইনি। আর বয়স্কদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার অপেক্ষা উত্তম কাউকে দেখিনি। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি আমার বলার আর কিছু রাখলেন না। আপনি যা বলেছেন, তাছাড়া অন্য কিছু বললে আমি অসন্তুষ্ট হতাম। হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তখন বলেন, আর উত্তম ব্যক্তিত্ব হিসাবে আপনি তিন জনের মধ্যে তৃতীয়। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার নিকট হতে বেশ কিছু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। সুনানের চারটি হাদীছ শরীফের কিতাবেই উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফসমূহ সংকলিত হয়েছে। উনার নিকট থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন- উনার পুত্র হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, উনার বোনের ছেলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, হযরত উরওয়া, হযরত আশ-শা‘বী, হযরত কাসিম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং আরো অনেকে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হিজরী ৪০ সনের ১৭ই রমাদ্বান শরীফ শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার শাহাদাত মুবারকের পরেও হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা জীবিত ছিলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)
হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার তিনজন আহালের ঔরসে মোট ৫ জন পুত্র সন্তান বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। প্রথম আহাল হযরত জা’ফর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঔরসে তিন সন্তান: উনারা হচ্ছেন হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুহম্মদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আওন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। উনার দ্বিতীয় আহাল সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার ঔরসে হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। আর উনার তৃতীয় আহাল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ঔরস মুবারকে হযরত ইয়াহ্ইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।
সূত্রসমূহ: উসুদুল গাবা, ইছাবা, তাবাকাত, সিয়ারু আলামিন নুবালা।
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












