স্বাস্থ্যকথা:
বাতের সমস্যা থেকে নারীদের পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়
, ০৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২০ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ চৈত্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
দেশে ২৭.৬ শতাংশ মানুষ বাতের ব্যথায় আক্রান্ত।
৬০ বছরের উপরে ১৮% মহিলা ও ৯.৬% পুরুষ বাতের ব্যথায় আক্রান্ত।
এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহিলা এবং পুরুষদের মধ্যে এমন ফারাকের কারণ সম্ভবত হরমোন। অনেকেই মনে করেন, বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কেউ কেউ মনে করেন, এই ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস বা জিন অনেক অংশে দায়ী। তার উপর কম বয়সে হিল জুতো পরার অভ্যাস, শরীরচর্চা না করার ফলেও মহিলাদের হাড়ে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায় বেশি। তবে জীবনধারা কিছু পরিবর্তন আনলে এমন সমস্যা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
১) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা : একটা বয়সের পর নারীদের পেট, কোমরের অংশ ভারী হতে শুরু করে। পুরো দেহের চাপ পড়ে হাঁটু এবং কোমরের অস্থিসন্ধির উপর। যা থেকে পরবর্তীকালে বাতের সূত্রপাত হয়। তাই সব সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
২) শরীরচর্চা নিয়মিত করা : শুধু হাড়ের স্বাস্থ্য নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। অস্থিসন্ধির যতœ নিতে গেলে প্রতি দিন অন্তত পক্ষে আধঘণ্টা শরীরচর্চা করা প্রয়োজন।
৩) অস্থিসন্ধির যতœ নেওয়া : হাঁটু বা কোমর ভেঙে বার বার ওঠাবসা, সিঁড়ি ভাঙার মতো কাজ করলে অস্থির ক্ষয় হয়। সেখানেই জাঁকিয়ে বসে বাতের ব্যথা। তাই সময় থাকতে অস্থিসন্ধির যতœ নেওয়া শুরু করতে হবে।
৪) পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন : সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। হাড়ের যতেœও তার অন্যথা হবে না। নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে। ঘুম কম হলে তার প্রভাব পড়বে হাড়ের উপর।
পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, সঠিক খাবার খেলে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত রোগ সেরে যেতে পারে। বাতের ব্যাথায় কষ্ট পাওয়া মানুষগুলির কাছে এইটুকু ব্যথা কম হওয়া মানেও কিন্তু অনেকটাই। বাতের ব্যথা কমাতে যেগুলি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত :
১) তৈলাক্ত মাছ : ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ থাকা চায়। সামুদ্রিক মাছ, রুই, পমফ্রেট, ইলিশ মাছ ইত্যাদি।
২) রসুন: বাতের ব্যথা থেকে বাঁচতে রসুন তেল গরম করে ব্যাথিত স্থানে মালিশ করা।
৩) আদা : সর্দি, কাশি তো বটেই, চা, স্যুপ কিংবা সরবতে আদা মিশিয়ে খেলে বাতের ব্যথাতেও আরাম মেলে। বিশেষ করে হাঁটুর ব্যথায় যাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন তাঁরা আদা খেতে পারেন নিয়মিত। কাঁচা হোক বা রান্না করা আদা সবসময়ই উপকারি।
৪) ব্রোকলি : নিয়মিত ব্রোকলি খেলে আর্থারাইটিসের ব্যথায় আরাম মেলে। শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়। শরীরকে সুস্থ রাখে।
৫) বেরি : জয়েন্টের ব্যথা সারবে তো বটেই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন কিংবা খনিজ পদার্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করবে বেরি। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, র্যাসপারবেরিও খাওয়া যায়।
৬) পালং শাক : শরীরের ইনফ্লেমেশন কমিয়ে আর্থারাটিসে আরাম দিতে সিদ্ধহস্ত পালংশাক।
৭) অলিভ অয়েল : যদি অলিভ অয়েল খাওয়ার অভ্যাস করা যায় দেখবেন বাতের ব্যথা থেকে কষ্ট ধীরে ধীরে কমছে। দামে বেশি হলেও অল্প অলিভ তেলেই অনেকটা রান্না করা যায়।
-ডা. সাইয়্যিদা আলিশা আশরাফ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত উম্মে আতিয়্যাহ আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজ্জ পালন করতে হলে কি কি থাকা শর্ত (১)
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (২)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












