বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অধ্যাদেশ-২০২৫ চূড়ান্ত হলে ঐ দিনই ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির প্রায় লাখ লাখ দক্ষ জনবল একদিনে বেকার হয়ে যাবে।
বর্তমান সরকারের “প্রায় সব অধ্যাদেশই আত্মঘাতী এবং দুর্ভিক্ষ আনয়নকারী”- বলে মন্তব্য করছেন সমালোচক মহল। সরকারকে সমালোচনার পথ থেকে সরে আসতে হবে।
, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
বর্তমান সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা, অদূরদর্শীতা, গণবিচ্ছিন্ন মানসিকতা এবং বৈদেশিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের তৎপরতার প্রেক্ষিতে ‘দুর্ভিক্ষ’ শব্দটি জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই বাংলা এর আগেও বেশ কটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখেছে। স্মরণকারের মধ্যে আলোচিত ছিয়াত্তরের মন্বন্তর।
বাংলায় তখন ইংরেজদের শাসন শুরু হয়েছে। ১৯০ বছরের শাসনামলের মাত্র ১ যুগ পেরিয়েছে। ইংরেজি সাল ১৭৭০, বাংলা পঞ্জিকায় ১১৭৬। সে সময় বাংলার বুকে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। যার নাম ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’। বাংলা সাল অনুযায়ী এই নামকরণ। তাতে মারা যায় প্রায় এক কোটি মানুষ।
এই দুর্ভিক্ষের কারণ ব্রিটিশদের রাজস্ব নীতি। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সাধারণ কৃষক প্রজার খাজনা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করে। যে খাজনানীতি বাংলাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে ১৭৬৯ সালে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। অতিরিক্ত খাজনা আর ভারী বন্যায় কৃষকের গোলা ফাঁকা হয়ে যায়। শুরু হয় দুর্ভিক্ষ।
এমন অবস্থায়ও ইংরেজরা খাজনা তোলা বন্ধ করেনি। উল্টো পরের বছর খাজনা আরও ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়। তাতে কৃষকদের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি তুলে দিতে হতো ব্রিটিশ বেনিয়াদের কাছে।
উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ১১৭৪ সনে আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় কোটি ৫২ লাখ রুপি। আর তিন বছরের মাথায় ১১৭৭ সালে আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ এর চেয়ে ৫ লাখ ২২ হাজার রুপি বেশি ছিল। অথচ তখন মানুষ না খেতে পেরে মারা যাচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, ‘১৯৪৩ সালটি মনে রাখা দরকার। ১৯৪৩ মানেই হচ্ছে বাংলা ১৩৫০। ১৩৫০ সালে হয়েছিল সেই নিদারুণ দুর্ভিক্ষ, যার নাম ৪৩-এর মন্বন্তর।
ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুর্ভিক্ষ শুধু খাদ্যের অভাব থেকেই হয় না, বরং খাদ্য বণ্টনে বৈষম্য ও অসমতা থেকেও হয়। ওই সময় যথেষ্ট খাদ্য সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু শহরের অর্থনীতি চাঙ্গা হলেও সঠিকভাবে বণ্টন না হওয়ায় গ্রামের দরিদ্র লোকদের খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না। ফলে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং লাখ লাখ লোক মারা যায়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে ইউনুস। বক্তৃতার একপর্যায়ে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের সময় বাংলাদেশের মানুষের নিদারুণ দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কেঁদেছে অন্তর্বর্তী সরকারের ইউনূস। কিন্তু এ ইউনুসের এ কান্নাকে শুধু মায়া কান্না নয় বরং কুম্ভীরালসী বলে জনগণের জেগে উঠাটাই এখন বড় হক্ব কথা।
বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা শুধু যে সরকারের শোষননীতিকে প্রকাশ করেছে তা নয়, পাশাপাশি ভূল সিদ্ধান্ত এবং নিয়ন্ত্রণহীনতাকেও বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। সমালোচক মহল বলছেন বর্তমান সরকার যেনো ইচ্ছে করেই বিদেশী শোষকদের পরামর্শে ভূল ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দিয়ে দুর্ভিক্ষকে আমন্ত্রণ করছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অধ্যাদেশ-২০২৫ চূড়ান্ত হলে বাস্তবায়নের দিনই ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির প্রায় লাখ লাখ দক্ষ জনবল একদিনে বেকার হয়ে যাবে।
অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৬ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি, ১৪০০ হজ এজেন্সি এবং ২৭০০ রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ নতুন অধ্যাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা পরিচালনার এজেন্সিকে আয়াটার টিকেট সেলিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে। অথচ দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ১ হাজারের মতো এজেন্সির আয়াটায় যুক্ত। ফলে নতুন অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হওয়ার দিনই বাকি ট্রাভেল এজেন্সিগুলো কার্যত ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবে। তাদের উপর নির্ভরশীল এজেন্সিগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ট্রাভেল এজেন্সি, হজ এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির লাখ লাখ দক্ষ জনবল বেকার হবে।
দৈনিক আল ইহসান অনুসন্ধানে জানা গেছে, নতুন অধ্যাদেশে এমন সব ধারা সংযোজন করা হয়েছে যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করবে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের তথ্যাদি দাখিল বাধ্যতামূলক করা, ঋণসংক্রান্ত সিআইবি অনুমোদন, অফলাইনে ১০ লাখ এবং অনলাইনে ১ কোটি টাকা ব্যাংক জামানত রাখা, বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রদানের শর্তে লাইসেন্স নবায়ন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার ওপর কঠোর শর্ত আরোপ। এসব বিধান বাস্তবায়িত হলে দেশের ট্রাভেল শিল্পে বড় ধ্বংস নামবে।
বিশ্বের সব দেশে ট্রাভেল এজেন্সির এজেন্ট টু এজেন্ট (বিটুবি) ব্যবসার প্রচলন রয়েছে। তবে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিটুবি ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ করা হচ্ছে। অর্থাৎ এক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে অন্য ট্রাভেল এজেন্সির টিকিট ক্রয়-বিক্রি করতে পারবে না। বিটুবি বন্ধের ফলে সব ট্রাভেল এজেন্সিকে আয়াটা নিয়ে হবে যার খরচ প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটের জন্য আরও অতিরিক্ত ২২ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ৯০ শতাংশ ট্রাভেল এজেন্সির এতো টাকা নাই। এর ফলে সব এজেন্সিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
‘নতুন আইন যেন ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হাতিয়ার না হয়ে যায়; বরং একটি সুষ্ঠু, টেকসই ও ন্যায্য ট্রাভেল শিল্প গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।’ এটাই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সহীহ প্রত্যাশা আর অরণ্যে রোদন যেন একই কথা। জনগণের জেগে উঠাটাই এখন বড় হক্ব কথা। ইনশাআল্লাহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল আশিরাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক তথা পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এবং মুজাদ্দিদে যামান সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যর্থ ও.আই.সির বিপরীতে মুসলিম দেশগুলো নিয়ে সামরিক জোট গঠনের জন্য ইরানের আহবানকে গুরুত্বের সাথে সাড়া দিতে হবে।
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মসজিদুল আকসাকে পুরো মুসলমান শূন্য করতে চাচ্ছে ইহুদী-খ্রীষ্টানরা
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নীরব এই মহামারী নিরসনে সরকারের নিস্ক্রিয় ভূমিকা বরদাশতযোগ্য নয়।
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












