বাংলাদেশীদের শেকড় : পবিত্র দ্বীন ইসলাম নাকি মুশরিকি? (২)
, ০৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৭ ছানী আশার, ১৩৯১ শামসী সন , ১৬ মে, ২০২৪ খ্রি:, ০২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আপনাদের মতামত
কোন জাতির সভ্যতার শেকড় খুজতে আদি স্থাপনা একটা বড় দলিল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে মুসলমানদের আদি স্থাপনার আধিক্য প্রমাণ করে বাংলাদেশ আবাদ হয়েছে মুসলিম সভ্যতার দ্বারাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বর্তমানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেভাবে তাদের স্থাপত্যগুলো প্রচার-প্রসার করে, তাতে নতুন প্রজন্ম ভুল বুঝছে, ভাবছে বাংলাদেশীদের শেড়ক মনে হয় হিন্দু ধর্মের সাথে। অপরদিকে মুসলমানরা তাদের স্থাপত্য ও আদি নিদর্শনগুলো ঠিকমত প্রচার-প্রসার তো দূরের কথা, অনেকেই জানেই না।
যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই ধরি। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মন্দির আছে, নাম- রমনা কালী মন্দির, মন্দিরের সাথে আছে একটি আশ্রম। ঢাকার মুসলিম নবাবদের শাহবাগ বাগানের এক হিন্দু কর্মচারির স্ত্রী নামে প্রায় ১শ’ বছর আগে মন্দিরের আশ্রম গড়ে উঠেছে। কিন্তু এই মন্দির ও আশ্রমের কথাই হিন্দুরা ব্যাপক প্রচার করে, দেশী-বিদেশী হিন্দুরা তা পরিদর্শনে আসে। ফলে তা মিডিয়ায় প্রচার পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুসলমানদের অনেক পুরাতন স্থাপনা ও নিদর্শন আছে, যেখানে মুসলমানরা যাওয়া তো দূরের কথা, অনেকে জানেই না।
যেমন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে ১২ ভুইয়ার অন্যতম ঈসার খার পুত্র মুসা খা নির্মিত মুসা খান মসজিদ, যা প্রায় ৪শ’ বছর পুরাতন স্থাপত্য। মুসা খার মাজারও সেখানে অবস্থিত। এরপর দোয়েল চত্বর সংলগ্ন আছে, মুঘল স্থাপত্য শৈল্যির অপরূপ নিদর্শন হযরত হাজী খাজা শাহবাজ রহমতুল্লাহি মাজার মসজিদ। এই মসজিদটিও প্রায় ৪শ’ বছর পুরাতন। মাজার মসজিদের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা ঢাকা গেট বা মীর জুমলা গেট। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন মীর জুমলা। এই মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকার সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ঢাকা গেট নির্মাণ করেছিলেন। এর পাশেই হাইকোর্ট এলাকায় হযরত শাহ্ খাজা শরফুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহির মাজার শরীফ আছে। হযরত খাজা শরফুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি হচ্ছেন সিলেটে হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে যে ৩৬০ জন আওলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি এসেছিলেন উনাদের মধ্যে একজন। তিনি এ এলাকায় এসেছিলেন প্রায় ৭০০ বছর আগে। লক্ষ্য করে দেখুন, ঢাকা প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো ৪০০ বছর আগে, কিন্তু ৭০০ বছর আগে উনার মাজার শরীফ প্রমাণ করে এ অঞ্চলের আবাদ করেন মুসলমানরাই। রমনা এলাকায় ছিলো তান্ত্রিক ও কাপালিকদের আখড়া, যেখানে কালীর নামে নরবলী হতো। হযরত খাজা শরফুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ অঞ্চলে এসে ভীত সন্ত্রস্ত মানুষকে অভয় দেন। তিনি এ অঞ্চলে সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেন।
-মুহম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












