সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৬)
, ০৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمُوْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ حَدَّثَتْهُ اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَكُنْ يَتْرُكُ فِىْ بَيْتِهِ شَيْئَا فِيْهِ تَصَالِيْبُ اِلَّا نَقَضَهُ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় পবিত্র হুজরা শরীফে (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কোনো জিনিসই রাখতেন না। দেখলেই ভেঙ্গে চূর্ণ করে দিতেন। (বুখারী শরীফ: মিশকাত শরীফ)
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُوْمِنيْنَ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَام اَنَّهَا كَانَتْ قَدْ اِتَّخَذْتُ عَلٰى سَهْوَةٍ لَّهَا سِتْرًا فِيْهِ تَمَاثِيْلُ فَهَتَكَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে অপর একটি বর্ণনা মুবারকে এসেছে যে, একবার তিনি পবিত্র হুজরা শরীফ উনার জানালা মুবারকে একটি পর্দা মুবারক ঝুলিয়ে ছিলেন, যাতে প্রাণীর ছবি ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পর্দাটিকে ছিঁড়ে ফেললেন। (মিশকাত শরীফ)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে- খোদ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার বর্ণনা মুবারকে উল্লেখ রয়েছে যে, ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে হারাম।
কাজেই, মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি ইত্যাদি জায়িয সাব্যস্ত করতে হলে উক্ত আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মোকাবেলায় আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল দিতে হবে। অন্যথায় কস্মিনকালেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা মূর্তি, ভাস্কর্য, ছবি তৈরি করা, আঁকা, তোলা ইত্যাদি হারাম ও কুফরী এবং তার পরিণতি জাহান্নাম এ সংক্রান্ত আহকাম সংক্রান্ত বহু পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বিদ্যমান।
কিন্তু উক্ত চরম জাহিল ও গ-মূর্খ লোকটি মূর্তির পক্ষে আহকাম সংক্রান্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পরিবর্তে এমনসব দলীল উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে যা তাকে কাট্টা মুনাফিক ও কাট্টা কাফিরে পরিণত করেছে এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে চরম অজ্ঞ, গ-মূর্খ ও আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের এতসব সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও উক্ত মুসলমান নামধারী কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম নাকি মূর্তির বিরুদ্ধে নয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
তৃতীয়ত কাট্টা মুনাফিক ব্যক্তিটি বলেছে, “তখন সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার দেয়ালে ৩৬০টি মূর্তি ও অনেক ছবির সঙ্গে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিত আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবিও ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের ছবি বাদে বাকি সব ছবি মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ নাউযুবিল্লাহ!
উপরোক্ত বর্ণনা ও ইতিহাস সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুল। সঠিক বর্ণনাসমূহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمَّا رَاَى الصُّوَرَ فِى الْبَيْتِ لَـمْ يَدْخُلْهُ حَتَّى اَمَرَ بِهَا فَمُحِيَتْ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিকৃতি/ছবি দেখলেন, তখন তা মুছে ফেলার নির্দেশ মুবারক দিলেন। প্রতিকৃতিগুলো মুছে ফেলার আগ পর্যন্ত তিনি তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেননি।” (বুখারী শরীফ)
অপর হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَهُوَ بِالْبَطْحَاءِ اَنْ يَّأْتِىَ الْكَعْبَةَ فَيَمْحُوْ كُلَّ صُوْرَةٍ فِيْهَا فَلَمْ يَدْخُلْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى مُـحِيَتْ كُلُّ صُوْرَةٍ فِيْهَا
অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, “পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন- যেন তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতরের সব মূর্তি-ছবি নষ্ট করে দেন। অতঃপর মূর্তি-ছবি নষ্ট করার আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার ভিতর তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেননি। (আবু দাউদ শরীফ, বায়হাকী শরীফ)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ: শানে আওলাদু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিন্দিগী মুবারক দু’ভাগে বিভক্ত বলা কুফরী
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুন্নতী কদমবুছী সম্পর্কে শরীয়তে সুস্পষ্ট দলীল রয়ে গেছে
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: খাতামুন নাবিয়্যীন শান মুবারক নিয়ে দেওবন্দীদের মনগড়া বক্তব্য ও লেখনীর দলীলভিত্তিক জবাব
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












