সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১০)
, ১১ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৫ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
এক মুনাফিক কিছু বাতিল ও মনগড়া দলীল জোগাড় করে মূর্তিকে জায়িয প্রমাণ করার অপচেষ্টা করেছে। তার মূল বক্তব্য হচ্ছে, যে মূর্তিকে পূজা, আরাধনা, ইবাদত করা হয়, যেটা মানুষকে মুশরিক বানায়; সেটা নিষেধ। কিন্তু যে মূর্তিকে আরাধনা ইবাদত করা হয় না বরং যে মূর্তি সৌন্দর্য বাড়ায়, সুসজ্জিত করে সেটা নিষেধ নয়।
অতএব, উক্ত ব্যক্তির এ ধরণের যুক্তি কতটুকু ইসলামসম্মত? দলীলসহ জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন করবেন।
জাওয়াব (১০ম অংশ):
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ بَعَثَنِىْ رَحْمَةً لِّلْعَالَـمِيْنَ وَهُدًى لِّلْعَالَـِمْيَن وَاَمَرَنِىْ رَبِّىْ عَزَّ وَجَلَّ بِمَحْقِ الْـمَعَازفِ وَالْـمَزَامِيْرِ وَالْاَوْثَانِ وَالصَّلِيْبِ وَاَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ: হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন সমস্ত জাহানের জন্য রহমত দানকারী এবং হিদায়েত দানকারী হিসেবে। আর আমাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন, বাদ্যযন্ত্র, মূর্তি, ক্রুশ ও জাহিলী কাজসমূহ ধ্বংস করার জন্য। (মুসনাদে আহমদ ৫/২৬৮, মুসনাদে হারিছ ২/৭৭০)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
أَرْسَلَنِى بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ
অর্থ: আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্য, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার জন্য এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি যে একক, উনার সাথে কোন কিছু শরীক করা যাবে না। (এই বিষয়গুলো শিক্ষা দেয়ার জন্য) প্রেরণ করেছেন। (মুসলিম শরীফ হা/নং ১৯৬৭)
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ করলেন, তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো। আর তারা বলছে যতো ইচ্ছা মূর্তি তৈরী করুক, তারা পাহারা দিবে। নাঊযুবিল্লাহ! স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমস্ত মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার জন্য, কায়িনাতবাসীকে মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদ শিক্ষা দেয়ার জন্য, উনার সাথে কাউকে শরীক না করার জন্য। আর তারা মুশরিকদের পূজার মন্দির পাহারা দেয়ার যিম্মাদারী নিচ্ছে এবং পাহারা দিচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! শুধু এতটুকুই নয় তারা এটাকে আবার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দায়িত্ব বলে প্রচার করছে। নাঊযুবিল্লাহ! এবং গর্বের সাথে বলছে এটাই নাকি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সৌন্দর্য। নাঊযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে- দুনিয়ার কোনো একপ্রান্তে যদি হারাম কাজ হয়। আর অন্য প্রান্ত থেকে যদি কেউ সেটাকে সমর্থন করে। তাহলে তারা উভয়ে সমান গুনাহগার হবে। শুধুমাত্র সমর্থন করার জন্য। এখন যে সমস্ত উলামায়ে সূ’রা মুশরিকদের পূজায় পাহারা দিচ্ছে, যারা মন্দির রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা কি তাহলে মুশরিক হলো না? অবশ্যই তারাও মুশরিকদের মতো মূর্তি পূজারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে কাউকে শরিক করলে তাকে ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্যান্য গুনাহ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কাউকে শরীক করলো; সে মূলত উনার প্রতি অপবাদ দিলো, কঠিন গুনাহ অর্জন করলো। নাঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থ: তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করো না। নিশ্চয়ই শিরক অত্যন্ত কঠিন অপরাধ। (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
এরপর তারা এই মন্দির পাহারা দেয়ার কারণে লা’নতগ্রস্ত হচ্ছে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
وَلَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُشْرِكِينَ فِي كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيدِهِمْ فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ
অর্থ: তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিনগুলিতে তাদের মন্দিরে প্রবেশ করো না। কেননা ঐ সময় তাদের উপর লা’নত বর্ষিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৯/৩৯২, মুসনাদুল ফারূক্ব ২/৪৯৪)
সম্মানিত ঈমান উনার তিনটি স্তর রয়েছে। শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলে হাতে বাধা দেয়া, সেটা না পারলে মুখে প্রতিবাদ করা, এটাও না পারলে অন্তরে খারাপ জেনে সেই স্থান ত্যাগ করা। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো খারাপ কাজ হতে দেখবে তখন তার দায়িত্ব হচ্ছে সে যেন সেটাকে হাত দিয়ে বাধা দেয়, যদি সেই সামর্থ্য না থাকে তাহলে সে যেন মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে। যদি সে মুখ দিয়েও প্রতিবাদ করতে না পারে তাহলে যেন অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে; (সেখান থেকে চলে যায়) আর এই তৃতীয় নাম্বারটা হচ্ছে দুর্বল ঈমানের পরিচয়। (মুসলিম শরীফ; হাদীছ শরীফ নং ১৮৬, মুসনাদে আহমদ ৩/৪৯)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (৩)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৯)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (২)
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৮)
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ দ্বীন ইসলামে দিবস পালন করা শরীয়তসম্মত (১)
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৭)
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৬)
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: শানে আওলাদু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিন্দিগী মুবারক দু’ভাগে বিভক্ত বলা কুফরী
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ফাদ্বায়িলু ঈদে আকবর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












