সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ গণতন্ত্র বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মনগড়া মিথ্যা অপবাদ (৫)
, ০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল: অষ্টম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ১১৮ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসাধারণ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় আল কুরআনের সর্বজনীন গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করেন। ... দেশ পরিচালনায় জনগণের মতামতের স্বীকৃতি দেন। যা গণতন্ত্রের মূল কথা। ” নাউযুবিল্লাহ! এ লেখাটি কতটুকু শরীয়তসম্মত?
সুওয়ালে উল্লেখিত লেখা থেকে যেসব প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তা হচ্ছে-
১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? ২. তিনি কি রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন? ৩. তিনি কি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন? ৪. তিনি কি গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করেছিলেন? ৫. পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কি গণতান্ত্রিক নীতি সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে? ৬. তিনি কি জনগণের মতামতের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন? নাউযুবিল্লাহ!
জাওয়াব:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
মুলতঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বাবস্থায় ও সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার ওহী বা আদেশ মুবারক উনার অনুসরণ করেন। এ মর্মে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার করণীয় বিষয় সম্পর্কে উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আপনি আপনার উম্মতদেরকে বলে দিন-
إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ
অর্থাৎ- আমি তো কেবল ঐ ওহী মুবারক উনার অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী মুবারক করা হয়। (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শান মুবারকে আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
অর্থ: তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেননি। (পবিত্র সূরা নজম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩, ৪)
প্রতিভাত হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নাযিলকৃত ওহী মুবারক উনার অনুসরণ করেন।
আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ
অর্থ: “পৌঁছে দিন আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে। ”
স্মরণীয় যে, ওহী হচ্ছে- দু’প্রকার। (১) ওহীয়ে মাতলূ (২) ওহীয়ে গইরে মাতলূ।
ওহীয়ে মাতলূ হচ্ছে- যা হুবহু তিলাওয়াত বা পাঠ করতে হয়। যার তাহরীফ ও তাবদীল সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। ওহীয়ে মাতলূ উনার সমষ্টি হচ্ছে- পবিত্র কুরআন শরীফ, যা মহান আল্লহ পাক তিনি “পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ” উনার ৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ
অর্থ: “আমি এই কুরআন শরীফ আপনার প্রতি ওহী করেছি বা নাযিল করেছি”।
উনার মধ্যে দ্বীন ইসলাম উনার বিধি-বিধান, আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি সন্নিবেশিত করা হয়েছে। যার নাযিলকারী ও সংরক্ষণকারী স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি। যা “পবিত্র সূরা হিজর শরীফ” ৯নং আয়াত শরীফ উনা মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
অর্থ: “নিশ্চয় আমিই পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমিই উনার হিফাযতকারী বা সরক্ষণকারী”।
আর ওহীয়ে গইরে মাতলূ হচ্ছে পবিত্র হাদীছ শরীফ। যা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নাযিল হয়েছে কিন্তু উনার ভাষা হচ্ছে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, যা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার ব্যাখ্যা স্বরূপ।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, একবার কতিপয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে চাই। তিন বললেন, আপনারা কি পবিত্র কুরআন শরীফ পড়েননি? জেন রাখুন-
كَانَ خَلْقُهُ الْقُرْآنَ
“পবিত্র কুরআন শরীফই হচ্ছেন উনার চরিত্র মুবারক। ” সুবহানাল্লাহ!
হযরত মিক্বদাম ইবনে মা’দী কারিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلَا اِنِّى اُتِيتُ الْقُرْاٰنَ وَمِثْلَهٗ مَعَهٗ
অর্থ: জেনে রাখো, আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ দেয়া হয়েছে এবং উনার সাথে অনুরূপও অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ দেয়া হয়েছে। (আবু দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার গুরুত্ব সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّهَا لَمِثْلُ الْقُرْآنِ أَوْ أَكْثَرُ
অর্থ: নিশ্চয়ই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিষয়সমূহ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিষয়সমূহেরই ন্যায়। বরং উনার অপেক্ষা অধিক (গুরুত্বপূর্ণ)।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












