সম্পাদকীয়-২
প্রসঙ্গঃ মোবাইল ফোনের ব্যবহার ও অপব্যবহার।
, ২৫ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০২ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
সংবাদ শিরোনাম হয়েছে- “ফেসবুক এখন ফেইকবুকে পরিণত হয়েছে”। মোবাইল ফোন, এসএমএস, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ফেসবুক ইত্যাদি যেমন বর্তমান বিশ্বকে প্রায় হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, তেমনি দেখা যাচ্ছে এর অপব্যবহারও শুরু হয়েছে মারাত্মকভাবে।
পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, মোবাইলের মাধ্যমে সৃষ্ট অপরাধ তদন্তে প্রচলিত আইনে ঘাটতি রয়েছে। টেলিফোন অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়াবলি দ-বিধিতে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও প্রয়োগ নেই। এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এসব অপরাধ চিহ্নিতকরণ বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বলাবাহুল্য, সারা দেশই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতাধীন। অভিভাবকরাই আজ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছেলেমেয়েদের হাতে দামি, দেশী-বিদেশী ক্যামেরাসহ মোবাইল ফোন সেট কিনে দেয় অথবা অভিভাবকের অজান্তে কোনো একটি প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমেই বা উপহার হিসেবে দিয়ে যে ক্ষতি তারা করছে তার ভয়াবহ মাশুলই আজকের এ অবস্থা। এতে অর্থ, মেধা, সময়, স্বাস্থ্য ও পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। মোবাইল ফোন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টারগুলোতে সিমকার্ডগুলোকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
রাতের বেলা প্রায় অবাধে কথা বলা ও গান-বাজনা শোনার সুযোগ করে দেয়ায় উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা একদিকে যেমন উচ্ছন্নে যাচ্ছে, অন্যদিকে পড়ছে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাসহ লেখাপড়ায় মনোসংযোগের অভাবজনিত সমস্যায়। প্রায় রুটিনবিহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস চলাকালেও মোবাইলে কথা বলতে দেখা যায় তাদের।
বলাবাহুল্য বর্তমানে ছেলেমেয়েদের এসব সমস্যা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিভাবকদের। গত কয়েক মাসে দেশে নারী নির্যাতন ও উত্ত্যক্তকরণের মাত্রা বেড়েছে আশংকাজনকহারে। অনেক ক্ষেত্রে বখাটে কর্তৃক খুন-সম্ভ্রমহরণ-আত্মহত্যাসহ অভিভাবকদের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও আছে। এক্ষেত্রে সেলফোনের অবাধ ব্যবহারসহ হারাম ছবির অনুপ্রবেশ দায়ী সর্বাংশে। এভাবে দেশীয় সংস্কৃতি, পারিবারিক ও ধর্মীয় সংস্কার সর্বোপরি মূল্যবোধ ও মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে।
সঙ্গতকারণেই এতসব হারাম কাজের যোগানদার মোবাইল ফোনের (সিমকার্ড) কোম্পানিগুলোকে নিয়মশৃঙ্খলা, কঠোর আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং মোবাইল ফোন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টার, ইন্টারনেট, সাইবার ক্যাফে ও কম্পিউটারের দোকান ও সেন্টার, ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে যথাযথ আইন প্রয়োগ করতে হবে হারাম ছবিভিত্তিক সব কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য। সর্বপ্রকার যানবাহনে চালকের (ড্রাইভার) কাছে যানবাহন চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে অবশ্যই। স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করতে হবে। ফোন-ফ্যাক্স-ইন্টারনেট, মোবাইল সেটে ছবি ও সিডি, গান লোড ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষ মদদকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং হারাম ছবিভিত্তিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন প্রাইভেট চ্যানেল (দেশী ও বিদেশী) ও স্যাটেলাইট (ডিশ) ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনসহ তথ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগী হতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথা বলা ও লেখা প্রতিরোধে শক্ত আইন পাস করতে হবে। তা না হলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না।
মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
“মুসলিম বিশ্ব যদি ডলারের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে ‘ইসলামী দিনার’ চালু করে, তবে তা পশ্চিমাদের জন্য পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।”
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












