সম্পাদকীয়-১
প্রসঙ্গ: স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর রীতি। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক ও ১ মিনিট নিরবতা খ্রিষ্টান বেনিয়া অপসংস্কৃতি।
সরকারের উচিত- দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশের স্বাধীনতা দিবস ইসলামী রীতিতে পালন করা।
, ০৬ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৬ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১২ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
আজ ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। আজকের এই দিনে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও জুলুম থেকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই ভূখন্ডকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে সংগ্রামের সূচনা হয়। প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে এই স্বাধীনতা দিবস সারাদেশের মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে পালন করে থাকে।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোয় নানা প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার হেডিং থাকে -
“স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পুষ্পস্তুবক অর্পন”
“স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন” ইত্যাদি।
বিভিন্ন পত্রিকা পত্রিকায় প্রকাশ হয়- “২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। আর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে দেশপ্রেম সম্মানিত ঈমান উনার অঙ্গ। সম্মানিত দেশপ্রেমে উজ্জিবিত হয়েই ২৬শে মার্চ বাঙ্গালী জাতি শোষণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলো। আর সে হিসেবে মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিলো সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ধারায় এই মহান দিবসটি পালন করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে বিধর্মী বেনিয়াদের সংস্কৃতি অনুসরণের মাধ্যমে।
‘স্মৃতিস্তম্ভ’কে ইংরেজিতে বলা হয়- ‘Monument. World book -তে লেখা হয়েছে- “Monument is a structure usually a building or statue built in memory of a person or an event.”
অর্থ: “স্মৃতিস্তম্ভ হচ্ছে- একটি অবকাঠামো, যা সাধারণত দালান জাতীয় অথবা মূর্তি, যেটা কোনো ঘটনা বা ব্যক্তিকে স্মরণ রাখার জন্য বানানো হয়।”
এ ধরনের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেবার প্রথা চালু হয়, আম্রিকায় ১৮৬৬ সালে। এ প্রসঙ্গে Encyclopeadia americana-‡Z wjLv n‡q‡Q- ÒThe custom of placing flower on the graves of the war dead began on may 1866 in watertoo, Nwe York.” অর্থাৎ আম্রিকার গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পূর্বেই এ প্রথা সেখানে শুরু হয়।
Encyclopedia Britannica -তে লেখা হয়েছে- “The custom itself of honouring the graves of the war dead began before the close of the civil war.”
আর নির্দিষ্ট দিনে এই স্মৃতি প্রক্রিয়া চালু রাখা বা স্মরণীয় দিন চালু রাখাও এই সাথেই প্রবর্তিত হয়। অর্থাৎ স্মরণীয় দিন বা শোক দিবস পালনের প্রথাগত প্রচলনও শুরু হয় আম্রিকাতে। ঘবি standard Encyclopedia -তে লিখা হয়েছে- “The First official observance of memorial day was at waterloo, Nwe York in 1866.”
তবে এর আগেই আম্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে কিছু মেয়েরা স্মৃতি দিবস পালন ও ফুল দেবার সংস্কার চালু করেছিল বটে। এবং ১৯৭১ সালের পূর্বে ৩০শে মে তারিখে এই স্মরণীয় দিন পালন করা হতো। কিন্তু তারপরে তা মে মাসের শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবারকে ধার্য করা হয় এবং আগে কেবল গৃহযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মরণে এই দিন পালন করা হলেও পরবর্তীতে স্প্যানিশ আম্রিকা যুদ্ধে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং কোরিয়া ও ভিয়েতনামের যুদ্ধে নিহতদের স্মরণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রথমদিকে গ্রান্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল ঔড়যহ ধ ষড়মধহ-এর নির্দেশনায় সামরিক সদস্যদের দ্বারা এই সংস্কার চালু হলেও পরবর্তীতে কেবল সৈন্যদলই নয়, স্কাউটসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ জনতাও সমাধিস্থলে পতাকা ও ফুল স্থাপন করাসহ বিশেষ কর্মসূচি পালন করে। এ প্রসঙ্গে World book -এ লিখা হয়েছে- “On memorial day people place flowers and flags on the graves of military personnel, mane organi“ation, including boy scouts, girl scouts and fraternal groups much in military parades and take part in special programs.”
উল্লেখ্য, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আম্রিকানদের মাঝে স্মরণীয় দিনে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল স্থাপনসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি পালনের এই রেওয়াজ অন্যান্য দেশে ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী লোকদের সংস্কৃতি বা মূল্যবোধেও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্তি লাভ করে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ১ মিনিট নিরবতা পালনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। অথচ এই নিরবতা পালনও বেনিয়াসৃষ্ট একটি অপসংস্কৃতি। ইতিহাসে রয়েছে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কোয়াকার-রা প্রায় ৩৫০ বছর ধরে এই মিনিট নিরবতা পালনের অনুষ্ঠান করে আসছে। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে এটি পালন করে থাকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জার্মানির সাথে যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রিটিশদের যেসব যোদ্ধারা মারা যেত তাদের স্মরণে সাউথ আফ্রিকার কেপ টাউনে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হতো। এই নিরবতা পালনের বিষয়টি রয়টার্সের একজন সাংবাদিক লেখালেখির মাধ্যমে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেয় এবং যা পরে কালচারে প্রবেশ করে। এছাড়া একজন অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক ঊফধিৎফ ব্রিটেনের " London Evening News " পত্রিকায় ১৯১৯ সালে একটি চিঠিতে লেখে, “১৯১৮ সালের নভেম্বরে শেষ হওয়া প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে মারা যাওয়া সৈনিকদের জন্য যেন ৫ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়”। পরবর্তীতে রাজনীতিবিদ পার্সি ফিতযপ্যাট্রিক ব্রিটেনের প্রধান সপ্তম জর্জের কাছে এই বিষয়টি পেশ করলে এটি প্রশাসনিকভাবে গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে বলা হয়েছে- যেকোনো ব্যক্তির ইন্তিকালের পর তার নেকী কামাইয়ের সব পথ বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ব্যতীত। এক. নেককার উত্তরাধিকারী; তারা যা দোয়া করে। দুই. নেক উসীলা; যথা- শায়খ ক্বিবলা বা পীর ছাহেব ক্বিবলা ও মুরীদ-এর সিলসিলা এবং ওস্তাদ-ছাত্র সিলসিলা ইত্যাদি। তিন. নেক কাজ; যথা- মসজিদ, মাদরাসা, লঙ্গরখানা, হাসপাতাল, পানির ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, সেতু ইত্যাদি স্থাপন করা। এক্ষেত্রে বলা আবশ্যক যে, শহীদদেরকে বর্তমানে সত্যিকার অর্থে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে হলে তাদের প্রতি পবিত্র কুরআন শরীফ খতম, দান-খয়রাত, নফল রোযা, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ইত্যাদি করে তাদের রূহ মুবারকে ছওয়াব বখশিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, সরকারের উচিত বিদেশী বেনিয়াদের অপসংস্কৃতিগুলো পরিহার করার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












