সম্পাদকীয়
আসন্ন বাজেটে চাল, ডাল, তেল, ফলসহ নিত্যপণ্যের উৎস কর দিগুণ করার পরিকল্পনায় বর্তমান খাদ্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে আরো ঘি ঢালা হবে। উৎস করের টাকা ব্যবসায়ীরা খরচ হিসেবেই ধরে। জনগণের ক্ষোভের আগুন তথা দ্রব্যমূল্যের আগুন থেকে বাঁচতে হলে সরকারকে অবশ্যই এই পথ থেকে সরে আসতে হবে।
, ২৯ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
বর্তমান ব্যবস্থায় কোনও করপোরেট প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কিনলে বিল পরিশোধের সময় নির্ধারিত হারে কর কেটে রাখে। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। আর এলসির মাধ্যমে আমদানি হলে ব্যাংক সরাসরি ওই কর কেটে এনবিআরে জমা দেয়। খাদ্য ও পানীয় খাতের বড় কোম্পানি, ওষুধ শিল্প, সুপারশপ, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং বৃহৎ করপোরেট ক্রেতারা এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।
রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণে এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎস কর বাড়ানোর পথে হাঁটছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী- চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ফল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ অন্তত ২৮টি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার বর্তমান ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উৎস কর বাড়ানো হলে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে বাজারদরের ওপরে। কারণ ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত করকে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য- “এনবিআরের কাছে একবার টাকা গেলে বাস্তবে সেটা ফেরত পাওয়া খুব কঠিন। ফলে ব্যবসায়ীরা করকে খরচ হিসাবেই ধরে নেয়। এতে পণ্যের দামে প্রভাব পড়বে।”
বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যে কর বাড়ানো হলে বাজারে নতুন চাপ তৈরি হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানই কয়েক বছর আগে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
২০২৩ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি থাকাকালে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেছিলেন, “মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সব ধরনের কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎস কর কর্তনের বাইরে রাখা উচিত।” কিন্তু এখন রাজস্ব ঘাটতির চাপে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে উল্টো কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রসঙ্গত, “দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েক দফায় এই কর কমানো হয়েছিল। এখন আবার বাড়ানো হলে নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।”
নিত্যপণ্যের উৎস করের হার গত কয়েক বছরে একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরবরাহ ও এলসি-বিহীন লেনদেনে উৎস কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়
পরে তা কমিয়ে ১ শতাংশে আনা হয়। সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে করহার আরও কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করে। এখন আবার সেই হার দ্বিগুণ করার চিন্তা করছে এনবিআর।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু নিত্যপণ্যে উৎস কর বাড়ানো হলে এই দুই লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী অবস্থায় চলে যাবে।
কারণ, সরবরাহ পর্যায়ে কর বাড়ানো মানে শেষ পর্যন্ত বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি যখন এখনও উচ্চ পর্যায়ে, তখন নতুন করের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফলে আসন্ন বাজেটে সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেয়- রাজস্ব আহরণ নাকি ভোক্তা স্বস্তি, সেটিই এখন জ্বলন্ত প্রশ্ন?
সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি, 'প্রক্রিয়াগতগত জটিলতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সব ধরনের কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যকে উৎস কর কর্তনের আওতার বাইরে রাখা আবশ্যক।'
বর্তমান সংকট মুহুর্তে- এ সরকার শিগগীরই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের মালিকানা থেকে অন্যায্যভাবে সেবককে বাড়তি অর্থ দিচ্ছে। বেতন-ভাতা বাড়াচ্ছে ১৪০%। এই বৈষম্য ও অন্যায় সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিরোধী।
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম সিবতু রসূল আছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












