সম্পাদকীয়
‘নগদ সোনা’ খ্যাত চামড়ার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বহুমুখী সংকটে। সমাধানের সক্রিয় উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে
, ০১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৯ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৯ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
(১)
চামড়া শিল্প রপ্তানিতে একটি সম্ভাবনাময় খাত ছিলো এবং এখনোও আছে। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে যে উপায়ে সাভারে চামড়া শিল্পকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং পরে যেভাবে এই শিল্পকে অবহেলা করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতে যে অব্যবস্থাপনা ছিলো সেজন্য চামড়া শিল্প তার কাঙ্খিত পথে আগায়নি, বিগত বছরগুলোতে এই খাতকে নষ্ট করা হয়েছে।
সরকারী ভাষ্য মতে সারাবছর যে পরিমাণ চামড়া আহোরিত হয় তার পুরোটা যদি রপ্তানি খাতে নেওয়া যেত তাহলে বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিতে পরিণত হতো। তবে দৈনিক আল ইহসান এর পর্যবেক্ষনে এর পরিমাণ আরো অনেক বেশী বলে জানা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে কুরবানীর চামড়ার মূল্য পতন দেশের অর্থনীতিতে একটি কালো অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ সালেও যে গরুর চামড়া প্রতিটি ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হতো, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তা নেমে আসে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। অনেক স্থানে দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছেন কিংবা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। সরকারের অবহেলা, ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট এবং বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার প্রবনতাই এই ধসের জন্য দায়ী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
২০১৩ সাল থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে চামড়ার বাজারে দরপতন ঘটায়। এক সময়ের ‘নগদ সোনা’ খ্যাত কুরবানীর চামড়া এখন প্রায় মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে সরকারীভাবে লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নিলেও চামড়ার মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। গত বছর চামড়া বিক্রি করেও লবণ কেনার খরচ ওঠেনি।
(২)
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ষড়যন্ত্র ও অকার্যকর সিদ্ধান্ত’, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ব্যর্থতা’ এবং বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘উদাসীনতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে’ এবারো কোন আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস এবং এ স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। তিনি চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জনসাধারণের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন এবং পর্যায়ক্রমে এ খাতের উন্নতির প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
কিন্তু মন্ত্রীর এ গৎবাধা আশাবাদ এবারের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মাদরাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে কুরবানীর পশুর চামড়া সংগ্রহের যে প্রচলন ছিল, এবার সেই রেওয়াজ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে দেশের মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন ‘মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহায় কুরবানীর পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক মাদরাসাও চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের আগে এই বর্জনের ঘোষণা দেশজুড়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
‘মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা তৃণমূল পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ না করলে সাধারণ মানুষ চামড়া কোথায় রাখবে? চামড়া দ্রুত লবণজাত করতে না পারলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পচে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে ট্যানারিগুলো কাঁচামালের তীব্র সংকটে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমাদের বিলিয়ন ডলারের চামড়া রপ্তানি খাতে।’
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, মাদরাসাগুলো চামড়া সংগ্রহ না করলে কাঁচা চামড়ার দাম জিরোতে নেমে আসবে। এই সুযোগে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে কোটি কোটি টাকার চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
(৩)
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, সরকার যদি অবিলম্বে মাদরাসাগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে এবং কাঁচা চামড়া সংগ্রহের জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিকল্প কোনো ‘ব্যাক-আপ প্ল্যান’ তৈরি না করে, তবে আগামী কুরবানীর ঈদে চামড়া শিল্পে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষার্থে সরকার এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত একটি সমঝোতা ও কার্যকর সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।
এক্ষেত্রে সরকারের জন্য জরুরী ভিত্তিতে উচিৎ- ভর্তুকি বা প্রনোদনা দিয়ে কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ করা। সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছে, কৃষক কার্ড দিয়েছে, হাওড়ে বন্যার্তদের জন্য হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। কুরবানীর চামড়ার ক্ষেত্রেও যদি সরকার হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দেয় তাহলে সরকারের ধারনা অনুযায়ী ১২ মিলিয়ন ডলারের চামড়া বাণিজ্য নয় বরং তার দ্বিগুণ বা বহুগুণ সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। শুধু আশ্বাস নয় কুরবানীর চামড়া আহরণে নগদ ভর্তুকি প্রদান এখন অতীব জরুরী।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাধারণ প্রসব প্রক্রিয়ায় সরকারের শুভবুদ্ধি তখন শুদ্ধ হবে যখন সিজার সিন্ডিকেটকে সরকার শক্ত হাতে নির্মূল করতে পারবে
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৬০ হাজার কোটিতেও ঢুকছে বন্যার পানি বছরে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রফতানির সম্ভাবনার সব বাধা দূর করে সোনালী সমৃদ্ধি এনে সর্বনাশা ঋণের খপ্পর থেকে দেশকে বাচাতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সব সরকারের আমলেই নেয়া পানিবদ্ধতা নিরসনের সব টাকা পানিতেই যায়।
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়ার হালাল পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সাড়া দিতে হবে
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চায়ের কাঙ্খিত উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমতলেও চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












