সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা বিশেষ শান মুবারক “ছায়া ছিলো না” সম্পর্কে বাতিলদের বক্তব্য খন্ড
, ২৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৯ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে বিশ্ববাসী অবগত আছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না। কিন্তু এক মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলো না” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ!
জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিলো না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীল সহকারে জানতে চাই।
জাওয়াব: (১ম অংশ)
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার শ্রেষ্ঠতম রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল খুছূছিয়ত ও ফযীলত মুবারক হাদিয়া করেছেন তন্মধ্যে একখানা বিশেষ খুছূছিয়ত ও ফযীলত মুবারক হচ্ছেন উনার মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম মুবারক অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার ছায়া ছিলো না। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে যারা অস্বীকার করে তারা মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একখানা বেমেছাল খুছূছিয়ত বা শান মুবারক অস্বীকার করলো, যা কাট্টা কুফরী এবং পথভ্রষ্ট ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না। এ মতটিই বিশুদ্ধ। আর যারা বলে, ছায়া ছিলো তাদের তাহক্বীক্বের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাদের বক্তব্য মোটেও শুদ্ধ নয়। মূলত ছায়া ছিলো না সম্পর্কিত যে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে তা যদি মওজু অর্থাৎ অগ্রহণযোগ্য হতো তাহলে বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম হাকিম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হাফিয ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মত বিশ্ব বিখ্যাত সর্বজন মান্য মুহাদ্দিছগণ উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উনাদের স্বলিখিত কিতাবে বর্ণনা করে তার বরাত দিয়ে মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না বলে উল্লেখ করতেন না। তাছাড়া ‘ইকতেবাছ’ কিতাবের লেখক আল্লামা ইমাম ইবনুল হাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন (ছায়ার ন্যায়) এ ধরনের মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে অনুরূপ সনদ বিশিষ্ট পবিত্র হাদীছ শরীফই যথেষ্ট। কেননা ইহা হারাম, হালালের মাসয়ালা নয়।
এছাড়া বিশিষ্ট সূফী, ফক্বীহ, বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিছ ও বুযূর্গ, যিনি প্রতিদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক লাভে ধন্য হতেন, তিনি হচ্ছেন শায়খুল মুহাক্কিক, হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার মাদারিজুন নুবুওওয়াত কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না।
অনুরূপভাবে বিশ্বখ্যাত মুফাসসিরে আ’যম ও মুদাক্কিক্ব, বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ, ফক্বীহ, বুযূর্গ ও সূফী হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তাফসীরে আযীযীতে উল্লেখ করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না।
আরো উল্লেখযোগ্য যে, যিনি আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বইয়ূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে- জামউল জাওয়াম ও জামিউদ্ দুরার কিতাবে। তিনি উনার বিশ্ববিখ্যাত ও সমাদৃত মাকতুবাত শরীফ, যার সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন যে, আমি যখন এই সমস্ত মাকতুব লিপিবদ্ধ করি তখন আমি নিজেই দেখেছি, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম আমার ঘর পাহাড়া দিচ্ছেন, তার কারণ হচ্ছে যাতে আমার মাকতুবে শয়তান কোন প্রকার ওয়াস্ওয়াসা দিতে না পারে। তিনি আরো উল্লেখ করেন- আমার পরবর্তীতে যখন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম যমীনে আগমন করবেন, তখন উনার কাছে আমার এ মাকতুবাত পেশ করা হবে। তিনি মাকতুবাতে লিখিত বিষয়সমূহকে সত্য বলে প্রতিপাদন করবেন। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, এই মাকতুবাত শরীফেই আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বইয়ূমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না।
উল্লেখ্য, এ সকল জবরদস্ত ও অনুসরণীয় বুযূর্গ ব্যক্তিগণ উনাদের দলীলের পর সমঝদার ঈমানদারের জন্য আর কোন দলীলের প্রয়োজন পড়ে না। তা সত্ত্বেও এ বিষয়ে অসংখ্য দলীল থেকে কিছু দলীল ঈমানদারদের ঈমান মজবুতীর জন্য পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ! (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












