সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সম্পর্কে বাতিলদের বক্তব্য খন্ড
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
লা-মাযহাবীরা বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি মাটির তৈরি মানুষ। নাউযুবিল্লাহ! তাদের উক্ত বক্তব্য কতটুকু সঠিক?
জাওয়াব:
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে লা-মাযহাবীদের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া ও দলীলবিহীন এবং তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খিলাফ এবং সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে খিলাফ ও মিথ্যা হওয়ার কারণে কুফরী হয়েছে।
কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নূর মুবারকের সৃষ্টি। মহান আল্লাহ পাক তিনি কুল-মাখলূক্বাত সৃষ্টির পূর্বে সর্বপ্রথম যেই নূর মুবারক সৃষ্টি করেন সেই নূর মুবারকই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র অজূদ পাক। এবং সেই পবিত্র অজূদ পাক হতে কুল-মাখলুক্বাত সৃষ্টি হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
এ বিষয়ে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার একাধিক সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে ৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম সংখ্যা পর্যন্ত লম্বা ফতওয়া প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত ফতওয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে,্ একমাত্র হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটি হতে সৃষ্টি নন। তিনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হোন কিংবা সাধারণ মানুষ হোক। মূলতঃ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মানুষ মাটির তৈরি বলে যত পবিত্র আয়াত শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে তা দ্বারা শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। অন্য কেউ না। যা সমস্ত তাফসীরের কিতাবেই উল্লেখ রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
واذ قال ربك للملئكة انى خالق بشرا من طين
অর্থ: “যখন আপনার পালনকর্তা মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললেন, আমি মানুষ সৃষ্টি করবো মাটি দ্বারা। ” (পবিত্র সূরা ছোয়াদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭১)
এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “তাফসীরে সামারকান্দী”-এর ৩য় খ-, ১৪১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
)انى خالق بشرا من طين) يعنى حضرت ادم عليه السلام.
অর্থ: “(নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করবো বাশার মাটি থেকে) অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে। ”
আরো উল্লেখ্য, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত আর কেউই মাটির দ্বারা সৃষ্টি বা তৈরি নন সেটা স্পষ্টভাবে পবিত্র কুরআন শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وبدا خلق الانسان من طين ثم جعل نسله من سللة من ماء مهين.
অর্থ: এবং তিনি অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেন মাটি থেকে অতঃপর উনার বংশ বিস্তার করে স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা সাজদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭, ৮)
এ আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর উনার যারা আল আওলাদ অর্থাৎ বংশধর উনাদেরকে বিস্তার করা হয়েছে বা হয়ে থাকে স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে অর্থাৎ সেই স্বচ্ছ বা পবিত্র পানির নির্যাস থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক মানুষের দেহ বা আকৃতি কুদরতীভাবে মায়ের রেহেম শরীফে গঠন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
যেমন পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
هو الذى يصوركم فى الارحام كيف يشاء
অর্থ: তিনি মহান আল্লাহ পাক যিনি মায়ের রেহেমসমূহে তোমাদের আকৃতি গঠন করে থাকেন যেরূপ ইচ্ছা করেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
কাজেই, প্রতিভাত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে মাটির সৃষ্টি বলাটাই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী বক্তব্য যা কুফরী। আর যিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিসহ সমস্ত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের, সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত সৃষ্টি-কায়িনাতের নবী ও রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুদরতময় সৃষ্টি উনার রহস্য তো সম্পূর্ণই আলাদা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলাটা কত মারাত্মক কুফরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা দুশমন কেবল তারা ব্যতীত আর কেউই উক্ত কুফরী আক্বীদা পোষণ করতে পারে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৩)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (১)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অন্যদের সাথে তুলনা করা কুফরী -তার দলীলভিত্তিক জবাব
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট জরুরী মাসায়িল
২৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (৭)
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুওয়াল ও তার জাওয়াব (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রসঙ্গ: মশহুর দুইখানা হাদীছ শরীফ নিয়ে আপত্তির খন্ডন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: মশহুর দুইখানা হাদীছ শরীফ নিয়ে আপত্তির খন্ডন
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ইছলাহ অর্জন করতে হলে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ পূর্বশর্ত
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: বাইয়াতের প্রকারভেদ ও বাইয়াত হওয়ার পন্থা-পদ্ধতি
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












