সুওয়াল-জাওয়াব:
প্রসঙ্গ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘পরীক্ষা’ শব্দের প্রয়োগ কতটুকু শরীয়তসম্মত
, ১৯ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল: সকল নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি পরীক্ষা করেছেন তেমনি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি অনেক পরীক্ষা করেছেন।
জাওয়াব: সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করার বিষয়টি যে অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে সে অর্থে ব্যবহৃত হবে না। কেননা হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মনোনীত অর্থাৎ উনাদেরকে নবী ও রসূল হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَللهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষদের মধ্য থেকে রসূল মনোনীত করেছেন। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরও ইরশাদ মুবারক করেন-
اَللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সমধিক জ্ঞাত কাকে রসূল মনোনীত করবেন। (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৪)
পৃথিবীতে প্রথম আগমনকারী নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যমীনে উনার খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করা ও পাঠানোর বিষয়ে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে জানালে, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিকভাবে উনাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মারামারি কাটাকাটি ও রক্ত প্রবাহিত করার বিষয়টি উল্লেখ করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি যা জানি আপনারা তা জানেন না। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী, রসূল ও খলীফা করে সৃষ্টি করেন। অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার নুবুওওয়াত প্রাপ্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُنْت نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ. وَفِى رواية بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ
অর্থ: “আমি ঐ সময়েও নবী হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি যখন মাটি ও পানির মধ্যে ছিলেন। আরেক বর্ণনায় রয়েছে, রূহ ও শরীরের মধ্যে ছিলেন। ” (তুহফাতুল আহওয়াযী, শরহে আবী দাঊদ, ফয়যুল ক্বাদীর, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ইত্যাদি)
]অর্থাৎ হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টির বহু আগে থেকেই তথা সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে প্রতিভাত হলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টির শুরু থেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মনোনীত।
এরপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফ উনার ১০৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
نُوحِي إِلَيْهِمْ
অর্থ: আমি উনাদের (হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম) প্রতি ওহী মুবারক প্রেরণ করি।
আর বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নজম শরীফ উনার ৩-৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى. إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى
অর্থ: তিনি ওহী মুবারক ব্যতীত নিজ থেকে কোন কথা বলেন না।
প্রতিভাত হলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা যেমনিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মনোনীত হয়ে সৃষ্টি হয়েছেন তদ্রুপ উনারা পরিপূর্ণরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ব ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
কাজেই, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা, প্রতিটি বিষয় ওহী মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ উনাদের অসুস্থ হওয়া, কষ্ট-তাকলীফ বরদাশত্ করা, কাফিরদের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করা, জিহাদ করা, শাহাদাত বরণ করা ইত্যাদি সবই উনাদের নুবুওওয়াত ও রিসালাত উনাদের হাক্বীক্বত প্রকাশ যা বান্দা-বান্দী ও উম্মত সকলের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।
মূল কথা হলো, হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ বা ইচ্ছার উপর পরিপূর্ণরূপে নিবেদিত বা ফানা ও বাক্বা ছিলেন। উনাদের নিজস্ব কোন ইখতিয়ার বা ইচ্ছা এবং নিজস্ব কোন মত মুবারক-পথ মুবারক ছিল না।
কাজেই, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পরীক্ষা করা হয়েছে এ কথাটি শুদ্ধ নয়। বরং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ মুবারক পালনে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন সে বিষয়টি উম্মতকে জানানো যাতে উম্মতরাও হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আক্বীদা বিশুদ্ধ রেখে উনাদেরকে অনুসরণ করে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম-আহকাম সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালন করে হাক্বীক্বী রিযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদ-। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِيْنَ اَيْنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَقْتِيْلًا
অর্থ: “লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। ” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (২)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












