প্রসঙ্গ: খাতামুন নাবিয়্যীন শান মুবারক নিয়ে দেওবন্দীদের মনগড়া বক্তব্য ও লেখনীর দলীলভিত্তিক জবাব
, ০৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২২ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কাশিম নানুতুবীর লিখিত ‘তাহযীরুন নাস” কিতাবের ২৫ পৃষ্ঠায় লিখিত আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। উনার পরে যদি এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয় তাতেও উনার খতমে নবুওয়াতের কোনরূপ বেশ-কম হবে না। নাউযুবিল্লাহ!
উক্ত বক্তব্য শরীয়তসম্মত হয়েছে কিনা, দলীলসহ জানতে চাই।
জাওয়াব: (২য় অংশ)
ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ কিতাবদ্বয়ের মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, হযরত জুবাইর ইবনে মুতয়িম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ان لى اسماء انا محمد وانا احمد وانا الماحى الذى يمحو الله بى الكفر وانا الحاشر الذى يحشر الناس على قدمى وانا العاقب والعاقب الذى ليس بعده نبى
অর্থ: নিশ্চয়ই আমার অনেক নাম মুবারক রয়েছে এবং অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, আমার পাঁচখানা (বিশেষ) নাম মুবারক রয়েছে। (১) আমি মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অর্থাৎ পরম প্রশংসিত, (২) আমি আহমদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অর্থাৎ সর্বোত্তম প্রশংসাকারী (৩) আমি ধ্বংসকারী অর্থাৎ আমার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি কুফর, শিরক ধ্বংস করবেন (৪) আমি একত্রিতকারী অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সমস্ত জিন, ইনসান আমার নূরুদ দারাজাত মুবারক অর্থাৎ কদম মুবারকের কাছে একত্রিত হবে। (৫) আমি র্সবশেষ অর্থাৎ আমার পর আর কোন নবী আসবেন না।
অন্য এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
انا خاتم النبيين لا نبى بعدى
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি শেষ নবী। আমার পরে আর কোন নবী নেই।
অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং নবী-রসূল হিসেবেও সর্বপ্রথম সৃষ্টি এ সম্মানিত বিষয়টি উনার বিশেষ ফযীলত ও খুছূছিয়ত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اول ما خلق الله نورى وخلق كل شىء من نورى.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি র্সবপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন এবং উক্ত নূর মুবারক উনার থেকেই সমস্ত কায়িনাত সৃষ্টি করেন।” (নূরে মুহম্মদী, আল ইনসানুল কামিল, হাকীকতে মুহম্মদী)
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كنت اول النبين فى الخلق واخرهم فى البعث.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম নবী হিসেবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি সমস্ত হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে। (কানযুল উম্মাল শরীফ ৩১৯১৬, দাইলামী শরীফ ৪৮৫০, মিরকাত শরীফ ১১/৫৮)
উপরোক্ত পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সুস্পষ্ট বর্ণনার দ্বারা প্রতিভাত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির দিক থেকে সর্বপ্রথম নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর যমীনে আগমনের দিক থেকে সর্বশেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত নবী ও রসূল হিসেবে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হওয়া এবং হযরত নবী ও রসূল হিসেবে যমীনে সর্বশেষে আগমন করা এ বিষয় দু’টি অবশ্যই উনার ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্বের কারণ। এ বিষয় দু’টি বিশ্বাস করা মু’মিন মুসলমান প্রত্যেকের জন্যেই ফরয।
উক্ত ফযীলতসম্পন্ন বিষয় দুটির বিপরীত আকীদা পোষণ করার অর্থ হচ্ছে কাট্টা কুফরী করা, কাফির হওয়া, ঈমান ও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর কোন নবী বা রসূল উনাদের আগমনকে মেনে নেয়ার অর্থ হচ্ছে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকার করা আর খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকার করা কাট্টা কুফরী। আর এ কারণেই কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায়কে কাফির ফতওয়া দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায় খতমে নুবুওওয়াত অর্থাৎ নবী-রসূল উনাদের আগমনের সিলসিলা সমাপ্ত বা শেষ হওয়ার বিষয়টি না মানার কারণে তারা কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী দল হিসেবে গণ্য হয়েছে।
একইভাবে কাশেম নানুতুবীর বক্তব্য “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে এক হাজার নবীরও আগমন মেনে নেয়া হলেও তাতে খতমে নুবুওয়াতের কোনরূপ বেশ-কম হবেনা” এ বক্তব্য কাদিয়ানী ও বাহাই সম্প্রদায়ের আকীদার সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে কাট্টা কুফরী হয়েছে যা চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ!
অতএব, উক্ত কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই ফরযে আইন। (সমাপ্ত)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (৩)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা (২)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কে বিশুদ্ধ আক্বিদা
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রসঙ্গ মূর্তি-ভাস্কর্য দ্বীন ইসলামে নিষিদ্ধ (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৫)
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৩)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: জামায়াতে নামাযের মধ্যে মুক্তাদির জন্য পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠের হুকুম
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (১)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












