পানি পান করার সময় তিন ঢোকে পান করা ও পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক
, ২৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَاللهُ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: “আয় আমার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করে দিবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ৩১)
কাজেই, প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, মাথার তালু থেকে পায়ের তলা এবং হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বাবস্থায়-সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীববুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত-অনুসরণ মুবারক করা।
নূরে মুজাসসাম হাবীববুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত-অনুসরণ মুবারক উনার মাধ্যমইে সর্বপ্রকার কল্যাণ-ভালাই, নিয়ামত, রহমত-বরকত মুবারক লাভ করা সহজ ও সম্ভব।
পানি পান করার সময় ৩ ঢোকে পান করা ও পাত্রে নিঃশ্বাস না ফেলা:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَشْرَبُوا وَاحِدًا كَشُرْبِ الْبَعِيرِ وَلَكِنْ اِشْرَبُوا مَثْنٰى وَثُلَاثَ وَسَـمُّوْا اِذَا اَنْتُمْ شَرِبْتُمْ وَاحْـمَدُوا اِذَا اَنْتُمْ رَفَعْتُمْ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা এক চুমুকে উটের মত পানি পান করো না; বরং দুই-তিনবারে (শ্বাস নিয়ে) পান করো। তোমরা যখন পান করবে তখন মহান আল্লাহ্ পাক উনার নাম মুবারক নিবে (বিসমিল্লাহ বলবে) এবং যখন শেষ করবে তখন মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা মুবারক করবে (আলহামদুলিল্লাহ বলবে)।” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুশ শারাবাহ: বাবু মা-জা-য়া ফিত তানাফুসি ফিল ইনা’: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৮৮৫)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَنَفَّسُ فِي الاِنَاءِ ثَلَاثًا.
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাত্র হতে পানি পানের সময় তিনবার মহাসম্মানিত নিঃশ্বাস মুবারক নিতেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করতেন, এভাবে পান করা অধিক স্বাচ্ছন্দকর ও তৃপ্তিদায়ক।” (তিরমিযী শরীফ: কিতাবুশ শারাবাহ: বাবু মা-জা-য়া ফিত তানাফুসি ফিল ইনা’: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ১৮৮৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ نَـهٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ التَّنَفُّسِ فِي الْاِنَاءِ .
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুশ শারাবাহ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৪২৮)
উল্লেখ্য, আহার শেষ করেই পানি পান করা বা শুয়ে পড়া উচিত নয়: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাদ্য গ্রহণের সাথে সাথে পানি পান করতেন না। বরং কিছুক্ষণ পরে পান করতেন। (মাদারেজুন নুবুওওয়াহ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নত মুতাবিক জীবন-যাপন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পানির মশক ব্যবহার করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আয়না ব্যবহার করা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (২)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার “মাছ” (১)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জবাব দেয়ার হুকুম-আহকাম ও পবিত্র সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












