ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭)
, ২১ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছানী, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রি:, ০২ শ্রাবণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَن يُطِعِ اللهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَٰئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَٰئِكَ رَفِيقًا.
অর্থ: যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করবে তারা উনাদের সঙ্গী হবেন যাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত মুবারক দান করেছেন। উনারা হচ্ছেন- নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও ছলেহ। উনারাই হচ্ছেন উত্তম বন্ধু বা সঙ্গী। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯)
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যের কথা বলা হয়েছে। আসলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য মুবারকের মধ্যেই মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য মুবারক নিহিত। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ
অর্থ: যে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য মুবারক করলো সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্য মুবারক করলো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০)
(৩৭)
الصراط: الطريق الـمستقيم قاله الراغب وايضا يطلق على جسر جهنم هو على متن جهنم ادق من الشعر واحد من السيف.
অর্থ: সরল-সঠিক পথ বা নিয়ম-কানুনকে ছিরাত বলা হয়। যা আল্লামা রাগিব ইস্পাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্তি।
এছাড়াও জাহান্নামের পৃষ্ঠে অবস্থিত চুলের চেয়ে চিকন এবং তরবারীর চেয়ে ধারালো পুলকে ব্যাপকভাবে ছিরাত বলা হয়। (আত তা’রীফাতুল ফিক্বহিয়্যাহ ৩৪৮ পৃষ্ঠা)
১১. الـحزب (আল হিযব): শব্দটি একবচন। এর বহুবচন احزاب ‘আহযাব’। এর শাব্দিক অর্থ হলো: দল, মত, পথ, পন্থা, পক্ষ, জনসমষ্টি, জনসমাগম, অস্ত্র, অংশ ইত্যাদি।
শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘হিযব’-উনার সংজ্ঞা:
(৩৮)
الـحزب كل طائفة جمعها الاتجاه الى غرض واحد. وفى القران الكريم: "كل حزب بما لديهم فرحون"
অর্থ: প্রত্যেক দল ১টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একই মনোভাবে একত্রিত হওয়াকে ‘হিযব’ বলে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, প্রত্যেক দল নিজেদের নিয়ে খুশি। (আল মু’জামুল ওয়াজীয ১৪৭ পৃষ্ঠা)
(৩৯-৪০)
كل قوم تشاكلت قلوبـهم واعمالـهم فهم احزاب.
অর্থ: প্রত্যেক দল পবিত্র ঈমান, আমল ও পবিত্র আক্বীদায় সাদৃশ্যপূর্ণ বা মিলযুক্ত হওয়াকে ‘আহযাব’ (একবচন: হিযব) বলে। (লিসানুল আরব ২য় খ- ৮৫৩ পৃষ্ঠা, আফরাতুল মাওয়ারিদ ফী ফুছাহিল আরাবিয়াহ ওয়াশ শাওয়ারিদ ১ম খ- ১৮৬ পৃষ্ঠা)
১২. حزب الله (হিযবুল্লাহ): অর্থ, মহান আল্লাহ পাক উনার দল (পথ, শরীয়ত, পন্থা, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি)।
শরীয়ত উনার পরিভাষায় ‘হিযবুল্লাহ’-উনার সংজ্ঞা:
(৪১)
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
انما وليكم الله ورسوله والذين امنوا الذين يقيمون الصلوة ويؤتون الزكوة وهم راكعون. ومن يتول الله ورسوله والذين امنوا فان حزب الله هم الغلبون.
অর্থ: তোমাদের বন্ধুতো মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা। আর যারা মু’মিন উনারা ছলাত ক্বায়িম করেন, যাকাত দেন এবং বিনয়-নম্রতা সম্পন্ন। আর যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মু’মিনগণ উনাদেরকে বন্ধুরূপে (বা অভিভাবক হিসেবে) গ্রহণ করে, উনারাই হিযবুল্লাহ (বা মহান আল্লাহ পাক উনার দল) এবং উনারাই চির বিজয়ী। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৫-৫৬)
অত্র আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে হিযবুল্লাহ উনার সংজ্ঞা নিম্নরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়।
“মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ অনুসরণ এবং হক্কানী মু’মিন তথা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও ইমাম-মুজতাহিদ আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনুসারীগণকেই ‘হিযবুল্লাহ’ বলা হয়। ” এটাই আয়াত শরীফ উনার ভিত্তিতে সঠিক সংজ্ঞা।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত। ) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৩)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭২)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












